মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯

বাংলায় বিকাশ ছেড়ে নিকেষের রাজনীতি

নির্বাচনের আগে সুশাসনের কথা বলেছিল বিজেপি। রাজ্যবাসীকে উন্নয়নের স্বপ্নও দেখিয়েছিল তারা। নির্বাচন মিটতেই ক্রমেই স্ব-মহিমায় ফিরছে গেরুয়া শিবির। উন্নয়নের বদলে যাদের কাছে উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার মডেল অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। বিকাশের প্রতিশ্রুতির থেকে নিকেশের রাজনীতিই যাদের পছন্দের। সোমবার রাজ্যের দুই প্রথম সারির নেতার গলায় সেই নিকেশের রাজনীতির কথাই শোনা গেল। এদিন বাঁকুড়ায় পুলিশ সুপারের দফতর ঘেরাও অভিযানে উত্তরপ্রদেশের কায়দায় এনকাউন্টারের নিদানই দিয়েছেন  বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন– কাটমানি রুখতে পুলিস প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে এনকাউন্টার করুন। রাজ্যে বিজেপির অন্যতম প্রথম সারির নেতা সায়ন্তণ বসুর গলাতেও এ দিন ছিল একই সুর। তিনি বলেন, হয় গ্রেফতার, নয় এনকাউন্টার। ক্ষমতায় এলে উত্তরপ্রদেশ মডেল চালু  হবে এরাজ্যেও। অপরাধীদের আর কোনও সুযোগ নয়।
 উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতীনিয়ন্ত্রণে উত্তর প্রদেশে এনকাউন্টারের নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এরপর এই নিয়ে কম বিতর্ক হয় নি। এমনকী ওই রাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষকে খতম করতে এনকাউন্টারের অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ঘটনায় অস্বস্তিতেও পড়তে হয়েছে যোগী সরকারকে। এই ঘটনার জল গড়িয়েছে সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত। কিন্ত তা স্বত্ত্বেও এই বিতর্কিত উত্তর প্রদেশ মডেল আঁকড়েই বাংলায় শাসনের স্বপ্ন দেখছে  বিজেপি। এর আগেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি বাংলায় এনকাউন্টারের হুংকার দিয়েছিলেন।
এ দিন বিজেপি নেতাদের এই বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এই নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই আক্রমণ করছেন তিনি। এনকাউন্টার ইস্যুতে মুখ খুলতে গিয়ে সরাসরি অমিত শাহকে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ বলে কটাক্ষ করেন ফিরহাদ। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ– রাজ্যে গুজরাত-উত্তর প্রদেশ মডেল নিয়ে আসতে চাইছে বিজেপি।
সোমবার ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট। এনকাউন্টার করা তাঁর স্বভাব ও অভ্যাস।’ মন্ত্রীর দাবি, বাংলাতেও একইভাবে এনকাউন্টার করতে চায় বিজেপি। তাঁর কথায়,  ‘ভাটপাড়ায় বোমা মেরে– গুলি করে দু’জনকে মেরে দিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় ওরা মানুষ খুন করছে।’ পাশাপাশি ইশরাত জাহানের প্রসঙ্গও এদিন তুলে এনেছেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর দাবি, গুজরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন অমিত শাহের নির্দেশেই ইশরাত জাহানকে এনকাউন্টার করে মারা হয়েছিল। তাঁর কথায়–  ‘ইশরাত জাহানকে এনকাউন্টার করার জন্য ৭০ দিন সিবিআইয়ের জেল হেফাজতে থেকেছেন অমিত শাহ। এখন তিনিই যেহেতু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাই প্রতিপক্ষকে নিকেশ করে খুব সহজেই বেঁচে যাবেন ওরা। ’
 বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীও এদিন এই এনকাউন্টারের রাজনীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এনকাউন্টারের রাজনীতি সমর্থন করি না। এই সংস্কূতি বাংলার মানুষ কখনও মেনে নেবে না। অন্যদিকে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, বিজেপি হিংসা ও এনকাউন্টারের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা এই রাজনীতির নিন্দা করছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only