বুধবার, ২৯ মে, ২০১৯

সদ্য নির্বাচিত সাংসদের মাকে এনআরসি নিয়ে হেনস্থা



লোকসভা ভোটে সদ্য নির্বাচিত সাংসদের বৃদ্ধা মা’কে পর্যন্ত হেনস্থার মুখে পড়ত হল। অসমের বরপেটা কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ আবদুল খালেকের ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মা সাবুয়া খাতুনের নাগরিকত্ব নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। তাই সরাসরি মাকে নিয়ে এনআরসি কেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন খালেক। সাবুয়ার নাগরিকত্ব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন হ*দয়রঞ্জন নাথ নামে জনৈক ব্যক্তি। কিন্তু– অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও এদিন হ*দয়রঞ্জন উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়। ফলে বৃদ্ধা সাবুয়াকে আর নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়নি। খালেকের দাবি– তাঁর মায়ের জন্ম অসমেই। ১৯৫১ সালের এনআরসি তালিকাতেও তাঁর মায়ের নাম ছিল। ১৯৭০ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর মায়ের নাম ছিল। তবু শুধুমাত্র হেনস্থা করার জন্যই আপত্তি! উল্লেখ্য– বেশ কিছুদিন ধরেই অসমের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন এনআরসির নামে অযথা হয়রানির অভিযোগে সরব হয়েছে। বিরোধী দলের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়কদেরও নানা অজুহাতে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। হাইলাকান্দির ডাকসাইটে কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায় ও তাঁর ৬ বছরের নাতির বিরুদ্ধেও আপত্তি জমা পড়েছিল। সেক্ষেত্রেও দেখা যায় আপত্তিকারী অনুপস্থিত। ফলে খারিজ হয়ে যায় আপত্তি। উল্লেখ্য– এনআরসি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ছনাচ্ছে অসমে। সোমবারই নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় কামর*প জেলার বোকোর গ্রামে আসরাফ আলি (৯০) নামে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেন। পরিবারের অভিযোগ– ২৩ মে এনআরসি কেন্দ্রে গেলে সেখানে নাগরিকত্ব নিয়ে তাঁকে অপমান করা হয়। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন ওই নবতিপর বৃদ্ধ। বিদেশি সন্দেহে ধৃত অমৃত দাসের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে অসমে। অসমের গোয়ালপাড়া জেলখানায় বিদেশিদের বন্দি শিবিরে ৭০ বছরের বৃদ্ধ অমৃত দাস মারা যান ৬ এপ্রিল। গত বছরের ২০ মে তাঁকে বিদেশি বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। অসম রাজ্য সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠন আমসুর অভিযোগ– বিজেপির প্রচ্ছন্ন মদতে ছাত্র সংগঠন আসুর নেতৃত্বে সংখ্যালঘুদের হয়রানি করা হচ্ছে। ইচ্ছে করে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ভুয়ো অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কেউ এই ধরনের অফকর্ম করলে তাকে শাস্তি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে আমসু। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only