সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯

বাবা টোটো চালক, মা সাফাই কর্মী, ছেলে রাজ‍্য মেধা তালিকায় সপ্তম

দেবশ্রী মজুমদার, বোলপুর, ২৭ মে: মাধ‍্যমিকে আশানুরূপ ফল হয়নি। কিন্তু মনে একটা জেদ কাজ করেছিল উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ‍্য মেধা তালিকায় বিজ্ঞান বিভাগের সপ্তম স্থানাধিকারী রাজীব হাজরা। উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করতে হবে। তবে পথ কুসুম বিছানো ছিল না। অভাব ছিল সংসারে।  বাবা প্রশান্ত হাজরা টোটো চালক। মা কৃষ্ণা হাজরা বোলপুর হাসপাতালের  সাফাইকর্মী। তবে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি। পাশে দাঁড়িয়েছেন জ‍্যেঠু সুভাষ হাজরা। তাঁর মুরগির দোকান আছে। তিনিই  প্রতিমাসে আর্থিক সাহায্য করতেন। তা থেকেই ৬টি টিউশন ফিজের সঙ্কুলান হত। পাড়া প্রতিবেশীর ভিড় জমেছে বোলপুর রবীন্দ্রপল্লীর একতলা বাড়িতে। মা বাবা খুব খুশি। এক ছেলে ও এক মেয়েকে পড়িয়ে অভাবের সংসারে হিমসিম খাওয়ার অবস্থা। খুব কাছ থেকে দেখেছে দারিদ্র্য। তাই বড় হয়ে আগে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চায় সে। বেস্ট ফাইভের ভিত্তিতে রাজীবের প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯। বিষয় ভিত্তিক নম্বর ইংরেজি ৯৭, রসায়ন ৯৬, গণিত ১০০, পদার্থ বিজ্ঞানে ৯৮, জীব বিদ‍্যায় ৯৮। মাধ্যমিকে ৪৩৬ পেয়েছিল রাজীব। তাই একটু খারাপ লাগলেও, উদ‍্যমে কোন ভাটা পড়ে নি তার। রসায়ন নিয়ে বিশ্ব ভারতীতে পড়াশোনা করতে চায় রাজীব। রাজীব বলে, আমার এই ফলে বাবা, মা, জ‍্যেঠু, স্কুলের শিক্ষক, গৃহ শিক্ষক সকলের অবদান আছে। আমি আমার বাবা মায়ের পাশে দাঁড়াতে চাই। বাবা মায়ের কষ্ট দেখে আমার খারাপ লাগে। তবে শিক্ষক পেশা প্রবেশের পর আমার মত দুঃস্থ ছেলে মেয়ের পাশে আমার দাঁড়াবার ইচ্ছে আছে। অবসর সময়ে ক্রিকেট খেলত সে। বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্রীয় সাধু বলেন, মাঝে দু'বছর বাদে এবছর আমাদের স্কুল মেধা তালিকায় জায়গা করে নেওয়ায় আমরা খুব খুশি। তাছাড়া যেরকম দুঃস্থ পরিবার থেকে উঠে এসে এরকম একটা জায়গা করে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রশংসা যথেষ্ট নয়। অন‍্যদিকে, রামপুরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পর্ণবিতা মণ্ডল ও রামপুরহাট জে এল বিদ‍্যাভবন থেকে দিপ্তেশ পাল ৪৮৬ পেয়ে দশম স্থান অধিকার করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only