শুক্রবার, ১৭ মে, ২০১৯

নেই ভবিষ্যৎ, মিটমিট করে জ্বলছে কুমোরপাড়ার ভাটার আগুন

শুভায়ুর রহমান, তেহট্টঃ সময়ের সঙ্গে পুরনো সে দিন হারিয়েছে। মানুষ এখন অনেক যান্ত্রিকমুখি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় কাঁসা পিতল,স্টিল, এলুমিনিয়াম, ফাইবারের তৈরি ব্যবহার সামগ্রী অত্যধিক প্রচলন হওয়ায় কুমোর পাড়ার কাজে ভাটা পড়েছে। ভবিষ্যৎয়ের কথা ভেবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। ফলত গ্রাম বাংলার ঘরে মাটির সামগ্রী তৈরির পেশা হারিয়ে যাচ্ছে। বাপ ঠাকুরদার আমলের শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে, তাই নদিয়ার তেহট্ট,কালীগঞ্জ, পলাশিপাড়া এলাকায় এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মন খারাপ। তেহট্টের বেতাই সাধুবাজার গ্রামের প্রায় ত্রিশটি পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। কাজলী পাল নামে একজন জানান, বিয়ের পর দেখেছি আমার শ্বশুর বাড়িতে মাটির কলসী,হাঁড়ি,কড়াই, পাতনা, সরাই সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি হত। তখন ছিল শ্বশুর বাড়ির যৌথ পরিবার। এখন সকলেরই পৃথক সংসার। তখন মাটির ঘট, প্রদীপ বিভিন্ন কিছু তৈরি হত। কালীপুজোর এক মাস আগে থেকে ব্যস্ততায় নাওয়াখাওয়া ভুলে যেতাম। আর এখন হয় না।
জানা গেছে, শীতের মরসুমে খেজুর রস সংগ্রহ করা মাটির হাড়ি তৈরির ধুম পড়ে যেত। এখন সে সব অতীত। আধুনিক যুগে মাটির কদর কমেছে। মাটির সরঞ্জামের বদলে বিভিন্ন ধাতুর পাত্র বাজার ছেয়েছে। এছাড়া দিনকে দিন কুমোরদের হাতে তৈরি হাঁড়ির প্রচলন আর তেমন দেখা যায় না। তাই কুমোর পাড়ায় পেশা বদল হয়েছে। পলাশিপাড়ার বার্ণিয়ার একজন মৃৎ শিল্পী বলেন, বেশিদিন আগের কথা নয় বছর পনেরো আগেও মাটির হাঁড়িতে রান্না করে খেয়েছি।  আজ তা হয় না। সাধুবাজার গ্রামের মদন পালের কথায়, বংশ পরম্পরায় মাটির পাত্র তৈরির কাজ করে আসছি। বর্তমানে চাহিদা কম। সেজন্য আমার দুই ছেলে কেউ এই পেশায় নেই। কর্মসূত্রে তারা বাইরে থাকে। বর্তমানে জোগানের তুলনায় চাহিদা কম। জ্বালানির দামও বেড়েছে। আগের সময় মাঠের জঙ্গল থেকেই জ্বালানি পাওয়া যেত, সেসব আর হয় না। বিভিন্ন মরসুমে যেমন বিয়ের অনুষ্ঠানের সরা ঘট, পুজোর ঘট, পিঠেপুলির ছাঁচ, মাটির কলসি তৈরি হয়।অর্ডার অনুযায়ী কাজ হয়। চাকে বসে বিভিন্ন ধরনের পাত্র তৈরি হয়। কিন্তু পুরোনো শিল্পীরা রুটি রুজি তাগিদে কাজ করলেও নতুন রা আসেননা এই কাজে৷ তাই কুমোরপাড়ায় আর তেমন জ্বলে না আগুন। মিটমিট করে পুরনো ছাঁচেই ভরসা রেখে যতদিন চলে ভরসা রাখছেন শিল্পীরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only