মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯

সেই ঘটনা এখনও তাড়া করে দলিত মহিলাকে

দেশের নানা প্রান্তে দলিতরা আজও অবহেলিত-পদদলিত সে কথা বলা বাহুল্য। তবে মহিলা হলে তো কথাই নেই। সম্প্রতি রাজস্থানের আলোয়ারের গণধর্ষণ তারই নগ্নবহিঃপ্রকাশ। গতমাসে এক দলিত মহিলা পাশবিক অত্যাচারের শিকার হন। অভিযোগ– স্বামীর সামনেই ওই দলিত মহিলাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ ও ধর্ষণ করে। অভিযুক্তরা এতটাই নোংরা মানসিকতার ছিল যে– পুরো ঘটনার ভিডিও করে রাখে। ওই নির্যাতিতা মহিলা এখনও আতঙ্কে থাকেন। সেই ঘটনা এখনও তাড়া করে মহিলাকে।তিনি বলছিলেন তার সাথে ঘটে যাওয়া পাশবিক অত্যাচারের কথা।
উল্লেখ্য– তাদের পরিবারের এক সদস্যের বিয়ে উপলক্ষে ২৬ এপ্রিল বিকেলে স্বামীর সঙ্গে নতুন জামা-কাপড় কেনার জন্য েমাটর সাইকেলে েচপে বাজারে যাচ্ছিলেন উনিশ বছর বয়সী নির্যাতিতা ওই দলিত মহিলা। থানাগাজী- আলোয়ার বাইপাসের কাছে দুটি মোটর সাইকেল তাদের ওভারটেক করে পথ আটকায় । প্রথমে তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি তার। ওই ছয়জন অভিযুক্ত নাম-ধাম জানতে চেয়ে প্রথমে তাদের হেনস্থা করে। মহিলার কথায়– ধর্ষকরা অত্যন্ত বাজে ভাবে কথাবার্তা বলছিল – ‘তারা যখন বুঝতে পারে যে আমরা দলিত সম্প্রদায়ের তখন ওরা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও করে। নির্যাতিতা বলেন– তাদের প্রশ্নের জবাবে আমরা যখন বললাম যে আমরা দলিত– তখন বলে ওঠে দলিতরা আমাদের জন্য কি করতে পারে?ন তারা বোঝাতে চাইছিলো দলিতরা তাদের ভোগ্য। যখন জানতে পারে আমি দলিত তখন জোর করে ধর্ষণে উদ্যত হয় অভিযুক্তরা। এখানেই তারা বাজে আচরণ করে। বিবাহিত জানার পরেও অভিযুক্তরা কোনও কথা শুনতে চায়নি । জোর করে টেনে হিঁচড়ে তাদের  নিয়ে  যায়। ওই মহিলাকে তারা স্বামীর সামনেই ধর্ষণ করে। তিনি বারবার বিধ্বস্ত অবস্থায় হাত-পা ধরে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করলেও কোনও কথা কর্ণপাত করেনি। পরপর ছ’জনের লালসার শিকার  হতে হয় তাঁকে। তাদের মধ্যে একজন আবার ভিডিও রেকর্ড করে রাখে । তারা নিজেদের লালসা মেটানোর পর স্বামী-স্ত্রীকে জোর করে মিলনে বাধ্য করেন তারা। 
 উল্লেখ্য ঘটনার পর সেই দলিত মহিলা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। কিছুতেই যেন স্বাভাবিক হতে পারছেন না। তিনি জানান– ‘আমি আজও রাতে ঘুমোতে পারি না– সারারাত ভয়ে ও আতঙ্কে থাকি। বারবার সেই দিনের নারকীয় দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে রোজ। কিছুতেই যেন স্বাভাবিক হতে পারছি না।’ তিনি চান যারা এমন কাজ করেছে তাদের দৃষ্টান্তমুলোক শাস্তি হিসাবে ফাঁসি হোক– তবে আর কেউ এতটা বিভৎস ও পাশবিক হতে পারবে না। ওই দলিত মহিলা ও তার স্বামী বারবার ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানালও তারা কোনও কথা শোনেনি। অভিযুক্তরা শুধু ধর্ষণ বা শারীরিক নিগ্রহই করেনি তাদের কাছে থাকা দুই হাজার টাকাও কেড়ে েনয়। শেষে হুমকি দেওয়া হয় যদি পুলিশ  বা কাউকে ঘটনার কথা বলে তবে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হবে। সত্যিই  ৬ মে েসাশ্যাল মিডিয়ায় ওই দলিত মহিলার ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। পুলিশ প্রথমে  অভিযোগ নিতে চাইনি বলেও অভিযোগ। পরে অবশ্য তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে রাজস্থান পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only