রবিবার, ৯ জুন, ২০১৯

পৌষ মেলার ‘বল’ এবার ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের কোর্টে

দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ০৯জুনঃ  পৌষ মেলার ভবিষ্যৎ  নিয়ে ‘বল’ এবার ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের কোর্টে। বিষয়টি  বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীর নজরে এনে মন্ত্রকের কাছে দরবার করা হবে, বলে জানান  রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শকের প্রতিনিধি সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়।  রবিবার কেন্দ্রীয় গ্রহ্নাগারের উপরতলায় বিশ্বভারতীর কোর্ট মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগত কোর্ট সদস্যরা। কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আচার্য তথা রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের প্রতিনিধি সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পপতি সঞ্জয় বুধুয়া, উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী প্রমূখ।

৪ তারিখ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে, যে পৌষ মেলার ধর্মীয় আচার রীতি নীতি ঐতিহ্য মেনে পালন হলেও, সুবিশাল মেলার দায়িত্ব বিশ্বভারতী নেবেনা। তারপরেই বিশ্বভারতী ট্রাস্টও একইভাবে এই দায়িত্ব একাই চালাতে অপারগ বলে জানায়। এভাবে শতাব্দী প্রাচীন মেলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।  এদিকে বিশ্বভারতী স্থায়ী উপাচার্য পাওয়ার পর থেকে একে একে বসন্ত উৎসব ও পৌষ মেলা বন্ধ হওয়ার ঘোষণায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বিশ্বভারতীর অন্দরে ও বাহিরে। তবে বেশীরভাগ মানুষ অখুশি হয়ে পড়ে। ২০১৯ সালে পৌষ মেলার ১২৫ তম বর্ষ পালন করার কথা। এই মেলার উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ শিল্পের বিস্তার ও গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান বা রোজগার। যদিও কাল ক্রমে এই মেলার চরিত্র হারায় ঠিকই, তবে এই মেলার দিকে অনেক ছোট বড় ব্যবসায়িক চেয়ে থাকে সম্বৎসর। বহু পর্যটক আসেন এই মেলায়। কিন্তু মেলার বপু বেড়ে যাওয়ায় দূষণ বাড়ে। দূষণ বিধি অনেক ক্ষেত্রে ঠিকমত মানা অসম্ভব হয়ে পড়ায় , জাতীয় পরিবেশ আদালতে অভিযুক্ত হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। আর তার পরেই, বিশ্বাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেঁকে বসে। পৌষ মেলার সাথে  রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের পিতৃদেব মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দীক্ষা দিবসের’ সম্পর্ক আছে। তাই এই ঘোষণায় বেশীরভাগ মানুষ আঘাত পান। তবে এব্যাপারে সুশোভনবাবু জানান, মেলা চালানোর ক্ষেত্রে বিশ্বভারতীর যদি কোন জায়গায় অসুবিধা হয়, তাহলে মিনিস্ট্রি অফ কালচারকে অনুরোধ করব কুম্ভ মেলার একটা মিনি স্ট্রাকচার করে দেওয়ার জন্য। উপাচার্য মহাশয় বিষয়টি গ্রহণ করেছেন। তবে, এটুকু বলতে পারি, পৌষ মেলা হবেই। উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী একই সুরে কেন্দ্র সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলেন।  আরেক সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, বিশ্বভারতী একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার পক্ষে এত বড় মেলা চালানোর ক্ষেত্রে অসুবিধা আছে।  যেহেতু এই প্রতিষ্ঠান আসলে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিষয়টি প্রধান মন্ত্রীর নজরে আনব।  উল্লেখ্য,  ১৯২১ সাল থেকে  পৌষ মেলা চলছে। বিশ্বভারতী না থাকলে, ট্রাস্টির পক্ষে একা মেলা  সম্ভব নয়। যদিও,  মেলা কমিটির চেয়ার ম্যান উপাচার্য, কর্মসচিব আহ্বায়ক।  কিন্তু ট্রাস্টের ভূমিকা আনেকটা ঠুঁটো জগন্নাথের মত। অথচ দায়ভার থাকে ট্রাস্টের। দোষারোপ  হয় ট্রাস্টের। ১৮৮৮ সালে রবীন্দ্রনাথের বয়স যখন ২৭, তখন ট্রাস্ট ডিড হয়। তখন শান্তিনিকেতনে বিদ্যালয় হবে তিনি ভাবেন নি। বিশ্বভারতীর তো দূরের কথা। মেলা তো আরও দূর অস্ত। ১৯২১ সালে সিদ্ধান্ত ছিল বিশ্বভারতী এই মেলা চালাবে। ট্রাস্ট এই টাকা পয়সার ব্যাপারটা দেখবে।  সেই অনুযায়ী ১৯২১ সালে কর্মী পরিষদ গঠিত হয়।  কর্মী সভা, কর্মী সংঘ, অধ্যাপক সভা মিলে কর্মীপরিষদ গঠিত। কর্মী পরিষদের সদস্য উপাচার্য থেকে পিওন পর্যন্ত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only