মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯

এনআরসিতে অনিয়মের অভিযোগে দিল্লিতে ‘আমসু’র ধর্না-অবস্থান


এম এ হাকিম 

অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে দিল্লিতে ধর্না-অবস্থান কর্মসূচি পালন করল ‘অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ বা ‘আমসু’। মঙ্গলবার সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী ধর্না-অবস্থানে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে ও পোস্টার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এব্যাপারে ‘আমসু’ উপদেষ্টা আজিজুর রহমান মঙ্গলবার ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে বলেন, ‘উচ্চতম আদালতের কিছু কিছু নির্দেশনা অসমের এনআরসি কর্তৃপক্ষ অবমাননা করছে। ব্যক্তিগতভাবে এনআরসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সুফল না পাওয়ায় আমরা গোটা অসমে গত দুইদিন আগে আন্দোলন করেছি। আজ দিল্লিতে আমরা দুই ঘণ্টার ধর্না-অবস্থান কর্মসূচিতে আন্দোলন করছি। অসমে ধর্মীয় ও ভাষিক সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে কিছু সংগঠন ও ব্যক্তিবিশেষ শ্রী প্রতীক হাজেলা (এনআরসি সমন্বয়কারী  কর্মকর্তা) ও এনআরসি কর্তৃপক্ষকে ব্যবহার করছে। ভুয়া কিছু আপত্তিকারী মিথ্যা আপত্তি দাখিল করেছে। তারা  কোনো শুনানিতে আসছে না। শ্রী হাজেলাকে মাননীয় উচ্চতম আদালত বলেছিল আপনি আপত্তি ও দাবি নিস্পত্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের কথা মাথায় রেখে আপনার বিবেক অনুযায়ী পদক্ষেপ করবেন। কিন্তু শ্রী হাজেলা ভুয়ো  আপত্তিকারীকের রক্ষা করছেন বলে আমাদের মনে হয়েছে। যেজন্য আমরা হাজেলাকে বলেছিলাম আপনি নিরপেক্ষ হোন, কারও পক্ষ নেবেন না। যারা মিথ্যা আপত্তি দাখিল করেছে তাদের বিরুদ্ধে আপনি পদক্ষেপ নেন ও মিথ্যা আপত্তিগুলো খারিজ করে দেন। কিন্তু তিনি গত ১১ মে তারিখে এক  বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন আপত্তি দাখিলকারীর নাম ঠিকানা ইত্যাদি যেন প্রকাশ করা বা শেয়ার করা না হয়। এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক নির্দেশনা। আপনার, আমার, সবার অধিকার আছে আমার বিরুদ্ধে কে অভিযোগ দাখিল করেছে তার সম্পর্কে জানা। আমার বিরুদ্ধে কে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করবে, আমার বিরুদ্ধে কে অভিযোগ দাখিল করবে, আমার নাম এনআরসিতে যাতে না আসে সেজন্য দাবি করবে সেই ব্যক্তির নাম, ঠিকানা আমি জানতে পারব না কেন? এটা খুব অন্যায় কথা। এতে আমাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। সেজন্য প্রতীক হাজেলার কথা না মানতে আজ ধর্না দেয়া হয়েছে।’   

আজিজুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় উচ্চতম আদালত বলেছিল যেসব লোকেদের শুনানি হচ্ছে তাদের শুনানিগুলো যথাসম্ভব তাদের বাড়ির কাছে বা নিজের জেলার মধ্যে হলে ভালো হবে। এরকম নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও শ্রী হাজেলা চারশ’/পাচশ’ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লোকেদেরকে শুনানির জন্য পাঠাচ্ছে। এটা গুরুতরভাবে উচ্চতম আদালতের অবমাননা। এবং সংখ্যালঘু লোকেদের সাজা-শাস্তির প্রমাণ। আমরা হাজেলাকে বলেছিলাম আপনি উচ্চতম আদালতের ওই নির্দেশনাকে মানুন। কিন্তু উনি মানছেন না। আমরা কোনো উপায় না পেয়ে আজ আন্দোলনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘একই পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও যদি এক/দু’জনের কাছে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নথিপত্র না থাকে তাহলে তাদেরকে ‘ডিএনএ টেস্ট’ করা হোক। কারণ অনেকের নথিপত্র নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে  ডিএনএ টেস্ট হলে তাদের পূর্বপুরুষের সঙ্গে লিঙ্কেজে নাগরিকত্বের প্রমাণ হবে। সেজন্য ডিএনএ টেস্টের সুবিধা রাখা হোক।’

তিনি বলেন, রমজান মাসে ৪০/৪২ ডিগ্রি তীব্র তাপমাত্রার  মধ্যে আজ আমরা আন্দোলন, ধর্না-অবস্থান পালন করেছি। যদি এরপরেও সরকার ও এনআরসি কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ না হয়, ওনারা যদি সংখ্যালঘুদের উপরে সাজা-শাস্তির ষড়যন্ত্র করেন, এবং সেই ষড়যন্ত্র থেকে ওনারা না সরেন, তাহলে আমরা আগামীদিনে সারা অসমে আন্দোলন শুরু করব এবং দিল্লিতে আরও বড় মাপের আন্দোলন কর্মসূচি হাতে নেবো।’ 

এব্যাপারে ‘আমসু’র পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত এক স্মারকলিপি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের দেয়া হয়েছে বলেও ‘আমসু’ উপদেষ্টা আজিজুর রহমান বলেন।

প্রসঙ্গত, এনআরসি’র খসড়ায় নাম থাকা সত্ত্বেও নাগরিকত্ব নিয়ে ভিত্তিহীন, বেনামি ও ভুয়া অভিযোগের দৌরাত্ম্যে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে ‘আমসু’র অভিযোগ। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে ধর্মীয় ও ভাষিক সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। আমসু’র উপদেষ্টা আজিজুর রহমানের মতে, সুপ্রিম কোর্ট  এনআরসির গোটা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু ভুয়ো আপত্তিকারীদের রক্ষণাবেক্ষণ দেওয়া ও শুনানির সিদ্ধান্ত গোপন রাখায় স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only