মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯

পঞ্চম দফায় উত্তপ্ত বনগাঁ লোকসভার অধীন নদিয়ার হরিণঘাটা ও কল্যাণী, ভোটারদের প্রভাবিত করে কাঠগড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী


শফিকুল ইসলাম,নদিয়া
প্রথম চার দফা বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যে দিয়ে শেষ হলেও, ৫ম দফার ভোটে উত্তপ্ত বনগাঁ লোকসভার অধীন নদিয়ার হরিণঘাটা ও কল্যাণী বিধানসভার এলাকা । ইতিমধ্যেই একাধিক বুথ থেকে খবর প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছাড়াও এবার অশান্তিতে নাম জড়াল খোদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর, যাদের হাতে বুথের শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব৷ পঞ্চম দফার ভোটে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।নদিয়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ চঞ্চল দেবনাথের অভিযোগ,হরিণঘাটার ২১৫ নং বুথে বিএসএফ জওয়ান এ শর্মা ‘ভাজপা-কো( বিজেপি) ভোট দিজিয়ে’ বলেছেন ভোটারদের এবং এলাকায় ১০০শতাংশ হিন্দু ভোটার আছে কিনা এবং জল খাওয়া যাবে কিনা ইত্যাদি প্রশ্ন করেছেন । হরিণঘাটার ১৯৫ নং  ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় বুথে কেন্দ্রীয়  বাহিনীকে প্রভাবিত করে বিজেপি নেতা -কর্মীরা লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের বিজেপিকে ভোট দিন’ এ কথা বলার অভিযোগ উঠল ।প্রতিবাদ করলে তৃণমূল কর্মী সাদ্দাম মণ্ডল,পার্থ পাল  ও সুপ্রিয় দে’র উপর লাঠিচার্জ করে বাহিনী ।তাদের কল্যাণী জহরলাল নেহরু হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় ।

বনগাঁ লোকসভার অধীন নদিয়ার হরিণঘাটা ও কল্যাণী বিধানসভার এলাকা কোথাও ইভিএম খারাপ,  ইভিএম, ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ  পাওয়া গেছে।। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ রাখা হয় ভোটগ্রহণ। 

সকাল সকাল ভোট দেবেন বলে ভোর থাকতে অনেকেই বিছান ছেড়েছিলেন অনেকেই। তারা লাইনে গিয়েও দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু, সাতটা বাজলে তারা জানতে পারেন মেশিন খারাপ। এখন ভোট দেওয়া যাবে না। ক্ষন পরিস্থিতি স্বভাবিক হবে তা বলা যাবে না। একথা শুনে তাদের মাথায় আকশ ভেঙ্গে পড়ে। তাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে বুথ ছেড়ে চলে আসেন। কয়েকজন বুথেই দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা গল্প করে সময় কাটিয়েছেন।
 শিপ্রা নন্দী, কার্তিক মণ্ডল বলেন, একটু বেলা হলেই গরম সহ্য আর হল না। ভোট দিতে প্রায় দশটা বেজে গিয়েছে।”

    সোমবার সকাল থেকে হরিণঘাটা বিধানসভা এলাকায় ৪১,৪৯,৫৬,৯১,১০৭,১১৩,১২৯,২২০ এবং ২২১ নম্বর বুথে ই ভি এম মেশিন খারাপ হয়ে যায়। যার কারনে সমস্যায় পড়তে হয়। হরিণঘাটা ব্লকের তৃনমুল সভাপতি চঞ্চল দেবনাথ বলেন, “সকাল থেকে কয়েকটি বুথে ই ভি এম খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পরে ঠিক হয়ে যায়। যার কারনে ভোটারদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে।” একই কথা শুনিয়েছেন ওই ব্লকের বি জে পি সভাপতি তারক সরকার।            

২১৪ নং বুথের ভিতরে দাপাদাপি করতে দেখা যায় বাহিনীকে। অভিযোগ, এই প্রাইমারি স্কুলের বুথে ভোট চলাকালীন বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য কর্মীদের প্রভাবিত করছিলেন জওয়ানরা। তাতে বাধা দিতে গেলে  জওয়ানরা তৃণমূলের এজেন্টকে মারধর করে। ফের তাঁদের বুথের আশেপাশে দেখলে তাঁদের ‘কুচি কুচি করে কেটে’ ফেলার হমকিও দেন অভিযুক্ত জওয়ানরা। সূত্রের খবর,  ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন নদিয়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ চঞ্চল দেবনাথ।

অন্যদিকে,  হরিণঘাটার ২০১ ও ২০২ সহ কল্যাণীর একাধিক বুথে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বিজেপিকে ভোট দিতে বলছেন ভোটারদের। ভোটের সকাল থেকেই এমন অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেতা কর্মীরা। নিশ্চিত নিরাপত্তা দিতেই সব বুথে বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের বিরুদ্ধেই উঠে এল একাধিক অভিযোগ। এ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। 

Attachments area

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only