মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৯

হাবিবুরের আইটি সংস্থা বিশ্বের ৩০০টি সংস্থার সঙ্গে কাজ করে চলেছে

লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন। নানান চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে পৌঁছে গিয়েছেন নিজের অভীষ্ট লক্ষ্যে। ভুল প্রমাণ করে চলেছেন প্রচলিত প্রবাদ-অপবাদ ‘বাঙালি আদতে একটি ব্যবসা ভীরু জাতি’। আল আমীন মিশনের কৃতী প্রাক্তনী ৩৪ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান দেখিয়ে দিয়েছেন– লক্ষ্য স্থির রেখে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিরলস প্রচেষ্টা করলেই সফলতা হাতছানি দেয়।

হাবিবুর রহমানের জন্ম নদীয়া জেলার করিমপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম লালনগরে। আব্বা মোহর আলি সর্দার পেশায় ভাগচাষী। নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান হাবিবুর স্থানীয় নারায়ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পরে ভর্তি হন আল আমীন মিশনের খলতপুর শাখায়। আল আমীন মিশন থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ইনফর্মেশন টেকনোলোজি বিষয়ে ভর্তি হন কোলকাতার টেকনো ইন্ডিয়া কলেজে। ২০০৯ সালে বি. টেক ডিগ্রি অর্জন করার পরে যোগ দেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। আড়াই বছরের চাকুরি জীবনে দাপ্তরিক কাজের সাথে সাথে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় গ্রাফিক্স ডিজাইনিং– ওয়েব ডিজাইনিং– কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এবং ম্যানেজমেন্টে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। এই পারদর্শিতাই তাঁকে উচ্চাকাক্ষী করে তোলে। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন চাকুরী ছেড়ে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার।  চাকুরি থেকে ইস্তফা দেন এবং শুরু করেন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘু নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা হাবিবুর রহমানের কাছে মোটেও সহজ কাজ ছিল না। প্রাথমিক পর্যায়ে নিজের পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনদের অনেকেই তার এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। যদিও আলোচনাসমালোচনা সমস্তকিছুই উপেক্ষা করে হাবিবুর তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের উপর অনড় থাকেন। ২০১২ সালের ১৫ই আগস্ট কোনো সহকর্মী ছাড়াই স্বাধীনভাবে একক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা করে ফেলেন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সপ্রো ল্যাব। উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব– ব্যাপক প্রতিযোগিতামূলক বাজার এবং অপর্যাপ্ত আর্থিক সঙ্গতির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র বিষয়ের উপর পারদর্শিতা– আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমকে পাথেয় করে তিনি নিজের সংস্থাকে পৌৗঁছে দিয়েছেন সফলতার শিখরে। এক্সপ্রো ল্যাব সংস্থাকে উন্নীত করেছেন এক্সপ্রো ল্যাব ইনফোটেক প্রাইভেট লিমিটেড  সংস্থায়।
বর্তমানে এক্সপ্রো ল্যাব ইনফোটেক প্রাইভেট লিমিটেড সন্তোষজনকভাবে বিশ্বব্যাপী ৩০০টিরও বেশি সংস্থার সাথে কাজ করে চলেছে। সফলতার সাথে তৈরি করেছে ৫০০টিরও বেশি ওয়েবসাইট। শূন্য্ থেকে শুরু হওয়া এক্সপ্রো ল্যাব বর্তমানে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট– ওয়েব ডিজাইনিং– অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিট্যাল মার্কেটিংএ পশ্চিমবাংলার সেরা সংস্থা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। সংস্থটিতে বর্তমানে ২৫ জন অভিজ্ঞ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারসহ ৩০জন কর্মী কর্মরত।
প্রান্তিক অঞ্চল থেকে উঠে আসা হাবিবুর রহমান শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেই থেমে থাকেননি। আন্তরিকতার সাথে ভেবেছেন মধ্যমেধার প্রান্তিক যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও। সরকারি চাকুরিই যে বেকার সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ নয়– উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে কর্মসংস্থান সম্ভব এই ভাবনা থেকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন এক্সপ্রো ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজি এন্ড ম্যানেজমেন্ট। অত্যন্ত আশাপ্রদ বিষয় হল– এই প্রতিষ্ঠানে প্রথম বছরে মোট ২০জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হন এবং প্রশিক্ষণ শেষে তারা প্রত্যেকেই এখন দেশের নামীদামী সংস্থায় চাকুরীর সুযোগ পেয়েছেন। অর্থাৎ প্রথম বছরেই এক্সপ্রো ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড টেকনোলোজির সফলতার হার ১০০ শতাংশ।
যারা মনে করেন বাঙালি ব্যবসা বিমুখ জাতি– বাঙালি চাকুরির মাধ্যমে নিশ্চিত আরামপ্রদ জীবন অতিবাহিত করার খোঁজে থাকেন আল আমীন মিশনের প্রাক্তনী হাবিবুর রহমান তাঁর অর্জিত সফলতার মাধ্যমে তাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি যেভাবে সফলতা ছিনিয়ে এনেছেন তা যেমন অত্যন্ত গর্বের– একইসাথে যুবসম্প্রদায়ের জন্যও যথেষ্টই অনুপ্রেরণার। নিজের সফলতার চাবিকাঠি প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান বলেন, সদিচ্ছা ও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে লক্ষ্য স্থির রেখে চলমান পথের একমাত্র গন্তব্যই হল সফলতা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only