শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯

কে নিতে পারল সব থেকে বেশি উইকেট?অসমের ট্রাইবুনালগুলি বাসিন্দাদের বিদেশি ঘোষণা করতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে!


অরুণাভ শইকিয়া
  অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ৩১ জুলাই। আর সেদিনই ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষ জানতে পারবেন  তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে পুনরায় যে ঝাড়াই-বাছাই হল– তাতে তারা পাশ করতে পেরেছেন কিনা। পাশ করতে না পারলে– ইতিমধ্যেই আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ফরেনার্স বা বিদেশী  ট্রাইবুনালসমূহ  তাদের জন্য কীভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে!
এই ট্রাইবুনালগুলোর ক্ষমতা রয়েছে যে তারা অসমের এই বাসিন্দাদের ‘ বিদেশী’ বলে ঘোষণা করতে পারবে এবং তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার কিংবা বিতাড়ণের আগে ডিটেনশন ক্যাম্পে কয়েদ করার জন্য পাঠিয়ে দিতে পারবে।
অসমের রাজ্য সরকারের  অনুমান– এই সব ট্রাইবুনালগুলি অগুনতি বিদেশী মামলার সয়লাব বা বন্যার মধ্যে  পড়বে। কারণ যে পদ্ধতিতে এই ট্রাইবুনালগুলি পরিচালিত হচ্ছে তাতে অন্ততপক্ষে অসমের ২০লক্ষ মানুষ  এই এনআরসি-র তালিকার বাইরে থাকবে। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি অফিসারের এটাই হল বক্তব্য।
এর প্রস্তুতি গ্রহণ করতে গিয়ে  অসমের রাজ্য সরকার তড়িঘড়ি ও জরুরি ভিত্তিতে ট্রাইবুনালগুলির নেটওয়ার্ক প্রসারিত করে চলেছে। আর তা করতে গিয়ে ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের নিয়োগের নিয়মকানুন পুরোপুরি শিথিল করে দিচ্ছে। বর্তমানে অসমে যে কোনও ব্যক্তি– যার আইনি পেশায় অভিজ্ঞতা মাত্র ৭ বছরের– অথবা অবসরপ্রাপ্ত মধ্যম পর্যায়ের কোনও আমলা এই বিদেশী বাছাই ট্রাইবুনালের সদস্য হয়ে বসতে পারবেন। আর তিনি বসে বিচার করবেন যে  কোনও এক  ব্যক্তি অসমে থাকবে– না তাকে বিতাড়ন করা হবে!
সম্প্রতি স্বরাষ্টÉমন্ত্রক বিদেশী ট্রাইবুনাল সংশোধনী আদেশ ২০১৯ প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে– এই নয়া আদেশে  নাগরিকত্ব  নির্ণয়ের টানাপোড়েনে ট্রাইবুনালগুলোর  ভূমিকা ও অধিকার  ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
 যদিও এই ট্রাইবুনালগুলি ‘কোয়াজি-জুডিশিয়াল’ বা আধা-বৈচারিক সংস্থা হওয়ার কথা কিন্তু অসম সরকার ক্রমান্নয়ে এর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করে চলেছে। এমনকী অসম সরকার এই ট্রাইবুনালের সদস্যদের ‘কার্যক্ষমতা’ বিচার করে  তাদের  মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছাঁটাই করে দিচ্ছেন।  আর এই কার্যক্ষমতার মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি হচ্ছে যে তারা কত বেশি সংখ্যায় মানুষকে বিদেশি বলে ঘোষণা করতে পারল।
বর্তমানে পরিবেশ এতোটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যে ট্রাইবুনালের সদস্যরা  খানিকটা রসিকতার করে  নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছেন– একরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে যে– কে ‘সব থেকে বেশি’ উইকেট নিতে পারে। অর্থাৎ তাদের মধ্যে কে সর্বোচ্চ সংখ্যায় বিচারপ্রার্থী মানুষদের বিদেশী বলে ঘোষণা করতে পারে। এমনই মন্তব্য করেছেন একজন প্রাক্তন ট্রাইবুনাল সদস্য।
যে সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘বিদেশী’ বলে ট্রাইবুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে– তাদের আইনজীবীরা বলছেন এই ট্রাইবুনালের সদস্যরা ক্রমবদ্ধমান হারে সরকারের পক্ষেই আইনকে ঝোকানোর চেষ্টা করছে।
এই বিদেশি সনাক্তকরণের ট্রাইবুনালগুলি আইনের অনুসরণ করছে না।  অসমের বরপেটার একজন আইনজীবী আবদুল মান্নান জোরের সঙ্গে একথা বলেন। মনে হয় ট্রাইবুনালগুলো যেন তেন প্রকারে ‘বিদেশী সৃষ্টি করতে’ বদ্ধপরিকর। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only