বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৯

আচমকা হানা বিধ্বংসী ঘূর্নিঝড়ের, ধ্বংসের চিহ্ন চারদিকে

কৌশিক সালুই, বীরভূম, ১৬ই মে:- মাত্র কয়েক মিনিটের দমকা ঝড়ে তছনছ সবকিছু। বুধবার রাত্রে ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের কোটা ও বোধগ্রামে। ও দিন রাত্রি  সাড়ে আটটা নাগাদ আচমকা হানা দেয় ঘূর্নিঝড়। তার কবলে এখন চারদিকে শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন। মাটির কাঁচা বাড়ি-ঘর মাটিতে মিশেছে, গাছ- বিদ্যুতের স্তম্ভ উপড়ে ফেলেছে। বোরোচাষ বিধ্বস্ত হয়েছে,অন্যান্য শাকসবজি ও ক্ষতি হয়েছে। এমনকি গাঁয়ের এক গরীব দিনমজুরের বৌভাত পর্যন্ত হয়েছে মাটি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত সাহায্য করা হয়েছে তাদেরকে। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বুধবার রাত আটটা নাগাদ মিনিট পাঁচেকের ঘূর্ণিঝড় হয় লোবা গ্রাম পঞ্চায়েতের কোটা গ্রামে এবং পদুমা পঞ্চায়েতের বোধগ্রামে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওলট-পালট করে দেয় ওই দুটি গ্রামকে। ১০২ টি বাড়ি হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ সম্পূর্ণ এবং আংশিক ভাবে। বহু গরীব মানুষ হয়েছেন ভিটে হারা। যেমন দিনমজুর গোপাল টুডু, খেতমজুর জগবন্ধু ডোম, দিলীপ বাউরীদের বাড়ি বলে আর কিছুই নেই। দেওয়াল ধসে মিশেছে মাটিতে। রাস্তার উপর যত্রতত্র পড়েছে গাছ। উপড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। বোধগ্রামের দিপক বাউরীর ছিল বৌভাত। সবে প্যান্ডেলের খাওয়া দাওয়া শুরু হয়েছে। নিমেষে উড়ে যায় মাথার আচ্ছাদন। গ্রাম গুলি ঘুরে দেখা গেল বিদ্যুৎ সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন। মাঠে ফলছিল বোরোধান। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তারও। স্থানীয় দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এর পক্ষ থেকে গ্রাম দুটিতে ক্ষতিগ্রস্ত তালিকা তৈরি করা হয়। পাশাপাশি চাষবাসের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হয়েছে কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে। দুবরাজপুরের বিডিও অনির্বান রায় জানিয়েছেন, ‘‘ ১০২ টি  বাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রাতে খবর পাওয়ার সাথে সাথে এলাকায় যোগাযোগ করা হয়েছিল। এদিন সকাল থেকে ব্লক ও পঞ্চায়েতে টিম গ্রামে রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ত্রান পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছ। ক্ষয়ক্ষতির পুরো রিপোর্ট নিয়ে ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা করা হবে।’’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only