রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯

গান্ধির খুনি গডসে একজন ‘দেশপ্রেমিক’: জাতির বিবেককে আহত করেছে প্রজ্ঞার বক্তব্য/২


আহমদ হাসান ইমরান

এর মধ্যে ঘোর বিপদের মধ্যে পড়েছেন অভিনেতা ও বর্তমানে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলের প্রধান কমল  হাসান। আগেই বলেছি– দোষের মধ্যে তিনি বলে ফেলেছিলেন– বাপুজির হত্যাকারী নাথুরাম গডসে স্বাধীন ভারতের প্রথম হিন্দু উগ্রপন্থী। আর যে-কোনও ধর্মের মানুষই সন্ত্রাসবাদী হতে পারে। একথা বলার জন্য তাঁকে খুন করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ভারতের যে নাথুরাম গডসের গেরুয়াপন্থী অনুসারীরা রয়েছেন তারা গান্ধিজির হত্যাকারী নাথুরাম গডসের বিরুদ্ধে কোনও কথা শুনতে রাজি নয়। গান্ধিকে খুন করায় অসংখ্য গেরুয়াপন্থীর কাছে গডসে একজন ‘হিরো’।  নাথুরাম গডসের বিরুদ্ধে কোনও কথা বরদাশত করতে রাজি নন তারা। এ জন্য কমল হাসানের বিরুদ্ধে  মামলাও করা হয়েছে। কমল হাসান এখন আগাম জামিনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অর্থাৎ বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্টেÉ জাতির-জনকের হত্যাকারীকেও ‘হত্যাকারী’ বলা  যাবে না– বলা যাবে না উগ্রপন্থীও। কারণ– স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি নিজে অন্তত দু-তিনবার বিভিন্ন সময়ে উচ্চারণ করেছেন যে– ‘একজন হিন্দু কখনোই সন্ত্রাসবাদী হতে পারে না।’ অর্থাৎ– দুনিয়ার তাবত ধর্মের লোক সন্ত্রাসবাদী হতে পারে– কিন্তু হিন্দুরা কখনোই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না। ফলে যারা এর উলটো কথা বলবে– মোদিল্যান্ডে তাদের দুর্গতি থেকে হত্যা--- যে কোনও ধরনের সমস্যার সামনে পরতে হতে পারে।
তবে সাধ্বী প্রজ্ঞা নাথুরাম গডসে-কে ‘দেশপ্রেমিক’ আখ্যায়িত করায় সারা ভারতে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কিন্তু এই গেরুয়াপন্থীদের বিরুদ্ধে কেউ খুব বেশি  মুখ খুলবে তার সুযোগ নেই। উপরন্তু উদার– বিবেকবান ও সুবিচারপন্থীদের কিছু লিখলে বা মুখ খুললেই আক্রান্ত হতে হচ্ছে। এই হিন্দু সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণে বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী নিহতও হয়েছেন। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে– এদের হাতে পড়ে এই ভারত আর ‘গান্ধির ভারত’ নেই। এখানে এখন রাজ চলছে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার।
গান্ধির হত্যাকারীকে ‘দেশপ্রেমিক’ বলে যে আখ্যা সাধ্বী প্রজ্ঞা দিয়েছেন– বিজেপির অধিকাংশই নেতানেত্রী তাঁর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের দু’জন মন্ত্রীও। তবুও এ নিয়ে দেশের বিবেকবান বেশকিছু মানুষ সোচ্চার হন। নিন্দা আসে বিরোধি রাজনৈতিক দলগুলি থেকেও। শেষ পর্যন্ত মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র ভাই দামোদর মোদি। তিনি বলেন– প্রজ্ঞা যে ধরনের উক্তি করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য। অমিত শাহ-ও প্রায় একই ধরনের বক্তব্য টুইট করেন।
বোঝা যাচ্ছে– গেরুয়াপন্থীদের মধ্যে নাথুরাম গডসের উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। তার ভক্তরা গডসের জন্মদিন ও ফাঁসির দিনে তার ছবিতে ফুলমালা দিয়ে জাঁকজমকের সঙ্গে তাকে স্মরণ করেন। বহু স্থানে তারা নাথুরাম গডসের নামে মন্দিরও বানিয়েছেন কিংবা মন্দির বানানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্প্রতি আলিগড়ে অন্য একজন সাধ্বী পূজা শাকুন পান্ডে জীবন্ত গান্ধিজীকে কাছে না পেয়ে মিডিয়াকে ডেকে পাঠান। তিনি সবার সামনে গান্ধির ছবিতে রিভলভার দিয়ে তিন-চারটি গুলি করেন। সাধ্বী পূজা বলেন– গান্ধির এটাই প্রাপ্য। সাধ্বী পূজা নাথুরাম গডসে ও তার মিত্রদেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। জাতির জনককে এভাবে সহিংসতার দ্বারা অবমাননা করা সত্ত্বেও পুলিশ চার-পাঁচদিন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। পরে মিডিয়া ও বিরোধি দলগুলির চাপে পুলিশ ওই সাধ্বীকে গ্রেফতার করে। তিনি এখন জামিনে মুক্ত। এসব কথা এ জন্যই বলা হল– চরমপন্থী কিছু সংগঠনের কর্মীরা গান্ধির থেকেও শতগুণ বেশি শ্রদ্ধা-ভক্তি করেন নাথুরাম গডসেকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only