বুধবার, ৮ মে, ২০১৯

রোযার মাসে জলের দাবিতে পথ অবরোধ মুরারইয়ে

দেবশ্রী মজুমদার, মুরারই, ০৮ মেঃ রোযার মাসে তীব্র জল সঙ্কট। জলের জন্য হাহাকারে অসহায় মানুষ মুরারই মেন বাজারে পথ অবরোধে সামিল হলেন। বুধবার দুপুরে  মুরারই মেন বাজারে রাস্তায় কাঠের গুড়ি ফেলে এই পথ অবরোধে সামিল হন এলাকার মানুষ। এদিকে এই জল সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান চাইছেন এলাকার মানুষ। পঞ্চায়েত সমিতি ও জন স্বাস্থ্য ও কারিগরী বিভাগের যাঁতাকলে পরে এই তীব্র গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে মানুষের। পঞ্চায়েত সমিতি অবশ্য  যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নেমে পড়েছে পাম্প সারাইয়ের কাজে।  
মুরারই নতুন বাজারের বাসিন্দা ইমতিয়াজ ইসলাম বলেন, “গত দুবছর ধরে আমাদের ওয়াটার পাম্পে চার খানা মোটর আছে, চার খানায় খারাপ। যখন খারাপ হয়, মাঝে মধ্যে ঠিক করে, আবার ওটাকে দিয়েই কাজ চালায়। আগের বার রোজাতেও এই সমস্যা হয়েছিল, এবারও সেই একইভাবে জল সমস্যা। রোজার মাসে গোটা মুরারইয়ে এত জল সমস্যা যে বলার নেই। এর আগেও বলা হয়েছিল বিডিও সাহেবকে কোন কাজ হয় নি। এবারও বিডিও সাহেবকে বলা হয়েছে কোন কাজ হয় নি। জলের যে ফিল্টার আছে, সেটা এত আবর্জনায় পরিপূর্ণ যে ওই জল খাওয়ার উপযুক্ত নয়। সেই কারনে আমরা রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদে সামিল হয়েছি। প্রশাসনের কাছে আবেদন যাতে রোজার মাসে এই জল কষ্ট সত্বর মিটে যায়”।
মুরারই -১ ব্লকের জুনিয়র ইঞ্জিনীয়ার রণজিৎ মণ্ডল বলেন, “তিনটি পাম্প মেশিনের মধ্যে দুটো বিকল। বাকি একটা ঠিক আছে। একটা পাম্প ঠিক করার কাজ চলছে। একটা পাম্পে অর্ধেক জল উঠছে। বুধবার থেকে নতুন পাম্প আসবে। সবগুলোয় ঠিক করা হবে। মঙ্গলবার চারটের মধ্যে জল দেওয়ার কাজ শুরু হবে”।  ৪৫ হাজার গ্যালন জল মুরারই নতুন বাজার, মুরারই অঞ্চল, ভাদিশ্বরে সরবরাহ করা হয়। এই বিশাল প্রজেক্ট জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী বিভাগের কাছ থেকে পঞ্চায়েত সমিতির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বছর দুয়েক আগে। যার জন্য পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকে মেন্টেনান্স ও কর্মী বেতন বাবদ ১ লক্ষ টাকা মাসিক খরচ হয়। একবার মাত্র ৬ লক্ষ টাকা মেন্টেনান্স পাওয়া গেছে।  এই বিপুল ব্যয়ের ভার ও পরিকাঠামো পঞ্চায়েত সমিতির নেই। পাম্পের স্পার্টস মূর্শিদাবাদ যেতে হয় আনতে। সদ্য সারানো পাম্প পুড়ে যায়। তিনটি পাম্পের মধ্যে একটিতে লেয়ার সমস্যার কারনে অল্প জল ওঠে, বলে জানান রণজিৎ বাবু। একই কথা বলেন মুরারই-১ ব্লকের বিডিও নিতীশ ভাস্কর পাল বলেন,  তিনটে পাম্প খারাপ হওয়ার জন্য মঙ্গলবার এলাকার বাসিন্দারা জল পান নি। তাই তাঁরা কাজে বাধা দেন। কিন্তু খারাপ হলে সঙ্গে  সঙ্গে স্পার্টস পাওয়া যায় না। এখন সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু এই কাজ জন স্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের। কিন্তু তাদের চরম উদাসীনতা। এত বড় প্রজেক্ট পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষে সম্ভব নয়। মুরারই-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শাহনাওয়াজ বেগম বলেন, এত বড় প্রজেক্ট গোটাটাই জন স্বাস্থ্য ও কারিগরী দপ্তরের কাজ। কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। আমাদের নিজস্ব ফান্ড থেকে চালাতে হচ্ছে। কারন জল প্রয়োজনীয় জিনিস। এখন তো রোজার মাস। তাই পাম্প ঠিক করার পাশাপাশি, জলের ট্যাঙ্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এব্যাপারে চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য জেলায় আমরা কথা বলব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only