মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৯

দুদশক ধরে জেলবন্দিদের ইফতারের আয়োজন করে আসছে হায়দরাবাদের দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

হায়দরাবাদ, ২৮ মে: তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ শহরের বিভিন্ন এলাকায় যখন ইফতার মজলিশ চলছে তখন সেখানকার দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কারাগরের বন্দিদের জন্য ইফতারের জন্য বন্দোবস্ত করে চলেছে। আর এই পরিষেবা তারা দিয়ে চলেছে প্রায় দু দশক ধরে। হায়দরাবাদ ভিত্তিক দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মজলিশ দাওয়াত-উল-ইসলাম ও জামাত-ই ইসলামি রমযান এলেই তাদের সেবার ঠিকানা হয়ে ওঠে বিভিন্ন কারাগার। এমনই দুটি কারাগার হায়দরাবাদের চেরলাপল্লি ও চঞ্চলগুড়া। এই কারাগার দুটিতে থাকা মুসলিম বন্দিদেরকে ওই দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পুরো রমযান মাস ইফতারের বন্দোবস্ত করে থাকে। বিভিন্ন কারাগারে থাকা প্রায় ৭০০জন বন্দি প্রতিবছর রোযা রাখেন। এদের মধ্যে জুভেনাইল হোমে থাকা পুরুষ, মহিলা ও শিশুরা রয়েছে।
প্রতি রমযান মাসে চেরলাপল্লি কারাগারে প্রায় ২৬ বছর ধরে খাবারের ব্যবস্থা করে আসছে মজলিশ দাওয়াত-উল-ইসলাম।আর মালাকপেট ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জামাত-ই-ইসলামি গত ১৫ বছর ধরে চঞ্চলগুড়া কারাগারে বন্দিদেরকে ইফতারের ব্যবস্থা করে আসছে। এ ব্যাপারে মজলিশ দাওয়াত-উল-ইসলামের এক সদস্য খাজা আলি বারবার বলেন, তাদের সংগঠন প্রায় ৩ দশকের পুরানো। ১৯৯৩ সাল থেকে তারা অভিযুক্ত বন্দিদেরকে রমযান মাসে ইফতারের বন্দোবস্ত করে আসছেন। এই সংগঠনের তরফে ১২ থেকে ১৫ সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছে যারা মাগরিবের আগে চেরলাপল্লি জেলে বন্দিদের কাছে ফল সহ খাবার পৌঁছে দিয়ে থাকেন।এর জন্য প্রতি বছর জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। তিনি জানান, যেসব বন্দি রোযা রাখেন তাদের জন্য খেজুর আম সহ নানা ফল পাঠানো হয় ইফতারের জন্য।
চেরলাপল্লি জেলে প্রায় ৪০০-৪৫০জন বন্দি রোযা রাখেন। আর চঞ্চলগুড়া কারাগারে প্রায় ৩০০জন রোযা রাখেন যাদের মধ্যে প্রায ৪০-৫০জন মহিলা।এ ব্যাপারে জামাত-ই-ইসলামির এক সদস্য সৈয়দ নাজির বলেন, ২০০৪ সাল থেকে তাদের সংগঠন চঞ্চলগুড়া কারাগারে বন্দিরে জন্য ইফতারের বন্দোবস্ত করে আসছে।
তবে, খাজা আলি জানান কযেক বছর আগে তাদের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের অনুমতি দেওয়া হত বন্দিদের মধ্যে ফল ও ইফতার সামগ্রী বিতরণের জন্য। ভিতরে ইফতারের আয়োজন করার এবং বন্দিদেরকে ধর্মীয় বক্তৃতা বা শিক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হত। এখন কারাগারে বন্দিদের মধ্যে ইফতার বণ্টনে নানা বিধি নিষেধ আরোপ হয়েছে। জেল চত্বরে তাদের প্রবেশে কড়াকড়ি। আর ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ইফতার সামগ্রী দিতে হতে তা জেল সুপারের হাতেই তুলে দিতে হয়।
এ ব্যাপারে কারাগার দফতরের ডেপুটি জেনারেল ভি কে সিং বলেন, নিরাপত্তার কারণে আইনের বাঁধন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় বক্তৃতা দিলে কারাগারের বাইরে অন্য সম্প্রদায়ের তরফে বিক্ষোভ দেখানো হতে পারে। তাই ধর্মীয় গোঁড়ামি এড়াতে কারাগরে মধ্যে এই কড়াকড়ি করা হয়েছে।
যদিও ভি কে সিং দাবি করেন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দেওয়া ইফতার যথাসময়ে বন্দিরে জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিদিন বিকেল থেকে বন্দিরে জন্য ইফতারের প্রস্তুতি নেওয়অ হয়। এমনকি সেহরিরও ব্যবস্থা করা হয়।তবে, ধর্মীয় বক্তৃতায় লাগাম টানলেও রমযান মাসে মুসলিম বন্দিদের একসাথে প্রার্থনা করা বা ধর্মীয় আচারবিধি পালন তারা করতে পারে বলে দাবি করেন ভি কে সিং।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only