রবিবার, ১২ মে, ২০১৯

ইফতার মজলিশে এসে ধারণা বদলে গেল অনিন্দ্য, বাসুদেবদের


সাহাজান পুরকাইত




ছবি–সন্দীপ সাহা
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাব্দী প্রাচীন ছাত্রাবাস কারমাইকেল হল। যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসলিম পরিবারের পড়ুয়ারা থাকেন । তাদেরই উদ্যোগে রমজানের ইফতার মজলিশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সহ শহরের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ইফতার মজলিশে এসে যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু পরিবারের ছাত্রদের মুসলিম সম্পর্কে ধারনার বদল ঘটলো। তাদের প্রত্যেকেরই দাবি ইফতার মজলিশে না আসলে বিষয়টা কি সেটা তো জানাই হত না। বরং তাদের মনে থাকা ইসলাম সম্পর্কে একাধিক ভুল ধারণা রয়েছে যেত।
রবিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারমাইকেল হল এর আবাসিকদের উদ্যোগে বিগত বছরের মতো এ বছরও ইফতার মজলিশ আয়োজিত হয়। প্রায় দুই হাজার লোকের ইফতার এবং ইফতার পরবর্তী খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ইফতার মজলিশে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের পড়ুয়া অনিন্দ্য হাজরা যোগদান করতে পেরে খুব খুশি। অতি উৎসাহিত হয়ে তিনি জানান, ইতিহাসের একাধিক জায়গায় ইসলাম সম্পর্কে বা ইসলামী যেসব রাজা বাদশাহরা ছিলেন তাদের নানা অত্যাচার ও অরাজকতার ইতিহাস পড়েছে বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা রকম ভেদাভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন একটা উদ্যোগ সত্যি ঐতিহাসিক। আমি এখানে আসার আগে বাড়ি থেকে বাধা সৃষ্টি না করলেও কিছুটা হলেও পরিবারের লোকজন খুশি ছিলেন না ।কারণ কারমাইকেল মুসলিম ছাত্রদের থাকার জায়গা কিন্তু এখানে আমি না আসলে অনেক কিছু মিস করতাম ।যা চোখে দেখলাম তা বাড়িতে গিয়ে বললে আমার বাড়ির পরিবারের লোকজনের ধারণা বদলে যাবে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসুদেব মল্লিক জানান, পরপর চার বছর কারমাইকেল ইফতার মজলিশে যোগদান করছেন তিনি।এমনকি মাঝেসাঝে এখানে যাতায়াত আছে তার। কোনো দিন তার হিন্দু মুসলিম বা এ জাতীয় কোনো জাতপাত নিয়ে আলাপ আলোচনা বা সমস্যার সম্মুখীন হননি। কারমাইকেল হস্টেলের মসজিদের ইমাম মুস্তাকিম আহমেদ মোল্লা বলেন, বছরের পর বছর কারমাইকেল হোস্টেলের আবাসিকরা ইফতার মজলিশের আয়োজন করে তা শহর কলকাতা কেন , গোটা ভারতবর্ষে কোনো হস্টেলে এরকম আয়োজন করা হয় বলে তার জানা নেই। এটি নজিরবিহীন যেটা হিন্দু মুসলিম ঐক্য আরও সুদৃঢ় করে।হস্টেল সুপার কবিশেখর মিস্ত্রী ও অমিত মজুমদার জানান, তারা এমন একটি ছাত্রাবাসে দায়িত্বে থাকতে পারে সৌভাগ্যবান। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এরকম ঘটনা বা এরকম আয়োজন প্রতিনিয়ত হওয়া দরকার বলে তারা মনে করেন। কারমাইকেল হস্টেল কমিটির বক্তব্য, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক হোস্টেলে তাদের যাতায়াত আছে।সেইসব হোস্টেলে তারাও নানা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন , সরস্বতী পুজো থেকে নানারকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে । ফলে তাদের একটা দায়িত্ব জন্মায় কারমাইকেলে আয়োজিত নানা রকম অনুষ্ঠানে অন্যদেরকে সামিল হওয়ার সুযোগ দেওয়া।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only