বুধবার, ২২ মে, ২০১৯

দারিদ্র্য দূরীকরণে গবেষণা করতে চায় ইমাম কন্যা রিফা সানিয়া

শুভায়ুর রহমান, তেহট্টঃ হামেশাই পরীক্ষার রেজাল্টের পর কৃতীদের মুখে শোনা যায় চিকিৎসক কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কথা। কিন্তু সেই গতানুগতিক ভাবনা থেকে বের হয়ে অন্য পথে হাঁটতে চান নদিয়ার তেহট্টের বালিউড়া গ্রামের বাসিন্দা তথা ঐ গ্রামের এক মসজিদের ইমাম কন্যা রিফা সানিয়া মণ্ডল। রিফা সানিয়া এ বছর তরণীপুর হাইস্কুল থেকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬২২। বিষয়ভিত্তিক নম্বর বাংলায় ৮৬, ইংরেজিতে ৯০, অঙ্কে ৯৩, ভৌত বিজ্ঞানে ৮১, জীবন বিজ্ঞানে ৯৭, ইতিহাসে ৮২, ভূগোলে ৯৪। বাবা আব্দুল রশিদ মণ্ডল ও মা মহিরম মণ্ডলের সংসার খুব স্বচ্ছল নয়। তিন মেয়েকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন।  আব্দুল রশিদ মণ্ডল একটি মসজিদের ইমাম। ফলত নূন্যতম আয়ে তিন মেয়ের পড়াশুনা চলে। রিফার দিদি বেতাই কলেজের এডুকেশনে অনার্স নিয়ে পড়ছেন। আর ছোট বোন প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
জানা গেছে, স্কুলে রিফা বরাবরই প্রথম হত। অত্যন্ত মনোযোগী রিফা এখন থেকে সমাজ নিয়ে ভাবেন। বড় হয়ে সমাজের দুর্দশার কারণ অনুসন্ধান ও দারিদ্র্য দূরীকরণে মন দিতে চান বলে জানায়, তার কথায় এই ফলে আমি খুশি। তিন বোনকে পড়াচ্ছেন আব্বু। আব্বু গ্রামের মসজিদের ইমাম। সমাজের উন্নতিতে অনেক কিছু করার আছে বলে তার আশা। তাই তিনি গবেষণা করতে চান। ইমাম আব্দুল রশিদ মণ্ডল জানান, মেয়ের আরও ভাল রেজাল্ট হওয়ার দরকার ছিল। টেস্টে ৬৩৭ নম্বর পেয়েছিল। মেয়ে ভেবেছিল সাড়ে ছ'শো পাবে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, মেয়ে সায়েন্স নিয়ে পড়বে কোনও স্কুলে। অর্থের অভাবে মিশনে দিতে পারিনি। সুযোগ থাকলে দেওয়া যেত। আর ও যে দারিদ্র্য দূরীকরণের কথা বলছে তা খুবই ভাল দিক।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only