বুধবার, ২৯ মে, ২০১৯

কাল বিলেতে শুরু ক্রিকেটের বিশ্বযুদ্ধ, লড়াইয়ে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা

 দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বযুদ্ধের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে আয়োজক ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপের আঙিনায় সেমিফাইনালের বেশি আর এগোতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। অথচ প্রতিবারই প্রোটিয়ারা শুরু করেন দারুণভাবে। এগিয়েও যেতে থাকেন। কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে তাঁদের ফিরে যেতে হয়। সাড়া জাগিয়েও ‘চোকার্স’ তকমা মুছতে এখনও ব্যর্থ দক্ষিণ আফ্রিকা। আর অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ফাইনাল ভাগ্যটা চিরকালই বেশ খারাপ।  ১৯৭৯– ১৯৮৭– ১৯৯২। তিন তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে। কিন্তু ওখানেই ট্রফি রেখে আসতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে।
তবে এবারের ইংল্যান্ড একেবারে অন্যরকম। শক্তিতে এবারের ইংল্যান্ড নবীন প্রবীনের একটা অনবদ্য মেলবন্ধন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কিংবদন্তী ক্রিকেটাররা এবারের ইংল্যান্ডকে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। ইয়ান মর্গানের টিম এবার কোচ ট্রেভর বেলিসের কোচিংয়ে ইতিমধ্যেই কিছুটা বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে ক্রিকেটের আঙিনায়। ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিং তিনটে বিভাগেই ইংল্যান্ড যেন পুরনো দক্ষিণ আফ্রিকা। আর যে দক্ষিণ আফ্রিকা নামতে চলেছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে এবারের বিশ্বকাপে তেমন নাম্বার কেউ না দিলেও সেমিফাইনালের আগে কেউ তাঁদের থামাতে চাইছেন না। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারেন রাবাদা ও ইমরান তাহির। তবুও বোলিং সাইডে দক্ষিণ আফ্রিকার কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। কারণ এনগিডি কিংবা ফেলুকওয়া খুব একটা ফর্মে নেই। স্টেইনের না থাকাটা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম ম্যাচে অশনি সংকেত হতে পারে। কারণ প্রতিপক্ষ দলটা যেখানে ইংল্যান্ড। সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপকে আটকাতে বাড়তি দায়িত্ব পড়তে পারে ক্রিশ মরিসের ওপর। স্পিনে ইমরান তাহির তো আছেনই।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে যেমন বাজিমাত করার লক্ষ্যে রয়েছেন আদিল রশিদ– জোফ্রে আর্চার– তেমনই দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ব্যাটিংয়ে বড় স্তম্ভ অধিনায়ক ফা ডুপ্লেসিস ও উইকেট কিপার কুইন্টন ডি’কক। ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে মিডল অর্ডার যেকোনও টিমকে চমকে দেওয়ার মতো। জনি বেয়ারস্টো– বেন স্টোকস প্রত্যেকেই রানের মধ্যে রয়েছেন।
প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা বা ইংল্যান্ড কারওরই পারফরমেন্স তেমন ছিল না। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ আর মূল ম্যাচ তো আর এক নয়। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকান ক্যাপ্টেন ডুপ্লেসিস নিজেই বলেছেন– ‘প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা নিজেদের সবটা দিইনি।’ ইংল্যান্ড অধিনায়ক মর্গ্যানেরও একই মত। 
ওভালের পিচ চিরকালই বেশ বর্ণময়। এই পিচে সবকিছুই করা সম্ভব। পিচ গতিময় হওয়ার কারণে পেস যেমন ধরবে – স্পিনও ধরে দারুণ। এই পিচেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছিলেন পাকিস্তানের শাকলাইন মুস্তাক। এবারে সেই জায়গায় অনেকেই আদিল রশিদের নাম মুখে আনছেন। ইমরান তাহিরও এই পিচে বল হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের আবহাওয়ার তারতম্য রয়েছে। কোথাও একটু ঠাণ্ডা। আবার ওভালে কিছুটা গরম। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি চলাকালীন আকাশ মেঘলা থাকতে পারে বলে আবহাওয়া সূত্রে জানা গিয়েছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only