শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯

সারা দেশে জয়ী ২৭ মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জিতলেন নুসরাত জাহান


তাঁর নাম যখন প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখন নানা মহল থেকে উঠেছিল আপত্তি। এ কি করলেন মমতা! মুসলিম অধ্যুষিত একটি লোকসভা আসনে নুসরাত জাহানের মতো একজন টলিউড অভিনেত্রীকে ভোটে প্রার্থী করছেন? মুসলিমরা তো মেনে নেবে না। কিন্তু ভোট শেষে ফল বেরনোর পর দেখা গেল নুসরাত এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। ৩,৫০,৩৬৯ মার্জিনের বিপুল ভোটে জিতলেন বসিরহাট থেকে। এই মার্জিন অবাক করার মতো। কারণ, তূণমূল কংগ্রেসের এবারের ২২ জন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে তিনিই ভোটের ব্যবধানে দিক থেকে প্রথমে। শুধু তাই নয়, সারা দেশজুড়ে এবার ২৭ জন মুসলিম প্রার্থী ভোটে জিতে সংসদে যাচ্ছেন বিভিন্ন দল থেকে। সেই ২৭ জনের মধ্যেও মার্জিনে পয়লা নম্বর স্থানটি দখল করেছেন নুসরাত জাহান রুহি। ধুবড়ির বদরুদ্দিন আজমল (২,২৬,৪৯০), হাযদরাবাদের আসাদউদ্দিন ওয়াইসি (২,৮২,১৮৬), জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান (২,৪৫,৭৮২), মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান (২,২৬,৪১৭) মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু এদের সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন রাজনীতিতে নবাগতা নুসরাত জাহান।
তিনি মোট ৭৮২০৭৮ ভোট পেয়েছেন যা মোট ভোটের ৫৪.৫৬ শতাংশ।
কী করে সম্ভব হল এমন মেরুকরণ ক্যারিশমা? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় মেরুকরণ এর অন্যতম প্রধান কারণ। বিজেপি যেভাবে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়েছে তাতে সংখ্যালঘু মুসলিমরা আরও বেশি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই  আস্থা রেখেছেন। ফলে বামেদের মুসলিম ভোটগুলিও গিয়েছে নুসরাতের ঝুলিতে।
 উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কথায়, ‘মানুষ ভোট দিয়েছেন। অন্য জায়গার মতো বাম ভোট বিজেপিতে যায়নি।’ আর বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন বসুর মতে, ‘আমরা ভেবেছিলাম, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসাবে সিপিআই এবং কংগ্রেস। বাস্তবে তা হয়নি। সেই জন্যই ওখানে ব্যবধান এত বড় হয়েছে।’ পরাজিত সায়ন্তন বসু প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট কবজা করেছেন এই কেন্দ্র থেকে।

২০১৪ সালে বসিরহাটের তৃণমূল প্রার্থী ইদ্রিশ আলির ঝুলিতে গিয়েছিল ৩৮.৬৫ শতাংশ ভোট। তা ধরে রেখে এ বার তৃণমূলের ভোট বেড়েছে আরও ১৫.৯১ শতাংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, বসিরহাটে বামেদের ভোট বিভাজিত হয়েছে। তাতে সুবিধা পেয়েছে তৃণমূল। তাঁদের মতে, ওখানে হিন্দুত্বকে ঠেকাতে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছিলেন বসিরহাটের ভোটারেরা। সেই জন্যই বঙ্গেও যখন নরেন্দ্র মোদির পক্ষে ভোটবাক্স ভরিয়েছেন ভোটদাতারা, সেই সময়ে সব হিসেব পিছনে ফেলে সেখান থেকে ৩,৫০,৩৬৯ ব্যবধানে জিতেছেন নুসরত। যিনি নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া তথ্য অনুযায়ী সম্ভবত রাজ্যের কনিষ্ঠতম সাংসদ।তবে তিনি যে শুধু রাজনীতির অঙ্কে জিতেছেন তা নয়। নুসরাত বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা। তাঁর জনপ্রিয়তা ভোট বাক্সে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only