বুধবার, ১২ জুন, ২০১৯

কাঁকিনাড়ায় নিহত ২, আতঙ্কে এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি সংখ্যালঘুদের

বিশেষ প্রতিবেদক­
সন্দেশখালিতে নিহত ৩ রাজনৈতিক কর্মী ও চার জনের আপাতত নিখোঁজ থাকা নিয়ে শুধু পশ্চিম বাংলা নয়, দিল্লির রাজনীতিও বিজেপি উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই ঘটনাকে সামনে রেখে পশ্চিম বাংলার রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকেও দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করার পর বলেছেন– প্রয়োজনে পশ্চিমবাংলায় ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। নিহত ওই ৩ জনের মধ্যে দু’জন সংখ্যাগুরু বিজেপি সমর্থক বলে দাবি করা হয়েছে। আর একজন সংখ্যালঘু কাইয়ুম মোল্লাকে তৃণমূলের সমর্থক হিসেবে পেশ করা হয়েছে। দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালাতে এলে বিপক্ষের গুলিতে কাইয়ুম মোল্লা নিহত হন। বিজেপি তাদের সমর্থক দাবি করে দুটি মৃতদেহকে রাজধানী কলকাতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে পুলিশি বাধায় ব্যর্থ হয়। সংখ্যালঘু কাইয়ুম মোল্লার লাশ নিয়ে অবশ্য তেমন কোনও হইচই হয়নি। তাঁর লাশকে কবরস্থানে শান্তির সঙ্গে দাফন করে দেওয়া হয়।  তৃণমূল নেতারা আশ্বাস দিয়েছেন, নিহত পরিবারকে সাহায্য করা হবে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা বলছেন, শুধু তৃণমূলের কর্মীদের দ্বারা এ কাজ সংঘটিত হয়নি। তারা এর মধ্যে রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের সংযোগ আবিষ্কার করেছেন। এছাড়া জামাতি-জেহাদিদেরও হাজির করেছেন। এই বাহিনীই নাকি বিজেপির ওই দু’জন কর্মীকে হত্যা করেছে। এদিকে– নিহত এক বিজেপি কর্মীর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন– রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়– বরং মেছো ঘেরি দখলের রাজনীতিই রয়েছে এই হত্যার পিছনে। জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা। প্রায় প্রতি বছরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এই মেছো ঘেরির দখলের চেষ্টায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। যাই হোক– এতে কিন্তু রাজনীতির বলি হয় এসসি/এসটি ও বিশেষ করে সংখ্যালঘুরা।

কাইয়ুম মোল্লার পর আরও দু’জন নিরাপরাধ সংখ্যালঘু বিজেপি সংশ্লিষ্ট দুষ্কূতীদের বোমায় নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকিনাড়ার বারুইপাড়ার ১৩নং ওয়ার্ডে। নিহত ও আহতরা নিজের বাড়িতেই আক্রান্ত হন। এঁরা হচ্ছেন মুহাম্মদ হালিম (৬০) এবং মুহাম্মদ মুস্তাক (৫৫)। রাজনৈতিক প্রশ্রয়প্রাপ্ত দুÜৃñতীদের নিক্ষিপ্ত বোমায় এঁরা নিহত হন। এছাড়া মুহাম্মদ হালিমের স্ত্রী ও একটি সন্তানও গুরুতর জূম হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সংখ্যালঘু পাড়ায় এই প্রাণঘাতী আক্রমণ চালানো হয়। মু্যূমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন– ভাটপাড়ায় সোমবার রাতে দু’জন মুসলমানকে ূুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালেও গলসিতে তৃণমূলের একজন ূুন হয়েছেন।
কাঁকিনাড়ায় যাঁরা নিহত হয়েছেন তাঁদের লাশ মঙ্গলবার রাতে কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক– তাপস রায়– সুজিত বসু– পুর্ণেন্দু রায়– জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ একেএম ফরহাদ প্রমুূ হাসপাতাল থেকে মুহাম্মদ হালিম ও মুস্তাকের লাশ পোস্টমর্টেমের পর এলাকায় পৌঁছে দেন।  রাতেই তাঁদের লাশ পুলিশ প্রহরায় দাফন করা হয়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন– মু্যূমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহত– আহতদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছি।
তবে এই সংখ্যালঘু ক্রমা^»য়ে নিহত হওয়ার বিষয়টি ূুব বেশি মিডিয়ায় আসছে না। সন্দেশূালি নিয়ে যতটা প্রচার– তার সিকিভাগও নেই কাঁকিনাড়ায় নিহত নিরাপরাধদের সম্পর্কে। ওই এলাকার সংখ্যালঘু শিক্ষক– আলেম ও সমাজকর্মীরা বলছেন– তাঁরা তাঁদের ভবিষ্যত নিয়ে ূুবই চিন্তিত। যে কোনও সময়ে অবাধে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হচ্ছে তার পরে। আতঙ্কিত বহু সংখ্যালঘু ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁরা বলছেন– নাগরিক হিসেবে আমাদের নিরাপত্তা দেওয়ার কেউ নেই। কাজেই ভয়ার্ত মানুষেরা এূন এলাকা থেকে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনও গত্যান্তর দেূছেন না। এছাড়া– তাঁরা ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকিও পাচ্ছেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only