শনিবার, ১৮ মে, ২০১৯

ধরমপুজোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ময়ুরেশ্বরেঃ তীরবিদ্ধ এক

দেবশ্রী মজুমদার, ময়ুরেশ্বর, ১৮মেঃ ধরমপুজোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ময়ুরেশ্বরে। ঘটনার জেরে পিঠে তীরবিদ্ধ হয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তি। ময়ূরেশ্বর থানার পুলিশ চার ব্যক্তিকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বলে সূত্রের খবর। যদিও, এব্যাপারে মুখ খুলতে চায়নি পুলিশ আর এই ঘটনার পর অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের চাপান উতোরে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। ঘটনার জেরে অনেকেই অল্প বিস্তর আহত হন। তীরবিদ্ধ ষাঠোর্ধ সন্তোষ সেনকে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দল নিজেদের সমর্থক বলে দাবি করলেও, তাঁরা আহত ব্যক্তির পদবী ঠিকঠাক বলতে পারেননি। তাছাড়া আহত ব্যক্তি জানান, তিনি কোন দলের সমর্থক নন।   
ময়ুরেশ্বর দুই ব্লকের তৃণমূল সভাপতি আশিস চন্দ্র জানান, থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ময়ুরেশ্বরের ধর্মরাজতলায় ধরম পুজো উপলক্ষে বাউল হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন ছিল। যদিও, বিজেপির তরফে দাবি করা হয় হরিনাম সংকীর্তন চলছিল। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়, বাউল চলছিল।  শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান চলাকালীন বিজেপির সমর্থকদের সাথে তৃণমূলের সমর্থকদের বচসা বাঁধে। বিবাদের সূত্রপাত হয় জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়া নিয়ে। তৃণমূলের সমর্থকেরা এর তীব্র প্রতিবাদ করায় মারধর শুরু হয়। যার জেরে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারের মধ্যে ছোঁড়া হয় তীর। চলে ইঁট, পাথর, লাঠির যথেচ্ছ ব্যবহার। এমনকি কৃষ্ণ মণ্ডল নামে এক চাষির পানের বরুজ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দীপু ফুলমালি সহ আরও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। ময়ুরেশ্বর  দুই ব্লকের অঞ্চল সভাপতি তথা ময়ূরেশ্বরের প্রধান আলেয়ারা বিবির স্বামী লালু সেখ জানান, রবি লালা, নিবাস সূত্রধর সহ দশ জনের নামে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তীর বিদ্ধ সন্তোষ সেন তৃণমূলের সমর্থক। বিজেপির লোকের কথা শুনে তৃণমূলের সমর্থকদের ধরেছে পুলিশ। অন্যদিকে, বিজেপির আহ্বায়ক অতনু চট্টোপাধ্যায় বলেন,  সন্তোষ সেনের স্ত্রী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত ব্যক্তি বর্তমানে বর্ধমানে চিকিসাধীন। নার পরিবার চিরদিনের বিজেপি সমর্থক। তৃণমূল মিথ্যে দাবি করছে। তৃণমূল কর্মীরা ধরম পুজো পরিচালনা করছিল। সেখানেই বিজেপি সমর্থকেরা তির ধনুক নিয়ে আক্রমণ করে। ঘটনায় বিজেপি কর্মীরা আক্রান্ত। আর এটাই বাস্তব। ময়ুরেশ্বরের বিধায়ক অভিজিৎ রায় বলেন, ধরম পুজোকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে একটু গণ্ডগোল হয়। বড় কিছু নয়। পুলিশ ক’জনকে জিজ্ঞাসবাদের জন্য আটক করেছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে। এব্যাপারে রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সৌম্যজিত বড়ুয়ার ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only