শনিবার, ২২ জুন, ২০১৯

অসমে বিপন্ন সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব, চলছে জঙ্গলের আইন


অরুণাভ শইকিয়া

দ্বিতীয় কিস্তি

বর্তমানে অসমে ১০০টি  বিদেশী শনাক্তকরণ ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।  প্রথমে এই সংখ্যা বেড়ে  দ্বিগুন হবে পরে তা ১০০০-এও পৌঁছতে পারে। অসম সরকারের আধিকারিকদের কাছ থেকে একটি হিসেব পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে ২ মিলিয়ন বা ২০লক্ষ লোককে ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর জাতীয় নাগরিক পঞ্জি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।  এই আধিকারিক নাগরিক পঞ্জির তালিকায় আপডেট বা হালনাগাদ করার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ব্যাখা দিয়ে বলেন, যে ৪০ লক্ষ লোকের নাম এসআরসি-তে বাদ দেওয়া হয়েছিল– তাদের মধ্যে ১৫লক্ষ ও পরবর্তীতে ৩ লক্ষ মানুষ এখনও নিজের নাগরিকত্ব দাবির স্বপক্ষে কোনও আবেদন পেশ করেনি। ফলে কমবেশি ২০ লক্ষ লোক এনআরসি থেকে বাদ যাবেই।
প্রথমে ৩.৩ কোটি লোক এনআরসি-তে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেছিল। নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি তৈরি করার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আইনে ৬এ দফাকে সামনে রাখা হয়েছিল। আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হচ্ছে– তারা কিংবা তাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের মধ্যে অসমে প্রবেশ করেছিল। অর্থাৎ বাংলাদেশে মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন। ৩ কোটি ৩০ লক্ষের মধ্যে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ বাসিন্দা নাগরিকপঞ্জিতে নাম তুলতে সক্ষম হয়। আর যে ৪০.৭লক্ষ মানুষের নাম এনআরসি থেকে বাদ গেছে– তাদের মধ্যে ৩৭লক্ষ পুনরায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেছেন।
এই বিদেশি শনাক্তকরণ ট্রাইব্যুনালসমূহ যারা আগামী মাসগুলিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করবে তারা আমলাভিত্তিক প্রশাসন এবং বিচার বিভাগের মধ্যে অবস্থিত এক ধূসর জগতে অবস্থা করছে। এদের জন্য  শক্তপোক্ত নিয়মাবলি খুব অল্পই রয়েছে– এদের নেই কোনও স্বচ্ছতা। কিন্তু হাতে দেওয়া হয়েছে  অগাধ ক্ষমতা। প্রথমেই উল্লেখ করা যেতে পারে– বিগত মে মাসেও বিচার ব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি হল রেস ডুজিকাটা-এই ট্রাইব্যুনালগুলির প্রতি প্রযোজ্য হয়নি। সহজভাবে বললে– যদি কোনও মামলা আদালত নিষ্পত্তি করে দেয় তবে তা ভারতীয় বিচারব্যবস্থা ন্যায় সম্মত বলে গ্রহণ করে। যদি না তা কোনও উচ্চতর আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। কিন্তু যদি কোনও ব্যক্তি কোনও এক বিদেশি শনাক্তকরণ ট্রাইব্যুনালে ভারতীয় নাগরিক বলে প্রতিপন্ন হন– ওই ব্যক্তিকে কিন্তু একই ট্রাইব্যুনালে একই অভিযোগে বহুবার বিচার করা যেতে পার।
অসমে এটা খুবই সাধারণ বিষয় যে– যেসব ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ মামলা লড়ার পর ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ভারতীয় নাগরিক হিসাবে সাব্যস্ত হয়েছেন– তারা পুনরায় ওই ট্রাইব্যুনালে ফের একই অভিযোগের বিচারের জন্য নয়া নোটিশের সম্মুখীন হচ্ছেন।   অর্থাৎ কোনও ট্রাইব্যুনাল নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমানের ভিত্তিতে কাউকে ভারতীয় বলে রায় দিলেই তার সমস্যা শেষ হচ্ছে না। ওই ব্যক্তিকে পুনরায় ট্রাইব্যুনালের সম্মুখে হাজির করা হতে পারে– যাতে তিনি বারবার মামলা লড়েন এবং নিজেকে ভারতীয় বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। সীতাকে মাত্র তিনবার অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছিল কিন্তু এনআরসিতে নাম না উঠলে কোনও ভারতীয় নাগরিককে ছয়-সাতবার কিংবা তারও বেশিবার  ট্রাইব্যুনালের সামনে বিচারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আর এনআরসি-র সমর্থকরা মনে করছেন এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এটাই নাকি স্বাভাবিক। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only