রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯

৬ মাস বন্ধ বান্ধব সমিতি গ্রহ্নাগার, আশঙ্কার প্রহর গুনছে মাড়গ্রামবাসী

দেবশ্রী মজুমদার, ২৬মে, মাড়গ্রামঃ  কথায় বলে, প্রাচীনকাল থেকে সভ্যতাগুলো দেখলে বোঝা যায়, যে জাতির গ্রহ্নাগার যত উন্নত ছিল, সেই জাতি তত উন্নত ছিল। আর সেখানেই আক্ষেপ মাড়গ্রাম বাসীর! দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে  মাড়গ্রাম বান্ধব সমিতি গ্রহ্নাগার। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা মাড়গ্রাম। মাড়গ্রাম ১ ও ২ পঞ্চায়েত মিলে  ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বাস এখানে। আর এখানেই সরকার পোষিত এই গ্রহ্নাগার স্থাপিত  হয় ১৯৭৯ সালে। কিন্তু ৬ মাস ধরে লাইব্রেরী বন্ধ। এলাকাবাসীর আশংকা, হয়ত একদিন উঠে যাবে এই লাইব্রেরী। এই লাইব্রেরীতে প্রায় পাঁচ হাজার বই আছে। ম্যাগাজিন, দৈনিক সংবাদপত্র সহ কর্মসংস্থান নেওয়া হয়ে থাকত। এর ফলে উপকৃত এলাকার দুঃস্থ ছাত্রছাত্রী থেকে বেকার যুবক যুবতি ও বিভিন্ন বয়সের মানুষজন। সপ্তাহে চার দিন এক ঘন্টা করে লাইব্রেরী খোলা রাখার জন্য সময় দেন লাইব্রেরীর সম্পাদক মুহাম্মদ শরীফ আহম্মদ।
জানা গেছে, বছর চারেক আগে লক্ষণ চন্দ্র মণ্ডল স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। কিন্তু উনি গত হওয়ার পর চার পাঁচ বছর ধরে কোন লাইব্রেরিয়ান ছিল না। এরপর বিষ্ণুপুরের লাইব্রেরিয়ান বেশ কিছুদিন দায়িত্ব নেন। তারপর আয়াসের লাইব্রেরিয়ান গোলক বিহারী মণ্ডল সপ্তাহে দুদিন এসে এই দায়িত্ব সামলাতেন। বিগত এক বছর আগে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তারপর পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে পিওন নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডলের উপর। তিনি ছিলেন লাইব্রেরীর শেষ কর্মী। চার মাস আগে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তিনিই এতদিন লাইব্রেরী খুলে রাখা থেকে সব কাজ একাই করতেন। লাইব্রেরীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ শরীফ আহম্মদ জানান, সপ্তাহে চারদিন লাইব্রেরি খোলা রাখেন তিনি। পাঠকরা ফোন করলে, নিজে গিয়ে লাইব্রেরি খুলে বই দেওয়া ও জমা নেওয়ার কাজ করেন তিনি। পাঠকের সংখ্যা ৫৪৫। মাড়গ্রাম-১ ও ২  এবং পাশাপাশি অন্য গ্রামের পাঠকরা এই লাইব্রেরী থেকে উপকৃত। বিষুপুরে একটা লাইব্রেরী আছে। কিন্তু সেটা ৫ কিমি দূরে। মাস খানেক আগে জেলা গ্রহ্নাগারিক এই গ্রহ্নাগার দেখে যান। উনি তো বলেছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন স্টাফ আসে নি। আমাদের আশঙ্কা হয়ত লাইব্রেরীটা বন্ধ হয়ে যাবে। এব্যাপারে রাজ্য সরকারের গ্রহ্নাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। জেলা শাসক মৌমিতা গোদালা বলেন, ভোটপর্ব মিটুক। তারপর কাগজ পত্র দেখে যথাযত ব্যবস্থা নেব। নিমতলা পাড়া মসজিদের পেশ ইমাম কাজী গোলাম মুরসালিন বলেন, আমি এই লাইব্রেরীর নিয়মত পাঠক। অনেকদিন ধরেই এই লাইব্রেরী বন্ধ। এই ব্যাপারে আমরা আশঙ্কার মধ্যে আছি। এই লাইব্রেরী এলাকার সমস্ত শ্রেনীর পাঠকের উপকারে লাগত। বেকার যুবক যুবতি ও দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের খুব উপকারে লাগত এই লাইব্রেরী। মাননীয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর এব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন এই লাইব্রেরী আবার পাকাপাকিভাবে খোলা হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only