মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৯

সর্বকনিষ্ঠ আক্রান্ত নাবালিকাকে ক্ষতিপূরণের অর্থ দিল লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটি


পারিজাত মোল্লা 

বছর পাঁচের এক নাবালিকাকে তাদের এক প্রতিবেশী যুবকের যৌন লালসার শিকার হতে হয়েছিল। এই যৌন নির্যাতনের মামলা গ্রহণের সাথে সাথেই  সংশ্লিষ্ট থানা অভিযুক্ত যুবক নিবারণ বর্মনকে পাকড়াও করে আলিপুর পুলিশ কোর্টে পাঠিয়ে দেয়। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে  সুন্দরবন উপকূলবর্তী কোস্টাল থানা এলাকায় এই নাবালিকা আইসিডিএস সেন্টার থেকে পড়াশোনা করে বাড়ি ফেরার পথে যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এক প্রতিবেশীর কাছে । মা বাবা কর্মসূত্রে থাকে সূদুর আন্দাবান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। দাদুর কাছে থাকতো এই নাবালিকাটি। ২০১৮ সালে নির্যাতিতা নাবালিকার দাদু কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে নাবালিকার  পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ আদায়ে মামলা রুজু করে। মামলার রায়দানে বিচারপতি আলিপুর আদালতের লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন ওই বিচারপতি । তবে নির্যাতিতার দাদু নয়, আবেদন করতে হবে তার বাবা মার মধ্যে যেকোনো  একজন কে। যথারীতি নির্যাতিতার মা আবেদন করে আলিপুরের লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির কাছে। অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ দিতে টালবাহানা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয় নাবালিকার পরিবার। সম্প্রতি  কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশ বসাকের এজলাসে মামলাটি উঠে। বিচারপতি নির্দেশিকায় দ্রুত অন্তবর্তী ক্ষতিপূরণ অর্থ দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন। তবে লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির শর্ত হিসাবে দু'লক্ষ টাকার পচাত্তর ভাগ অর্থ আক্রান্ত নাবালিকার নামে ন্যূনতম দশবছর ফিক্সড ডিপোজিট করতে হবে এবং বাকি পঁচিশ ভাগ অর্থ ওই নাবালিকার পড়াশোনার খাতে ব্যয় হবে বলে আদালত সূত্রে প্রকাশ। আবেদনকারীর আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরী জানান, এত কম বয়সে ( পাঁচ বছর)  কোনো আক্রান্তর সরকারি ক্ষতিপূরণ অর্থ পাওয়ার নজির নেই বললেই চলে, কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আলিপুরের  লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটি নির্যাতিতার মায়ের একাউন্টে দুলক্ষ টাকা জমা করে দেয়।গত শনিবার আলিপুরের জেলা লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটি এই অর্থ জমা করে দেয়।                                                                                                                          

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only