সোমবার, ৬ মে, ২০১৯

রমযান মাসে এই দশটি কাজ অবশ্য্ই করুন

অন্য সব সাধারণ মাসের মতোই একটি মাসের নাম রমজান । কিন্তু ফজিলত, বরকত ও রহমতের কারণে এর রয়েছে অনন্য মর্যাদা। বাকি ১১ মাসের তুলনায় এ মাসটি এতটাই উজ্জ্বল ও মহিমাময়, অন্যান্য নক্ষত্রের মাঝে সূর্য যেমন দীপ্তময়।মর্যাদা ও ফজিলতের মহান এ মাসটি শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে।



প্রতি বছর একবারের জন্য আসে বরকতময় এ মাসটি। তাই আমাদের জীবন যেই ক'বছর, রমজানও পাই সেই ক'টা। এর মাধ্যমেই আমাদের আখিরাতের শূন্য ঝুড়ি ভরে নিতে হবে, পূর্ণ করতে হবে আমাদের জান্নাতের যাওয়ার গাড়ির ট্যাংক। সময় স্বল্প, পুঁজির প্রয়োজন বেশি; তাই মাসটিকে খুবই সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করতে হবে।দুর্ভাগ্য ও উদাসিনতাবশত এ মর্যাদাকর মাসটি যেন হেলায়-খেলায় কেটে না যায়, সেজন্য আমাদের একটি রুটিন তৈরি করে মাসটিকে সে ভালোভাবে অতিবাহিত করা উচিত।

১০টি আমলের প্রতি যত্মবান হলে রমজান মাসের সময়গুলো আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব-

১. প্রতিদিন ন্যূনতম  ২০-৩০ মিনিট কোরআন তিলাওয়াত। একসঙ্গেও হতে পারে, আলাদা আলাদা সময়েও হতে পারে। তিলাওয়াত অবশ্যই সুন্দরভাবে করা উচিত, এক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো কাম্য নয়। অর্থ বুঝে বুঝে পড়া চাই।

২. প্রতিদিন  তাফসির অধ্যয়ন করা।

৩. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সঙ্গে পড়ার চেষ্টা করা। জামাআতে নামাজ আদায় করাটা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ হলেও রমজানে এর প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

৪. তারাবিহ নামাজ সুন্নাতে মুআক্কাদা আইন। আর জামাআতে পড়া সুন্নাতে মুআক্কাদা কিফায়া। তারাবিহ নিয়মিতভাবে ত্রিশ দিনই মসজিদে গিয়ে আদায় করা।

৫. সম্ভব হলে রমজানে কিয়ামুল লাইল, জিকির-আজকার, তিলাওয়াত, দ্বীনি বই অধ্যয়ন ইত্যাদির মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করা। নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া এবং এটাকে ধীরে ধীরে এমন অভ্যাসে পরিণত করা, যাতে সারা বছরই পড়া যায়। অধিকহারে ইসতিগফার ও দোয়ায় কান্নাকাটি করা।

৬. কম ঘুমানোর চেষ্টা করা।  বেশি ঘুমালে বঞ্চিত হতে হবে। তাই যথাসম্ভব সময়কে কাজে লাগিয়ে যত অর্জন করে নেওয়া যায়, ততই লাভ।

৭. প্রতিদিন একজনকে হলেও ইফতারি করানোর চেষ্টা করা। সামান্য পানি বা খাবার দিয়ে হলেও। বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে এনেও খাওয়ানো যায়, প্যাকেটে বা পাত্রে করে বাড়িতেও পাঠানো যায়। অসহায়, গরিব, মুসাফির, আলিম, আত্মীয়স্বজন, পড়শীদের নিয়মিত ইফতার করানোর চেষ্টা করা।

৮. রমজানে নারীদের রান্নার ব্যস্ততা অনেক বেশি থাকে। তাই পুরুষদেরও সময় করে রান্নাঘরে কিছু কিছু সময় ব্যয় করা। এটা রাসুলুল্লাহ সা.-এর একটি সুন্নাহ। বছরের অন্যান্য সময় না পারলেও রমজানে একাজটি আমরা অনুশীলন করতে পারি। সাহরির সময় আগে আগে উঠে বাড়ির লোকদের ও পড়শীদের জাগিয়ে দেওয়া।

৯. এ মাসে সবর ও অন্যকে প্রাধান্য দেয়ার গুণে গুণান্বিত হওয়ার চেষ্টা করতে হবে৷ কাউকে গালিগালাজ, সমালোচনা না করা। হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানি থেকে দূরে থাকা। সবার প্রতি, বিশেষত নিজের অধীনস্ত কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, সন্তান-সন্তুতিসহ সব ধরনের লোকদের প্রতি সদয় হওয়া। ক্ষমার অভ্যাস গড়ে তোলা। আর এসব সৎগুণ এমনভাবে অর্জন করা, যাতে করে সারা বছর; বরং সারা জীবনের জন্য তা অর্জন হয়ে যায়।

১০. সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। যারা কবিরা গুনাহে অভ্যস্ত ছিল, তারা কমপক্ষে কবিরা গুনাহ ছেড়ে দেবে। আর যারা সগিরা গুনাহে অভ্যস্ত ছিল, তারা সগিরা গুনাহ ছেড়ে দেবে। যারা সব গুনাহ থেকে দূরে ছিল, তারা নফল-মুসতাহাব-সুন্নত ইত্যাদি আমলের প্রতি আরও যত্নবান হবে। এভাবে রোজাদার এ মাসে নৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে একটি স্তরে হলেও উন্নতি করতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only