সোমবার, ১৩ মে, ২০১৯

সেলিম সেখের মৃত্যু রহস্যে নয়া মোড়

দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ১৩ মেঃ  সেলিম সেখের মৃত্যু রহস্যে নয়া মোড়। সেলিম সেখের পরিবারের দাবি, তাঁরা আগে জানতে পারেনি কোন অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে রাত্রি ৮টা নাগাদ এক ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু গ্রামের এক ব্যক্তির কথায় সেই রহস্যের সমাধান হয়েছে বলে তাদের দাবি। মৃতের ভাগনে রাণা সেখের দাবি, ঘটনার দিন যে দুই ব্যক্তির সাথে মামা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল তাদের চিনতে পেরেছে গ্রামের বাসিন্দা গিয়াসউদ্দিন সেখ। তিনিই একসাথে সেলিম সেখের সাথে গ্রামের বাসিন্দা তথা অভিযুক্ত মহিলার নিজের দেওয়র শোভন বায়েন ও খুড়তুতো দেওয়র তাপস বায়েনের সাথে এক দোকানে বিড়ি কিনতে কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়ায়। সেদিন রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে মাঝারিপাড়া হাটতলায় একটা দোকানে বসেছিলেন গিয়াসউদ্দিন সাহেব। তিনিই দেখেন ওই তিনজন বিড়ি কিনে তারাপীঠ রোডের দিকে চলে যায়। গিয়াসউদ্দিন তাঁদের জিজ্ঞেস করেন কোথায় যাচ্ছ? তারা উত্তর দেয়, কাজ আছে। মাঝারি পাড়ার বাসিন্দা তথা মৃতের মামা রাণা সেখের দাবি, মাঝারি পাড়ার এক বিবাহিত মহিলার সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল মামা সেলিম সেখের। মাঝে সম্পর্কের অবণতি হওয়ায় মামা যে বাড়িটি ঐ মহিলাকে তৈরী করে দিয়েছিল, সেখানে তালা মেরে তাকে বের করে দেয়। তারপর রামপুরহাট থানার অন্তর্গত বাপের বাড়ি খরবোনায় ভাইয়ের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন ওই মহিলা। ওই মহিলার স্বামী নিরুদ্দেশ। ইতিমধ্যে তাঁদের মধ্যে ফোন হয়েছিল বলে মৃতর পরিবারের দাবি। মৃতের ভাই জানে আলম ও ভাগনে রাণা সেখ জানান, পুলিশ তাঁদের অভিযোগ নেয় নি। তবে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মহিলার নিজের দেওর শোভন বায়েন ও খুড়তুতো দেওর তাপস বায়েনের সাথে মৃতকে শেষ দেখা গেছিল সেলিম সেখের মৃত্যুর আগের রাতে। সেলিম সেখ নিজে বিবাহিত ছিল। তাঁর স্ত্রীর নাম ফুলি বিবি। তিন ছেলে লায়েক সেখ, সামিম সেখ , কিরণ সেখকে নিয়ে তাদের সংসার। তাঁর দাবি, তাঁর স্বামীকে খুন করে মারা হয়েছে। পুলিশকে জানানোর পর থেকেই অভিযুক্ত শোভন ও তাপস বায়েনকে পাওয়া যাচ্ছে না, বলে দাবি রাণা সেখের। তাপস বায়েনের আরেক দিদি কাজল বায়েন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। তাই তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগে থেকে সেলিম সেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তির নিখোঁজকে কেন্দ্র করে পরিবারের তরফে মল্লারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। কিন্তু সেই ব্যক্তির দেহ রামপুরহাটের চিতুরি গ্রাম এলাকা থেকে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের তরফে দাবি করা হয় ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে। এই ব্যাপারে রবিবার দুপুরে পরিবারের তরফে রামপুরহাট থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করতে আসে। কিন্তু রামপুরহাট থানার পুলিশ  মৌখিকভাবে বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেয়। রবিবার সন্ধ্যেয় রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সৌম্যজিত বড়ুয়া জানান,  কোন খুনের অভিযোগ কেউ করেনি। তবে একটি অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের করে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান কোন খুনের ঘটনা ঘটেনি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। মৃত সেলিম শেখের বাড়ি বীরভূমের মল্লারপুর থানার লছিয়াতোর গ্রামে। চিতুরি গ্রামের কাছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের অনুমান এটা দূর্ঘটনা। তবে পরিবারের দাবি, রামপুরহাট থানার খরবনা গ্রামের অন্য সম্প্রদায়ের এক মহিলার সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তারাই তাঁকে ডেকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করেছে। পুলিশ মৃতের দেহের পাশে যে  মোবাইল উদ্ধার হয়েছে তার কল লিস্ট ঘেঁটে দেখছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only