মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৯

আবেদনকারী মৎসজীবীদের বোর্ড রেজিস্ট্রেশন খতিয়ে দেখার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

পারিজাত মোল্লা 
সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় সিংহভাগ বাসিন্দার মূল জীবিকা মাছ ধরা। মাছ ধরার জন্য যন্ত্রচালিত নৌকা ( ভুটভুটি)  দীর্ঘদিন ধরে রমরমিয়ে চলছে। কেরোসিন / ডিজেল চালিত এই ভুটভুটির ইঞ্জিন থেকে দুষিত কালো ধোঁয়া পরিবেশকে আরও দূষণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই পরিবেশ আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ এই যন্ত্রচালিত নৌকা। তার বদলে হাত চালিত নৌকায় মাছ ধরার নিয়ম এনেছে সরকার। সেজন্য বোর্ড রেজিষ্ট্রেশন শংসাপত্র দরকার  মৎসজীবিদের নৌকায় মাছ ধরতে গেলে। স্থানীয় বিট অফিসার, রেঞ্জ অফিসার এবং সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ অফিসে আবেদন করতে হয় বোর্ড রেজিষ্ট্রেশন শংসাপত্র পেতে গেলে। তবে সবজায়গাতেই সিন্ডিকেটের বাঁসা, ঘুষ না দিলে মিলবে কিভাবে?  ঠিক এইরকমই সুন্দরবনের কুমিরমারি অঞ্চলের  দুই মৎসজীবি   বনমালী মিস্ত্রি এবং দিলীপ হালদার স্থানীয় কুমিরমারী বিট অফিসে যায় আবেদন জমা দিতে। গেলে কি হবে?  অফিস চত্বরে থাকা দালালরা ওই মৎসজীবিদের জানিয়ে দেয় - ফেলো কড়ি মাখো তেল অর্থাৎ ঘুষের কথা। বোর্ড রেজিষ্ট্রেশন শংসাপত্র পেতে গেলে কি কি ডকুমেন্ট লাগবে, তার উল্লেখও নেই। অভিযোগ, বোর্ড রেজিষ্ট্রেশন শংসাপত্র তৈরি করার নামে গোটা সুন্দরবন এলাকায় চলছে সিন্ডিকেটরাজ। যেখানে পুলিশ প্রশাসন বন দপ্তরের একাংশ জড়িত বলে অভিযোগ। ২০১৯ সালে মার্চ মাসে সুন্দরবনের দুই মৎসজীবি বনমালী মিস্ত্রি এবংদিলীপ হালদার কুমিরমারী বিট অফিস, কুমিরমারী রেঞ্জ অফিস এবং ক্যানিংতে অবস্থিত সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ অফিসে বোর্ড রেজিষ্ট্রেশন শংসাপত্র পেতে আবেদন করে থাকে। এতে কিছু না হওয়া এরা আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরীর হাত ধরে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের ৮ নং কোর্টে বিচারপতি দেবাংশ বসাকের এজলাসে এই মামলাটি উঠে। বিচারপতি তাঁর নির্দেশিকায় জানিয়ে দেন - বোর্ড রেজিষ্ট্রেশন শংসাপত্র পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে অবিলম্বে খতিয়ে দেখতে  হবে। সেইসাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে। এহেন আদেশনামায় মামলাকারীদের আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরী বলেন - "বোর্ড রেজিষ্ট্রেশন শংসাপত্র পাওয়ার জন্য নিদিষ্ট কোন গাইডলাইন নেই, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে ধোয়াশা রয়েছে।" সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার ওই দুই মৎসজীবি জানান - আমাদের এলাকায় বেশিরভাগ মানুষই গরীব, যারা প্রাণের ঝুকি নিয়ে বাঘ কুমিরের তাড়া খেয়ে মাছ ধরতে যায়। এইসব মানুষদের কাছ থেকে বোর্ড রেজিষ্ট্রেশন শংসাপত্র করার নামে সিন্ডিকেটটি বন্ধ হোক।                                                                                                                      

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only