বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০১৯

ফালুদা, হালিম, ফিরনি আর রকমারি খাবারের টানে সেহরিতেও পছন্দের গন্তব্য জাকারিয়া স্ট্রিট


গোলাম রাশিদ

রমযানের মধ্যে যেমন রয়েছে আধ্যাত্মিকতার অপার শান্তি, তেমনই রয়েছে নির্মল আনন্দ। বিশেষ করে সেহরি ও ইফতারে এই আনন্দ যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ বিশেষ খাবারের সমারোহ যেমন রসনা তৃপ্ত করে, তেমনি আয় বাড়ে দোকানিদেরও। আর রমযানের খাবারের কথা বললেই প্রথমেই উঠে আসে নাখোদা মসজিদের চারপাশে গড়ে ওঠা হরেক কিসিমের দোকানের কথা। এই মরশুমে ফুটপাত হয়ে ওঠে ‘ফুডপাত’। কুলফি ফালুদা– হালিম– সুজি হালুয়া– ফিরনিতে মেতে ওঠে আপামর সবাই। আর এখানে হিন্দু-মুসলিমের ভেদাভেদ থাকে না। সুস্বাদু খাবারের ভক্ত হয়ে ওঠে সবাই। তাই বেলঘরিয়া বা বজবজ থেকে যেমন অনেকে ছুটে আসে– তেমনি ছুটে আসে মধ্য কলকাতা– উত্তর কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে। কেউ চায় হালিম– কেউ খায় ফালুদা। আবার কেউ বা রমযানের স্পেশাল লস্যিতে চুমুক দেয়। বড়বাজারের জাকারিয়া স্ট্রিটের লস্যি– ফালুদার নাম ছড়িয়েছে বহু আগেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়ছে বই কমছে না। পরিবার– বন্ধুবান্ধব নিয়ে হাজির হচ্ছে সবাই জাকারিয়া স্ট্রিটের গলিতে। মধ্য কলকাতার বাসিন্দা আজম হোসেন– মিযানুররা তাই সেহরির সময় হলেই ফালুদার টানে ছুটে যাচ্ছেন বড় মসজিদ এলাকায়। ইফতারের সময় ভালো বিকোয় মরশুমি ফলের জুস। সে কথাও মাথায় রাখছেন কলুটোলা– জাকারিয়া স্ট্রিটের দোকানদাররা। এছাড়াও মেলে মুরগি ও খাসির হরেক রকম খাবার। চিকেন ফ্রাই থেকে মাটন কষা। আর পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার– যেমন জিলিপি– মিষ্টি শিঙাড়া এবং ছানা মাখার মতো জিভে পানি আসা ইফতারের আইটেম। বড়বাজার নাখোদা মসজিদের রমযান বাজার থেকে ইফতার-সেহরির খাবার নিতে আসেন হাজার রোযাদার মানুষ।

শুধু জাকারিয়া স্ট্রিট নয়– ভিড় জমছে মধ্য কলকাতার আরেক মুসলিম এলাকা (সিপিএমের সদর দফতর যেখানে) আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেও। স্থানীয় মানুষের কথা থেকে জানা গেল– সেহরির আগে ঘুমোয় না কেউই–সারা রাত জেগে থাকে। দোকানপাটও বন্ধ হয় না। মূলত সন্ধের পরই শুরু হয় বিভিন্ন স্পেশাল আইটেম বানানোর প্রক্রিয়া। পায়েস– রুটি– লাচ্চা– সুজির পরোটা রমরমিয়ে চলে সেহরিতে। বাঙালি খ্যাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে বেশ অমিল ধরা পড়ে এখানে। জেলার মুসলিমরা যেখানে সেহরিতে ভাত খেয়ে রোযা রাখে– সেখানে কলকাতার এইসব মুসলিম এলাকাগুলি এই ধরণের খাবারেই অভ্যস্ত। খাবারের ভিন্ন ভিন্ন পদ অবশ্য আকৃষ্ট করছে বাঙালি-অবাঙালি সবাইকে। 

অন্যদিকে– শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ নৈঋত আকাশে দেখা যাক বা না যাক– সাত থেকে সত্তর মেতে উঠেছে আসন্ন ঈদ উৎসবের আনন্দে। ঈদের আগে পুরো রমযান মাস জুড়েই চলছে ঈদের আনন্দ। সেই আনন্দলোকে শামিল কোচবিহার থেকে ক্যানিং। রমযান শুরু হলে বেড়ে যায় ভিড়। তাই রমযানের শুরুতেই বাজার করে রেখে দিচ্ছেন সচেতন গৃহস্থরা। খেজুর বা খাবার নয় শুধু– জামাকাপড়ের দোকানেও ভিড় চোখে পড়ার মতো। কয়েকদিন পরেই বড় উৎসব ঈদ। তাদের মতে– যত ঈদের দিন এগিয়ে আসবে জামাকাপড়ের দাম বেড়ে যাবে। সেই সুবাদেই গমগম করছে বড়বাজার। পাঞ্জাবি– শেরোয়ানি– হিজাব– শাড়ি– চুড়িদার এখন শুধু বড়বাজারেই নয়– নিউমার্কেট– গড়িয়াহাট– ধর্মতলা– শিয়ালদহ– পার্ক সার্কাসসহ বিভিন্ন স্থানের দোকানবাজারেও শোভা পাচ্ছে রমযান ও ঈদকে উপলক্ষ করে। পিছিয়ে নেই রাজাবাজার– মল্লিকবাজার এলাকাও। সিমাই– লাচ্চার বৃহৎ স্ত(প সাজিয়ে বসে রয়েছেন দোকানদাররা। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only