বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৯

জালিওয়ানাবাগ হত্যাকাণ্ড ও তার প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথের নাইটহুড ত্যাগ নিয়ে বিশেষ প্রদর্শণী বিশ্বভারতীতে

দেবশ্রী মজুমদার, ০৯মে, শান্তিনিকেতনঃ জালিওয়ানাবাগ হত্যাকাণ্ড ও তার প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথের নাইটহুড ত্যাগ নিয়ে বিশেষ প্রদর্শণী বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবনের বিচিত্রা মিউজিয়ামে। বিভিন্ন চিঠিপত্র, ছবি, সংবাদপত্রে প্রকাশিত অংশ বিশেষ, ব্রিটিশ প্রদত্ত নাইটহুড মেডাল থাকছে এই প্রদর্শনীতে। পাশাপাশি থাকছে সন্ধ্যের দিকে গৌর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় রবি ঠাকুরের অমর সৃষ্টি চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা ও শাপমোচনের উপর ভিত্তি করে মানবকন্যা নৃত্যনাট্য।  পরিবেশন করেন পাঠভবনের পড়ুয়ারা। তবে এবার রবীন্দ্র জন্ম জয়ন্তী উদযাপনের বিশেষ মুহুর্ত ছিল রবীন্দ্র ভবনের বিচিত্রা মিউজিয়ামে জালিওয়ানাবাগ হত্যাকান্ড ও কবির নাইট উপাধী ত্যাগ শীর্ষক প্রদর্শনী।
এব্যাপারে বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক মানবেবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি অরাজনৈতিক ব্যক্তি যিনি এই নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদ সর্বাগ্রে করেছিলেন। সেই সময় তিনি মহাত্মা গান্ধীজী ও দেশ বন্ধু  চিত্তরঞ্জন দাশের কাছে সাড়া না পেয়ে কবি নিজের মত করে প্রতিবাদ করেছিলেন। এই ঘটনা রবীন্দ্রনাথকে অস্থির করে তুলেছিল। খবর পেয়ে এন্ড্রুজকে পাঠিয়েছিলেন গান্ধীজীকে রাজি করাতে যে গান্ধীজী ও তিনি একযোগে পঞ্জাবে আইন অমান্য করতে চান। গান্ধিজী সেই মুহূর্তে সরকারকে বিব্রত করতে চান নি। যখন দেখলেন কেউ সেরকমভাবে প্রতিবাদ করছেন না, তখন কবি নিজের মত প্রতিবাদ করেন। ইংরেজদের দেওয়া নাইট উপাধী ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বড়লাট চেমশফোর্ডকে চিঠি লিখলেন তিনি। অর্থাৎ যখন রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনার প্রতিবাদে এগিয়ে এলেন না, তখন এগিয়ে এলেন কবির মত একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব”।       
এদিন বৈতালিকের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় কবির জন্ম দিন উদযাপন। ‘দেখা দিক আরবার জনমেরও প্রথমও শুভ ক্ষণে’-ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের সমবেত সঙ্গীতে মুখরিত হল শান্তিনিকেতনে মঙ্গলবারের রবীন্দ্র সকাল। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবন ও ছুটি থাকলেও কিছু আধা সরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মর্যাদার সঙ্গে পালিত কবির ১৫৮ তম জন্ম জয়ন্তী। রবীন্দ্র ভবনের উত্তরায়ণ, উদীচি, কোনার্ক ও শ্যামলীতে গুরুদেব বিভিন্ন সময়ে থেকেছেন। সেগুলিও সাজানো হয় যথাযতভাবে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি হয়  চিরাচরিত ঐতিহ্য বজায় রেখে অনেকটা গঙ্গাজলে গঙ্গা পুজোর মতই সকাল থেকে চলে বৈদিক মন্ত্রপাঠ, ব্রহ্ম উপাসনা, রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং নৃত্যানুষ্ঠান। পরে রবীন্দ্রভবনে কবির ব্যবহৃত চেয়ারে মাল্যদান করেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুত চক্রবর্তী।  
প্রতি বছরের মত এবারও  ভোর ৫ টায় গৌরপ্রাঙ্গণে বৈতালিকের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জন্ম জয়ন্তীর অনুষ্ঠান। সাড়ে ৫ টায় উত্তরায়ণে শুরু হয় কবিকণ্ঠ। পরে প্রথা অনুযায়ী সকাল ৭ টায় উপাসনা গৃহে শুরু হয় কবি কন্ঠ। এখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিকরা। বৈদিক মন্ত্রপাঠ, ব্রহ্ম উপাসনা, রবীন্দ্রসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কবিকণ্ঠের অনুষ্ঠান। কবির জন্ম দিনের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল  ৮ টা ৪৫ মিনিটে দক্ষিণায়নের মাধবীবিতানে। সাঁওতালি ও মারাঠী ভাষায় গুরুদেবের লেখা অংশ থেকে পাঠ হয়। এরপর রবীন্দ্রভবনে কবির ব্যবহৃত চেয়ারে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন উপাচার্য। বিশ্বভারতীর অন্যান্য ভবনের ছাত্রছাত্রীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন।  

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন পালন হয় ১৯৩৬ সালে। আগে বর্ষবরণ ও গুরুদেবের জন্ম দিন এক সঙ্গে পালিত হত। কারণ প্রচণ্ড দাব দাহ ও জল কষ্টের জন্য বিশ্বভারতীতে ছুটি পড়ে যেত। অর্থাৎ ২৫ বৈশাখ ছুটি থাকত। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। তাই ২৫ শে বৈশাখে আলাদাভাবে গুরুদেবের জন্ম দিন পালিত হয়। বিশ্বভারতীতে প্রথম নববর্ষ পালিত হয় ১৯৩৬ সালের ১৫ এপ্রিল। বাংলা ১৩৪৩ সালে। ১৯৪১ সালের ১৪ এপ্রিল  তথা বাংলা ১৩৪৮ সালের ১লা বৈশাখ বর্ষ বরণের দিন কবির জীবদ্দশায় শেষ জন্ম দিন পালন হয়।এদিন রামপুরহাটের মুক্ত মঞ্চে স্বপ্ন পলাশ একটি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only