বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯

বিফ নিয়ে যাওয়ার সন্দেহে বেধড়ক মার দুই মুসলিমকে


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার রাজ্যসভায় বলেছেন ঝাড়খণ্ডে লিঞ্চিংয়ের ঘটনায় তিনি মর্মাহত। এর আগেও একাধিকবার লিঞ্চিংয়ের ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু– কে শোনে কার কথা। মোদি সরকারের জমানায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও গো-রক্ষকদের দৌরাত্ম্য যে দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে তা বলাইবাহুল্য। অনেকেই বলছেন– প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের ঘটনার নিন্দা করলে কি হবে– এই সব ঘটনার পিছনে বিজেপির স্থানীয় নেতাদের মদদ রয়েছে। আর সেজন্যই গো-রক্ষক ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আর এবার এই একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল গুরুগ্রামে। গুরগাঁওয়ের নাম পাল্টে হিন্দুত্বের ছোঁয়া দিতে যোগী আদিত্যনাথ সরকার এর নামকরণ করে গুরুগ্রাম। মহাভারতের গল্পে বর্ণিত গুরু দ্রোণাচার্যের স্মরণে এই নামকরণ। সেই গুরুগ্রামেই এবার বেধড়ক মারধর করা হল দুই মুসলিমকে। শুধুমাত্র বিফ নিয়ে যাওয়ার সন্দেহে তাদের মারধর করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ইসলামপুর গ্রামে। গো-মাংস নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই অভিযোগে স্থানীয় গো-রক্ষকদের একটি সংগঠন দু’টি গাড়ি আটকায়। গাড়িতে থাকা শাথিল আহমেদ ও তৈয়েদ নামে দুই মুসলিমকে মারধর শুরু করে। গাড়িতে থাকা আরও দু’জন অবশ্য পালাতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই দু’জনকে গ্রেফতার করে। হামলাকারীরা অবশ্য পুলিশকে দেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ– পুলিশ চাইলে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে পারত। কিন্তু– সেই চেষ্টা তারা করেনি। তাই খুব সহজেই গো-রক্ষরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানিয়েছে– তারা ‘হরিয়ানা গৌবংশ সংরক্ষণ ও গো-সম্বর্ধন আইন ২০১৫’ অনুযায়ী এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আরও দু’জনকে খোঁজের চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশের দাবি– গাড়ি দু’টিতে বিফ রাখা ছিল। সেগুলি দিল্লি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গাড়ি দু’টি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ– পুলিশ আক্রান্তদের গ্রেফতার করল। কিন্তু– যারা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে এই তাণ্ডব চালাল তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিল না। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only