বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯

তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ধারা অব্যাহত বীরভূমে: থামল গেরুয়া ঝড়

দেবশ্রী মজুমদার, বোলপুর, ২৩মেঃ  থামল গেরুয়া ঝড় বীরভূমে!  সরকারিভাবে ঘোষণা না হলেও, পরিসংখ্যান প্রমাণ করে জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ধারা অব্যাহত।  গণনাকেন্দ্রের বাইরে  সবুজ আবির ও জয়ের উল্লাস দেখা যায় উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। বীরভূম লোকসভার পাশাপাশি বোলপুর লোকসভায় আনুমানিক  ৯১ হাজার  ভোটের মার্জিনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী রামপ্রসাদ দাসকে পরাজিত করেন। বিজয়ী তৃণমূল প্রার্থী অসিত মাল অবশ্য  তাঁর এই জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের জয় বলে মন্তব্য করেন। রাজ্যে বিজেপির উত্থান নিয়ে অবশ্য কোন মন্তব্য করতে চান নি তিনি। এদিন বিকেলে বোলপুর দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। একইভাবে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল তাঁর আগের মন্তব্য থেকে সরে এসে বলেন, রাজনীতিতে অনেক কথায় বলতে হয়। তাই বলেছিলাম বিজেপি ১০০ পেরোলে রাজনীতি ছেড়ে দেব । বা বাবুল সুপ্রীয় জিতলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমি রাজ্যের রাজনীতি করি না। আমি জেলার রাজনীতি করি। জেলার সব কর্মীদের ধন্যবাদ জানায়।    

 অসিত মাল বুধবার বিকেল থেকেই বোলপুরে চলে এসেছিলেন। তবে তাঁর জয়ের যতটা মার্জিন অনুব্রত মণ্ডল আশা করেছিলেন, ততটা বাড়ে নি। কারন হিসেবে দলীয় তরফে বাম দল কে একহাত নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। বাম প্রার্থী রামচন্দ্র ডোম এদিন সকাল থেকেই  বোলপুর গণনাকেন্দ্রের মিডিয়া সেন্টারে হাজির ছিলেন। টিভির দিকেই তাঁর নজর ছিল। প্রশ্ন করতেই নিজের মুখে তিনি স্বীকার করেন,  বাম ফ্রন্টের ভোট বিজেপিতে সুয়িং করায়  বিজেপির ফল  ভালো হয়েছে।  না হলে আমরা বীরভূমে দ্বিতীয় স্থানে থাকতাম। আমাদের ভোটাররা বিজেপিকেই ভোট দিয়েছে। তাঁদের ভোটার নেই একথা মানতে চান নি তিনি। আসলে এবার ভোট একটা খুব খারাপ দিকে গেছে। ভোট পোলারাইজড হয়ে গেছে। রাজনীতির এই দিকটা খুব খারাপ। তবে তারা ঠিক মত লড়াই দিতে পারে নি জেলায়।  বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় অবশ্য বলেন, বীরভূম লোকসভার রামপুরহাট, নলহাটি, হাসন সব জায়গায় আমদের দল ভালো ফল করেছে। তবে মুরারইয় বিধান সভায় মাদের ফল তুলনামূলকভাবে খারাপ হয়েছে। ওই এলাকার ফল থেকে বোঝা যায়, সংখ্যালঘু মানুষ এখনও আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।  জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি অভিজিৎ সিনহা জানান, বামফ্রন্ট লড়াইয়ের ময়দানে না থাকায় বিজেপির ভোট বেড়েছে। জেলায় বিজেপির কোন সংগঠন নেই।  সপ্তম রাউণ্ডের নির্বাচনী ফলে দেখা গেছে, বোলপুর লোকসভার মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম, বোলপুর, নানুর, বিধান সভায়  তৃণমূল ভালো ফল করে। লাভপুর, কেতুগ্রাম, ময়ুরেশ্বরে তৃণমূল লিড পেলেও ভোট সামান্য কমেছে। অন্যদিকে,  ওই এলাকাগুলিতে বিজেপির ভোট বেড়েছে।  অষ্টম রাউণ্ডে ওই বিধানসভা এলাকাগুলিতে তৃণমূল একইভাবে ভালো ফল করেছে। অন্যদিকে, দশম রাউণ্ডে শতাব্দী রায় বিজেপি প্রার্থী থেকে ৩১ হাজার ৫৮৭ ভোটে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়।   গত লোকসভা নির্বাচনে বোলপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন অধ্যাপক অনুপম হাজরা। তিনি সিপিএমের রামচন্দ্র ডোমকে ২৩৬,১০৯ ভোটে পরাজিত করেন। বিজেপি প্রার্থী প্রাক্তন আমলা কামিনী মোহন সরকার পেয়েছিলেন ১৯৭,৪৭৪ ভোট। এবার প্রার্থী করা হবে না জানতে পেরে আগেই দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করেন অনুপম। তিনি এবার যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী ছিলেন। ফলে এবার বোলপুর লোকসভায় তৃণমূল প্রার্থী করা হয় হাঁসন বিধানসভার কেন্দ্রের কংগ্রেসের পাঁচ বারের বিধায়ক  বিধায়ক অসিত মালকে। অসিত মালের রাজনৈতিক জীবনে আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৭৭ সালে। সেবার হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ১৯৮২ সালে কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করলেও ফের পরাজিত হন। ১৯৮৭ সালে ফের কংগ্রেস টিকিটে লড়াই করে প্রথম বিধায়ক হন। পরের দুবার পরাজিত হন আর সি পি আইয়ের কাছে। ১৯৯৬ সালের পর তাঁর জয়ের আশ্বমেধের ঘোড়া থামানো যায়নি। ২০০৯ সালে বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সিপিএমের রামচন্দ্র ডোমের কাছে ৯২৮৮২ ভোটে পরাজিত হন। ২০১১ সালে কংগ্রেস – তৃণমূল জোট গড়ে হাত প্রতীকে লড়াই করেন হাঁসনে। সেবারও জয়ী হন। এই জয়ের পর  তৃণমূলের  সাথে তাঁর সম্পর্ক ঘনিষ্ট হয়। রাজ্য খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয়। ২০১২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের ছয় মন্ত্রী তৃণমূল সরকার থেকে বেরিয়ে এলেও অসিতবাবু চেয়ারম্যান পদ ছাড়েননি। এনিয়ে দলের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন। এরপরেই ২০১৪ সালে ২১ জুলাই শহিদ মঞ্চে তৃণমূলে যোগদান করেন। অবশ্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়ের সঙ্গে অসিত মালের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কারন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভা নেত্রী ছিলেন, সেই সময় অসিত মাল ছিলেন রাজ্য সহসভাপতি। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছের লোক ছিলেন অসিতবাবু।  ২০১৬ সালে হাঁসন কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেস প্রার্থী মিল্টন রশিদের কাছে পরাজিত হন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only