বুধবার, ২৯ মে, ২০১৯

কাঁকিনাড়ার ৫০০ পরিবারকে ঘরে ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবে জামাআতে ইসলামি হিন্দ



সাহাজান পুরকাইত
লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৮ মে মধ্য রাত থেকে রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর ২৪ পরগণার কাঁকিনাড়া। ১৮ মে থেকে টানা দু’তিন দিন বারুইপাড়া– চালতাবাগান– মানিকপীরসহ কাঁকিনাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে বাড়িঘর ভাঙচুর চালায় দুÜৃñতীরা। হামলায় ঘরছাড়া হয় একশোর বেশি পরিবার। ভিটেছাড়াদের বক্তব্য– গোটা তাণ্ডব স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সামনে ঘটেছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। প্রশাসন তার ভুমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনবিধি চালু থাকাকালীন কাঁকিনাড়াসহ েগাটা ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন বলে বুধবার জামাআতে ইসলামি হিন্দের রাজ্যশাখার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এদিকে ২৬ মে নির্বাচন বিধি উঠে গেছে । বর্তমানে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য সরকারেরই। যতদ্রুত সম্ভব কাঁকিনাড়াসহ গোটা ব্যারাকপুর লোকসভা েকন্দ্রের ৫০০ বেশি ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে রাজ্য প্রশাসন বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করুক– আবেদন জানিয়েছেন জামাআতে ইসলামি হিন্দের রাজ্য সভাপতি আবদুর রফিক।

এদিন জামাআতে ইসলামি হিন্দের এক প্রতিনিধি দল কাঁকিনাড়ার নয়াবাজার এলাকার একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে খাদ্য সামগ্রী বিতরণে যান। নয়াবাজরের কাঁকিনাড়া গার্লস হাই স্কুলের ওল্ড বিল্ডিংয়ে আশ্রয় নেওয়া ৪০টি পরিবারের হাতে নানা রকম খাদ্যদ্রব্য তুলে দেওয়া হয়। জামাআত নেতৃত্ব তাদের ধৈর্য ধরতে পরামর্শ দেন। নেতৃত্ব আশ্বাস দেন–  তাঁরা ক্যাম্পবাসীদের দ্রুত ঘরে ফেরাতে প্রশাসনিক স্তরের নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ জানাবেন। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি আবদুর রফিক বলেন– ইতিমধ্যে ভাটপাড়া– জগদ্দল– কাঁকিনাড়া অঞ্চলে জামাআতকর্মীরা সমীক্ষা চালাচ্ছেন। প্রয়োজনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। আজ বৃহস্পতিবার ব্যারাকপুর অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যস্তরে সাংগঠনিক বৈঠক করা হবে। সেখানে আগামি ৫ জুন পবিত্র খুশির ঈদে ওই অঞ্চলের ঘরছাড়াদের মুখে হাসি েফাটাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা বিস্তারিত আলোচনা হবে। এদিকে সংগঠনের তরফে ব্যারাকপুর অঞ্চলে সমীক্ষা চালানোর দায়িত্বে আছেন জামাআতে ইসলামি হিন্দের কলকাতা জেলা দায়িত্বশীল সাদাব মাসুম। তিনি জানান– সমীক্ষা চালানোর সময় একাধিক ঘরহারা অভিযোগ করেছেন– পরপর কয়েক দিন দুÜৃñতী তাণ্ডব চালানোর পরে স্থানীয় পুলিশের দ্বারস্থ হলে পুলিশ মুখ ঘুরিয়ে নেয়। নিরাপত্তা তো দুরস্ত– লিখিত অভিযোগ নিতেও অস্বীকার করেন। তাই– সংগঠনের তরফে ঘরছাড়াদের সাহস যুগিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাবসহ থানায় লিখিত অভিযোগ করাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে আগামি দিনে ঘরছাড়ারা সরকারি সাহায্য পান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only