বুধবার, ৫ জুন, ২০১৯

পৌষ মেলা অনিশ্চিত, দায়ভার কার?

দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ০৫ জুনঃ বিশ্বভারতীর উপাচার্যের আহ্বানে পৌষ মেলা নিয়ে  ৪ঠা জুন লিপিকা গৃহে সভা হল। যার নির্যাস পৌষ মেলা অনিশ্চিত।  আর তা নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি বের হল। তাতে না আছে কারো সহি। না কোন লেটার হেড। আর তাতেই বিতর্ক তুললেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। এদিন তিনি বলেন, প্রেস রিলিজ যেটা বেরিয়েছে, তাতে কারো কোন সহি নেই, কোন লেটার হেড নেই।  ওইরকম প্রেস রিলিজের উপর যদি সাংবাদিকরা কোন সংবাদ ছাপে, তার প্রেক্ষিতে যদি আমি কোন প্রতিক্রিয়া জানাই, তাহলে সেটার কোন মান বা মর্যাদা থাকেনা। পৌষমেলা অনিশ্চয়তার মুখে, দায়িত্ব নিতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ।  এই ব্যাপারে কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে না চাইলেও, পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত বলেন,  কোর্ট ম্যাটারে আমি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না অমন ভাবে। সেটা কোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে। 

তবে পৌষ মেলায় দূষণ নিয়ে কয়েক বছর ধরে গ্রীন ট্রাইব্যুনালের হস্তক্ষেপ থাকলেও, মেলা হয়েছে। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটতে চলেছে।  গত মেলায় ট্রাস্টের  নিজস্ব গচ্ছিত টাকা থেকে ১০ লক্ষ  টাকা গচচা দিতে হয়েছে, বলে নিন্দুকদের দাবি।  নিয়মমাফিক ট্রাস্ট এই মেলার খরচের বিষয়টি দেখলেও, দায়িত্বে থাকে কর্মী পরিষদ, চেয়ারম্যান উপাচার্য ও আহ্বায়ক কর্মসচিব। কিন্তু এবার ট্রাস্টের সদস্য থাকতে চাইছেন না নতুন স্থায়ী উপাচার্য বিদ্যুত চক্রবর্তী। তবে আগেও মেলা নিয়ে দোটানা থাকলেও, মেলা হয়েছে। নিন্দুকেরা বলেছে, মধুতো একটা আছে। এবার মেলা না চালানোর ক্ষেত্রে কারো কারো স্বার্থ দেখছেন, সেই নিন্দুকেরাই।   

শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সাম্মানিক সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, ট্রাস্টের সদস্য হিসেবে থাকতে চাইছেন না উপাচার্য। যেদিন থেকে পৌষ মেলা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই বিশ্বভারতীর  ছাত্র, কর্মী, অধ্যাপক এর সাথে যুক্ত।  এটা যুক্ত না হলে ট্রাস্টির চারজন ব্যক্তির পক্ষে এই ধরণের মেলা চালানো সম্ভব নয়।  অনেক কিছুই মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। স্টলের ব্যবসায়ীরা মুচলেকা দিয়েও ৬ দিনেও ওঠে না।  ব্যবসায়িক সংগঠন তাদের পাশে দাঁড়ায়। পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেবে না। দূষণ হয়। অনেক সমস্যা।  জয়দেব মেলা চালান জেলা শাসক। গঙ্গা সাগর মেলা একশো কোটি টাকা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চালায়। এই মেলা চালিয়ে ট্রাস্টের কোন লোভ নেই। ট্রাস্ট চ্যরিটি করে। দীনবন্ধু এণ্ড্রুজ হসপিটালে ওষূধপত্র কিনে দেওয়া ইত্যাদি।

বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য তথা ট্রাস্টির বর্তমান সদস্য সবুজ কলি সেন বলেন, ট্রাস্টে উপাচার্যকে থাকতে হবে বলে কোন কথা নেই। সে কারনে উনি ট্রাস্টে থাকতে চাইছেন না। এই মেলা থেকে সংস্থার কোন লাভ হয় না। লাভ হয় সরকার, পর্যটনের। ১৯২১ সাল থেকে মেলা চলছে। বিশ্বভারতী না থাকলে, ট্রাস্টির পক্ষে সম্ভব নয়। মেলা কমিটির চেয়ার ম্যান উপাচার্য, কর্মসচিব আহ্বায়ক। ট্রাস্ট ঠুঁটো জগন্নাথ। দায়ভার ট্রাস্টের। দোষারোপ ট্রাস্টের। ১৮৮৮ সালে রবীন্দ্রনাথের বয়স যখন ২৭, তখন ট্রাস্ট ডিড হয়। তখন শান্তিনিকেতনে বিদ্যালয় হবে তিনি ভাবেন নি। বিশ্বভারতীর তো দূরের কথা। মেলা তো দূর অস্ত। ১৯২১ সালে সিদ্ধান্ত ছিল বিশ্বভারতী এই মেলা চালাবে। ট্রাস্ট এই টাকা পয়সার ব্যাপারটা দেখবে।  সেই অনুযায়ী ১৯২১ সালে কর্মী পরিষদ গঠিত হয়।  কর্মী সভা, কর্মী সংঘ, অধ্যাপক সভা মিলে কর্মীপরিষদ গঠিত। কর্মী পরিষদের সদস্য উপাচার্য থেকে পিওন পর্যন্ত।

কর্মীসভার সভাপতি গগন সরকার বলেন,  শতাব্দী প্রাচীন মেলা কেসকাচারিঢ় শিকার। সব ধরণের নিয়ম মেনে, বিশ্বভারতী মেলা চালাতে অসুবিধার সম্মুখিন।  পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় নয় ব্যবসায়ীদের তুলছে না। কিন্তু দায়ভার থাকছে বিশ্বভারতীর। নিজস্ব টাকা খরচ করে কেস চালাতে হচ্ছে।

  বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী তথা আশ্রমিক কালীপদ সিংহ রায় বলেন,  বিশ্বভারতী এর দায়িত্ব এড়াতে পারে না। বিশ্বভারতী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানছি। কিন্তু যাঁর সঙ্গে মহর্ষির নাম যুক্ত। উপাচার্য ঠিক বলছেন না। এখন আমার বয়স তিরাশি। আমি ছয় সাত বছর থেকে এই পৌষ মেলা দেখে আসছি। এতদিন ধরে হল। আর আজ দায়িত্ব নেব না বললেই হোল? উনি আছেন কি করতে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only