মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৯

অস্থায়ী ‘তাঁবু শহরে’ রযমান পালন গৃহচ্যূত ফিলিপাইন পরিবারদের

মারাবি সিটি, ২৮ মে: নিরাপত্তা বাহিনী আর আইএস জঙ্গিদের মধ্যে যুদ্ধের কবলে পড়ে হাজার হাজার ফিলিপাইন মুসলিমকে ঘর ছাড়তে হয়েছিল মারায়ি শহর। এই রমযানে তারা এখন অস্থায়ী ‘তাঁবুর শহর’-এ বাস করছেন।২০১৭ সালে নিরাপত্তা বাহিনী আর আইএস জঙ্গিদের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর তারা সর্বস্ব খুইয়েছিল।সবা হারানো সেই সব ফিলিপাইন পরিবার কিন্তু এ বছর রমযান পালন করছেন অস্থায়ী তাঁবুতে। আর তার বলছেন, সব হারিয়েও তারা আল্লাহ ও ইসলামের প্রতি তাদের বিশ্বাস হারাননি।
মারাবি শহরটি হচ্ছে ফিলিপাইনের স্বায়ত্ত্বশাসিত এলাকা বঙ্গসামরোর লানাও দেল সুর প্রদেশের রাজধানী। মুসলিম অধ্যুষিত এই শহরে আইএস জঙ্গিদের মদতপুষ্ট মাইতি গোষ্ঠীর দাপটে প্রায ৪০ হাজার পরিবারকে ঘর ছাড়তে হয়। এদের মধ্যে ১৮ হাজার পরিবার এখনও এক অস্থায়ী শিবিরে দিনযাপন করছেন। তারা এখন ঘরে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে।
মারাবি শহরের ঘরহারাদের ঠাঁই হয়েছে সারিমনোকের অস্থায়ী শিবিরে। এই শহর এখন ‘টেন্ট সিটি’ বলেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। এখানে আশ্রয় নেওয়া ফিলিপাইন মুসলিমদের ধর্মীয় নেতা ইমাম ওমর গিনদুগান শরিফ জানিয়েছেন, খুবই কঠোর জীবন। কিন্ত আমরা এখন যেকোনওভাবেই ভাল আছি।আমরা বহু মানুষের সাহায্য পাচ্ছি।
তিন বছরের নাতিকে কোলে নিয়ে তাঁবুর বাইরে দাঁড়িয়ে ইমাম ওমর বলেন, সরকার ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্য পাচ্ছে এখানে আশ্রয নেওয়া মুসলিমরা। যদিও তার বেশিরভাগটাই খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী। মাঝেমধ্যে অর্থ সাহায্যও করছে। এটা যথেষ্ট না হলেও এই সাহায্য তাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছ। এর জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
শরিফ এবং তাঁর পরিবার এই তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে।বেশ কযেক মাস আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে থাকার পর তারা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। নাতি আবদুল রায়ান সহ এগারো সদস্যের শরিফের পরিবারের এখন দিন কাটাতে হচ্ছে ছোট্ট তাঁবুর মধ্যে।
এই নিয়ে কাটছে তাঁদের দ্বিতীয় রমযান মাস। আগে মহানন্দে রমযান পালন করতেন। এখন ত্রিপল দিয়ে ঘেরা ছোট্ট তাঁবুর মধ্যে মসজিদই তাদের সম্বল। বিণ্নি সংগঠন ইতার সামগ্রী দান করেন। কখনও কখনও খাবার না পেলে নিজেদেরকে মতো চলতে হয়। সাধারণত শুধু ভাত আর সামুদ্রিক সার্ডিন মাছ খেয়েই দিন পার করতে হয়।
মাঝে মধ্যে তাই শরিফ আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেন, তাদের কেন এই অবস্থার শিকার হতে হচ্ছে।যদিও এ নিয়ে শরিফ বলেন, এটা আমাদের বিশ্বাসের পরীক্ষা্যদি আমরা সত্যিই মুসলিম হই, তাহলে আল্লাহ মাঝেমাঝে আমাদেরকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলেন।প্রথমে আমাদের সেই কঠিন পরীক্ষা পেরতে হবে। যদি সেই পরীক্ষা পেরতে সক্ষম হই তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে পুরস্কৃত করবেন।শরিফের আশা, আল্লাহর মহান অনুগ্রহে তাদের জন্য সুন্দর জীবন অপেক্ষা করছে।জীবনযুদ্ধে সব হারিয়েছেন শরিফরা, কিন্তু হারাননি আল্লাহর প্রতি তাদের বিশ্বাস।
এই রমযান মাসে শরিফদের আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, সরকার যেন মারাবি শহর থেকে পালিয়ে আসা ফিলিপাইন মুসলিমদের ধেরে ফেরার অনুমতি দেয়।
শুধু শরিফ নন, তাঁর মতো সপরিবারে মারবি শহর ছাড়তে হয়েছিল মানসাবি হাদিনোনামেনের। তাদেরকেও শরিফের মতো সাবোনসনগানের অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে।গৃহযদ্ধে সব হারানো হাদিনোনামেনরা অবশ্য এখনও বেঁচে বর্তে আছেন। যদিও তাদেরকে তাঁবু শহরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তিনিও মুখ চেয়ে রয়েছেন কখণ সরকার তাদের ঘরে ফেরার অনুমতি দেবে। আর ঘর পুনর্নির্মাণের কাজে লাগবেন। তাঁর বক্তব্য, এত কিছুর মাঝেও রমযান মাসে আল্লাহর প্রতি অটুট রেখেছেন তাদের বিশ্বাস।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only