শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯

টিকার প্রতি অনাস্থা মহামারির আকার নিচ্ছে

উত্তর আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপের মানুষ ক্রমেই টিকার ওপর আস্থা হারাচ্ছে ফ্রান্সে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ টিকা নেন। দুই-তৃতীয়াংশ ফরাসি টিকাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেন না। কারণ– অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে– ভুল টিকা বা মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা দেওয়ায় অসুস্থ বা মারা গিয়েছে বহু শিশু। আবার অনেক সময় শোনা যায়– টিকা নেওয়ার পরেও হাম– ডায়ারিয়া– পোলিও ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার টিকার সাইড এফেক্টও ধরা পড়েছে। এ সব কারণেই টিকা নেওয়া থেকে পশ্চিমা বিশ্বের মানুষ ক্রমেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। টিকায় সবথেকে বেশি আস্থাবান দক্ষিণ এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকা।
ব্রাসেলস– ২১ জুনঃ বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে শৈশবকালে নানারকম টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু এই টিকার প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের মানুষ ক্রমেই আস্থা হারাচ্ছেন। যদিও টিকার প্রতি অনিহা বা অনাস্থার কথা বললে সবার আগে চলে আসে পাকিস্তানের নাম। এমনকী পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতেও এটা নিয়ে মাঝেমধ্যেই খুব হইচই হয়। এক্ষেত্রে সবার আগে দাগিয়ে দেওয়া হয় সংখ্যালঘু মুসলিমদেরকে। ফলে সরকার নানান উদ্যোগ ও কর্মসূচি নেয়– যাতে মুসলিমদের মধ্যে টিকাকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো যায় বা মুসলিমদেরকে সহজে টিকা নিতে রাজি করানো যায়। এমনকী মসজিদের ইমামদেরকেও এ ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে আর্জি জানায় সরকার। বলা হয়– টিকাকরণের ক্ষেত্রে বিশ্বে পাকিস্তানের হার সবথেকে কম। কিন্তু নতুন রিপোর্টে জানা গিয়েছে–আমেরিকা-ইউরোপে টিকা নেওয়ার ব্যাপারে অনাস্থা বাড়লেও দক্ষিণ এশিয়ার ৯৫ শতাংশ এবং পূর্ব আফ্রিকার ৯২ শতাংশ মানুষ বাধ্যতামূলকভাবে শিশুদের টিকা দেন। টিকা বা প্রতিষেধক নেওয়ার হার সবথেকে বেশি রোয়ান্ডায়।
রিপোর্টে বলা হয়েছে– বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিহা– অনাস্থা বা অবিশ্বাসের বাতাবরণ রয়েছে সারা বিশ্বেই। তবে এক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোর তুলনায় পশ্চিমাবিশ্ব অনেক এগিয়ে রয়েছে। আমেরিকা এবং ইউরোপে গড়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ টিকা নেওয়ায় বিশ্বাসী। কিন্তু উত্তর আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে টিকা বা প্রতিষেধকের প্রতি অনাস্থা অনেক বেশি। সবথেকে কম মাত্র ৩৩ শতাংশ আস্থা রাখেন ফ্রান্সের নাগরিকরা। ইউরোপের শীর্ষ দেশ ফ্রান্সে এক-তৃতীয়াংশ মানুষ টিকা নেন। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ৭০ শতাংশ ফরাসি টিকাকে ঠিকঠাক বিশ্বাস করেন না। কারণ– অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে– ভুল টিকা বা মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা দেওয়ায় অসুস্থ বা মারা গিয়েছে বহু শিশু। আবার অনেক সময় শোনা যায়– টিকা নেওয়ার পরেও হাম– ডায়ারিয়া– পোলিও ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার টিকার সাইড এফেক্টও ধরা পড়েছে। এ সব কারণেই টিকা নেওয়া থেকে পশ্চিমা বিশ্বের মানুষ ক্রমেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
ব্রিটেনের খ্যাতনামা বায়োমেডিক্যাল গবেষণা সংস্থা ‘ওয়েলকাম ট্রাস্ট’ ১৪০টি দেশের প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে এই রোমহর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এই মর্মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ স্বীকার করেছে– বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সবার ওপরে থাকা ১০টি হুমকি বা ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম আশঙ্কাজনক হল টিকার প্রতি অনাস্থা বৃদ্ধি। মানুষের মন থেকে এই নেতিবাচক প্রবণতা বা অবিশ্বাস দূর করা গেলে প্রতি বছর অন্তত ১৫ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। হু-র টিকাকরণ বিষয়ক বিভাগের প্রধান ডা. অ্যান লিনস্টান্ডার্ড বলেন– সাধারণ মানুষকে ঠিকঠাক তথ্য দিয়ে টিকা সম্পর্কে তাঁদের মন থেকে ভয়ভীতি দূর করে আস্থা ফেরাতে হবে। সরকারি উদ্যোগে এটা করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিরাট বিপর্যয় দেখা যাবে। যে ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তিনি এও বলেন– টিকা না নেওয়ায় ২০১৭ সাল থেকে বেশ কিছু দেশে মহামারির আকার নিয়েছে হাম। যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি হাম হয় ফ্রান্সে। ইউরোপে সবথেকে ভালো পদক্ষেপ করেছে ইতালি। টিকা না নেওয়া শিশুদেরকে তারা স্কুলে করে না। কয়েক মাস আগেই এ ব্যাপারে পার্লামেন্টে বিল পাস করিয়ে টিকাবিহীন শিশুদেরকে স্কুলে ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only