০৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খামেনেই হত্যাকাণ্ডে কেন নীরব প্রধানমন্ত্রী? প্রশ্ন তুললেন সনিয়া গান্ধী

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে সরব হলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই ঘটনার পরও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাঁর বক্তব্য, এই নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়; বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের নিজস্ব অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সনিয়া গান্ধী স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৪ সালে ইসলামি দেশগুলির সংগঠন ওআইসি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-বিরোধী প্রস্তাব তোলে। সে সময় ইরান ভারতের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, তেহরান নয়াদিল্লির পাশে না দাঁড়ালে কাশ্মীর প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জটিল আকার নিতে পারত এবং ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ত।

সনিয়ার অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের কঠিন সময়ে নয়াদিল্লির নীরবতা উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, “চুক্তি নিয়ে আলোচনার মাঝখানে একজন ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুতর দৃষ্টান্ত। অতীতে ভারতের স্বার্থরক্ষায় ইরান এগিয়ে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের নীরবতা আমাদের বিদেশ নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।” তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী-র তেহরান সফরের কথাও উল্লেখ করেন, যখন দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতিমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ জায়েদ আল নাহায়েন-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তবে খামেনেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরাসরি কোনো বিবৃতি না দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসে ধাক্কা ভ্যানের, মৃত ৬, আশঙ্কাজনক ৩

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

খামেনেই হত্যাকাণ্ডে কেন নীরব প্রধানমন্ত্রী? প্রশ্ন তুললেন সনিয়া গান্ধী

আপডেট : ৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে সরব হলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই ঘটনার পরও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাঁর বক্তব্য, এই নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়; বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের নিজস্ব অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সনিয়া গান্ধী স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৪ সালে ইসলামি দেশগুলির সংগঠন ওআইসি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-বিরোধী প্রস্তাব তোলে। সে সময় ইরান ভারতের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, তেহরান নয়াদিল্লির পাশে না দাঁড়ালে কাশ্মীর প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জটিল আকার নিতে পারত এবং ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ত।

সনিয়ার অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের কঠিন সময়ে নয়াদিল্লির নীরবতা উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, “চুক্তি নিয়ে আলোচনার মাঝখানে একজন ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুতর দৃষ্টান্ত। অতীতে ভারতের স্বার্থরক্ষায় ইরান এগিয়ে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের নীরবতা আমাদের বিদেশ নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।” তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী-র তেহরান সফরের কথাও উল্লেখ করেন, যখন দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতিমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ জায়েদ আল নাহায়েন-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তবে খামেনেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরাসরি কোনো বিবৃতি না দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।