শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯

সীমান্ত শহর বনগাঁয় তৃণমূলের মহামিছিলে মানুষের ঢল, বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার

এম এ হাকিম, বনগাঁ :  উত্তর ২৪ পরগণার সীমান্ত শহর বনগাঁয় তৃণমূলের মহামিছিলে কয়েক হাজার মানুষ শামিল হলেন। শনিবার বিকেলের ওই মিছিলে বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সমস্ত পঞ্চায়েত ও পৌর এলাকার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা অংশ নেন।

বনগাঁর সাবেক বিধায়ক ও জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গোপাল শেঠ ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে বলেন, কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ ওই মিছিলে ছিলেন।

সম্প্রতি বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও বনগাঁ পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপরে তৃণমূলের ওই মহামিছিলে দলটি বনগাঁ শহরে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সমর্থ হওয়ায় তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তৃণমূল নেতা গোপাল শেঠ বলেন, ‘নব্যবিজেপির দাপাদাপিতে বনগাঁর মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস ও ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করা হয়েছে। যত্রতত্র বাইকবাহিনী দাপিয়ে বেড়ানোয় মানুষজনের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে পুরোনো ও বর্তমান তৃণমূলের সমস্ত কর্মী-সমর্থকরা মাঠে নেমে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। কলকাতায় আগামী ২১ জুলাইয়ের প্রস্তাবিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে ওই মহামিছিল বনগাঁয় তৃনমূলকে নতুনভাবে শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।’

তৃণমূল নেতা গোপাল শেঠ বলেন, ‘বিজেপি বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, বিভিন্ন  লোকের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে ২০১১ সালের আগের অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মীরা সতস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’

অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি রতন ঘোষ ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে বলেন, মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোনে পুরোনো নতুন সমস্ত কর্মীদেরকে ডাকা হয়েছিল। সকলেই দলবেঁধে ‘নীলদর্পণ’ ভবনে উপস্থিত হওয়ায় সবাইকে জায়গা দেওয়া যায়নি। পরে বিশাল মিছিলে সবাই অংশ নেন। মিছিলে উপচেপড়া ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মতো।

রতন বাবু বলেন, ‘বনগাঁয় ভারতীয় জনতা পার্টি এখন ‘ভারতীয় মস্তান পার্টি’তে পরিণত হয়েছে। যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড খুব খারাপ। এদের মধ্যে কেউ কেউ খুন, চোরাচালান, গরু পাচার-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত।’

রতন ঘোষ বলেন, ‘বিধায়ক ও যে বারো জন ‘গাদ্দার’ দল ছেড়ে বিজেপিতে গেছে তাদের সঙ্গে কেউ যাবে না আজ সেই অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে সবাই। আগামী দুই মাসের মধ্যে তৃমূলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২১ জুলাইকে সামনে রেখে আগামীদিনে বিভিন্ন জায়গায় পথসভা-মিছিল করা হবে। এবং বনগাঁয় রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে এনে বড় সমাবেশ করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও বনগাঁ মহকুমার মানুষদের মধ্যে উন্নয়নের নয়াবার্তা দেওয়া হবে।’

রতন বাবুর দাবি, এটা মোটেও দলের দুঃসময় নয়। যারা চলে যাওয়ার তারা চলে গেছে, ‘বেঈমান’ চিহ্নিত হয়ে গেছে। এবার তাঁরা দলটা সুন্দরভাবে তৈরি করতে পারবেন। বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমাদের লড়াই ছিল, আছে এবং থাকবে বলেও জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি রতন ঘোষ মন্তব্য করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only