সোমবার, ৬ মে, ২০১৯

চেয়ারে বসে খাওয়ার জন্য দলিত যুবককে পিটিয়ে খুন!


স্বাধীনতার বাহাত্তর বছর পরেও দলিতরা যে প্রতিনিয়ত অমানবিক অত্যাচরের শিকার তা বলা বাহুল্য। বিয়ের আসরে উচ্চবর্ণের সামনে চেয়ারে বসে খাওয়ার মতো সামান্য কারণে মরতে হলো এক দলিত যুবককে। এমনই ঘটনা সম্প্রতি সামনে এলো। গত মাসের ২৬ তারিখে উত্তরাখন্ডের তেহরি গাড়ওয়াল জেলার ঘটনা। জানা গিয়েছে– একটি বিয়ের আসরে বছর একুশের ওই দলিত যুবক উচ্চবর্ণের লোকজনের সামনে চেয়ারে বসে নৈশভোজ করে। তা সহ্য হয়নি তাদের। একজন দলিত কোন সাহসে চেয়ারে বসে খেতে পারে? একথা বলেই কয়েকজন যুবক নির্মমভাবে প্রহার করতে থাকে দলিত যুবককে। সেই মারের ধকল না সামলাতে পেরে ঘটনার নয়দিন পর গত রবিবার মারা গেলো নির্যাতিত দলিত যুবক জিতেন্দ্র দাস।

পরিবারের অভিযোগ– দুর সর্ম্পকের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের নেমন্তন্য খেতে গিয়েছিলো তারা। খাওয়ার সময় তার অন্যদিকে ছিলো ফলে মারপিট সর্ম্পকে অবহিত ছিলো না পরিবারের লোকজন। পরের দিন জিতেন্দ্র-র মা ভোর বেলা বিছানায় অচৈতন্য অবস্থায় দেখে তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দেরাদুনের হাসপাতালে রেফার করে । অবশেষে ঘটনার নয়দিন পর মৃতু্য হয়। মৃতের বন্ধুরা বলছে– তারা বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। জিতেন্দ্র দাসের কাকা এলাম দাস জানাচ্ছেন– তারা জিতেন্দ্রের বন্ধুদের থেকে তারা জানতে পেরেছেন– উচ্চবর্ণের যুবকদের সামনে চেয়ারে বসে খাওয়ার জন্য জিতেন্দ্র কে মারা হয়েছে। দোষীরা প্রথমে লাথি মেরে খাবার প্লেট নীচে ফেলে েদয় ও পরে ঘুষি মারতে থাকে। এলোপাথালি ভাবে তার সারা গায়ে প্রচন্ড হারে মারা হয়। বন্ধুরা ছাড়নোর চেষ্টা করলে তাদেরও মারার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারা এতটাই উগ্র ছিলো যে মারতে মারতে রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে আসে। জিতেন্দ্র কোনওক্রমে পালিয়ে বাঁচে। প্রচন্ড অপমানে বাড়িতে কাউকে বলেনি। পরের দিন তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। এবং হাসপাতালে মারা যায় জিতেন্দ্র। মৃত দলিত যুবকের কাকাতো ভাই প্রিতমও ঘটনাস্থনে ছিলো– সে জানাচ্ছে– জিতেন্দ্র-র মাথা ও গোপনাঙ্গেও আঘাত করা হয়। তারা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে তাকে মারছিলো বলে জানিয়েছে প্রিতম। মৃত যুবকের বোন কেমটি থানায় সাত জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। মৃতের বয়ানের ভিত্তিতে সাতজন চিহ্নিত অভিযুক্তরা হলেন গজেন্দ্র– সোবান– কুশল– গব্বর– গম্ভির– হরবার সিং ও হুকম সিং।

এদিকে ঘটনার তদন্তকারী পুলিশের সার্কেল অফিসার উত্তম সিং জানিয়েছেন– ঘটনার তদন্ত করা হবে এবং ভারতীয় দন্ডবিধি ও সিডিউল্ড কাষ্ট অ্যান্ড ট্রাইবস্ (নিপীড়ন দমন) অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন– ‘ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সন্ধান চালানো হচ্ছে কিন্তু কেউই মুখ খুলতে চাইছে না।’ অত্যাচারিত দলিত যুবক মারা যাওয়ার পরে পুলিশ কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নিয়ে পুলিশের তরফে বলা হয়েছে– যেহেতু নির্যাতিত মারা গিয়েছে ফলে হত্যার দায়ে দোষীর গ্রেফতার করা হবে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্ব্যস্ত করা হয়েছে। পুলিশের কথায় কিন্তু মন গলছে না নিহতের পরিবারের। দোষীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমনকি আপোসে মিটিয়ে েনওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ। তারা দোষীদের গ্রেফতারি ও কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। উত্তরাখন্ড পুলিশের ডিআইজি অশোক কুমার অবশ্য বলেন– ‘কেউ রেহাই পাবে না – দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only