শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৯

সম্প্রীতির ভারত­: নিজের ড্রাইভারের বদলে রোযা রাখছেন হিন্দু অফিসার


 সম্প্রীতি আর সহিষ্ণুতার কথা বলে আমাদের ভারতবর্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে গোটা দেশেই যখন বেড়ে চলছে সাম্প্রদায়িক হিংসা-হানাহানির ঘটনা– সেই পরিস্থিতিতে সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়লেন মহারাষ্ট্রের বনবিভাগের এক সরকারি আধিকারিক। তাঁর গাড়ির মুসলিম চালক রোযা রাখতে পারছেন না। তার পরিবর্তে নিজেই রোযা রাখছেন ড্রাইভারের হয়ে। যদিও ইসলামি শরীয়ত অপরের ইবাদাত করে দেওয়ার ব্যাপারটি মান্যতা দেয় না। তবু এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সহমর্মিতার চিত্রটি।
ঘটনাটি মহারাষ্ট্র-এর বুলধানা এলাকার। ডিউটি করার পর রোযা রাখা সম্ভব হচ্ছিল না বনবিভাগের আধিকারিক সঞ্জয় এন মালির গাড়ির চালক জাফরের। সেকথা জানতে পেরে নিজের ড্রাইভারের পরিবর্তে রোযা রাখার সিদ্ধান্ত নেন মহারাষ্ট্রের এই ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার। দীর্ঘদিন ধরে সঞ্জয়ের ড্রাইভারের পদে চাকরি করছেন জাফর। গত ৬ মে– যেদিন সন্ধ্যায় রমযানের চাঁদ দেখা গিয়েছিল– সেদিন কথায় কথায় সঞ্জয় জাফরকে জিজ্ঞেস করেন– জাফর রোযা রাখবেন কি না। উত্তরে জাফর জানান– সে ডিউটিতে রয়েছে আর তার শরীরও রোযা রাখার মতো অবস্থায় নেই। এই কথা শুনে সঞ্জয় জানান– জাফরের পরিবর্তে তিনিই এই রোযা পালন করবেন। আর সেই কথা মতো কাজও করলেন।
এই রমযানে রুটিনটাই পালটে গেছে সঞ্জয়বাবুর। তিনি জানাচ্ছেন– এখন প্রতিদিন ভোর চারটের আগেই উঠে পড়ি এবং কিছু খেয়ে নিই (সেহরি)। তারপর সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত রোযা রেখে ইফতার করি।  নিজের রোযা রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন– ‘আমি মনে করি প্রত্যেক ধর্মই আমাদের ভালো কিছু শেখায়। আমাদের সবার উচিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়ানোর জন্য কিছু -না-কিছু করা। আমাদের উচিত মনুষ্যত্বকে আগে দেখা– তারপর ধর্মকে। রোযা রেখে তিনি বেশ শারীরিক উপকারিতাও পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এই আধিকারিক। রোযা রেখে নিজেকে বেশ তরতাজা লাগে– অভিমত সঞ্জয়ের। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only