শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯

ভোটের পরে উত্তপ্ত বীরভূম

দেবশ্রী মজুমদার, বীরভুম, ২৫মেঃ  জয়শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বীরভূমের বিভিন্ন জায়গা। প্রথমটি তারাপীঠ থানার রামপুরহাট দুই ব্লকের অন্তর্গত সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাইকপাড়া গ্রামে। জানা গেছে, গ্রামের দুর্গা মন্দিরের দু'দিকে বসে আড্ডা দিচ্ছিল গ্রামের দু'দল ছেলে। যাদের একদল তৃণমূল। অন্যদল বিজেপি। বীরভূম কেন্দ্রে শতাব্দী রায় জয়ী হওয়ায় তৃণমূলের সমর্থকেরা শতাব্দীর জয়ধ্বনী দেয়। পালটা হিসাবে বিজেপির যুবকেরা জয় শ্রী রাম বলে ধ্বনি দিতে থাকে। দু পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে যায়। বিজেপির অর্পন মাল বলে এক যুবক জখম হয়। গ্রামে তারাপীঠ থানার পুলিশ গিয়ে বচসা মিটিয়ে দিয়ে আসে। রাত্রি ন’টা নাগাদ গ্রামে ফের সমবেত হয় বিজেপি কর্মীরা। কেন তাদের কর্মীদের মারা হল প্রতিবাদে তারা তৃণমুলের কর্মী নেতাদের বাড়িতে চড়াও হয়। এই ঘটনার জেরে দু'পক্ষের দশ জন জখম হয়। তাদের মধ্যে একজনকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে ভর্ত্তি করা হয়েছে। রাতে ঘটনাস্থলে রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে রামপুরহাট ও তারাপীঠ থানার পুলিশ গ্রামে যায়। ঘটনাস্থল থেকে তিন বিজেপি সমর্থককে আটক করে। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক আশীষ ঘোষ বলেন, দু’পক্ষের মারামারি। আমরা চেয়েছিলাম উভয় পক্ষের লোকেদের ধরা হোক। কিন্তু পুলিশ শুধুমাত্র আমাদের লোকেদের ধরেছে। এব্যাপারে শনিবার আমরা রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যায় চারজনের বিরুদ্ধে। আমাদের দাবি, ওই চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করুক। অন্য দিকে, মল্লারপুর এক ব্লকের পাকুড়িয়া গ্রামে বিজয় মিছিল করছিল বিজেপি। মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিজেপির কর্মী করুনাময় দে'র ওপর আক্রমন করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য, জয়ন্ত সহ চার তৃণমূল কর্মী তার ওপর চড়াও হয়। যদিও বানীপ্রসাদবাবুর দাবি, গরমের দিন বাড়ির বাইরে রাস্তার ওপর প্রতিদিনের মত বাড়ির ছেলেরা-মেয়েরা বসেছিল। তাদের লক্ষ্য করে কটাক্ষ করছিল বিজেপির সমর্থকেরা। তারই জেরে এই কান্ড। যদিও বিজেপির মণ্ডল সম্পাদক সুশান্ত দে বলেন, আমরা কোথাও অশান্তি করিনি। রাজ্যে ও দেশে বিজেপি ভাল ফল করায় এখন হিংসায় ফুঁসছে তৃণমূল। পাশাপাশি, মাড়গ্রাম থানার কনক পুরের ২৭২ নং বুথে ২৪৪ ভোটে বিজেপি জেতায় প্রায় ১২টি কল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাসকদলের বিরুদ্ধে। ফলে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পঞ্চায়েত সদস্য পঞ্চানন মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে এলাকাবাসীরা ঘেরাও করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাজির হয় পুলিশ। পঞ্চায়েত সদস্যা পূর্ণিমা মণ্ডলের ভাসুর পঞ্চানন মণ্ডল জানান, মাড়গ্রামের গোটা এলাকায় তৃণমূল জিতেছে। আমরা এসব কেন করতে যাব? অন্যদিকে বিজেপি কর্মীকে মারধোরের অভিযোগ ওঠে বীরভূমের নানুরে। ঘটনাটি ঘটে নানুরের চারকোল গ্রামে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কেন্দ্রীয় বাহিনী। গত রাত্রে এক বিজেপিকে কর্মীকে মারধোর করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে গ্রামবাসীরা তৃণমূল কর্মীর বাইক ভাঙচর করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only