বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯

শুক্রবার নদিয়া জেলার সব নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

   

   

   

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:

শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নদিয়া জেলার দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে যাওয়ার আগে হোমওয়ার্কে ব্যস্ত জেলা নেতারা। নিজেদের এলাকায় বুথভিত্তিক রেজাল্ট হাতে নিয়ে তাঁরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। যেকোনও প্রশ্নের উত্তর যাতে দিতে পারেন, তার জন্য নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন বিধায়ক, জেলা ও ব্লক নেতারা।
লোকসভা নির্বাচনের পর প্রতি জেলা ভিত্তিক দলীয় বৈঠক করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির পর এবার নদিয়া জেলা। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে কালীঘাটে নদিয়া জেলা নেতৃত্বর সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে দলের সব বিধায়ক, এমপি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, কর্মাধ্যক্ষ, পুরসভার চেয়ারম্যান, জেলা ও ব্লক নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

তৃণমূল সূত্রের খবর, নিজ নিজ এলাকার বুথ ভিত্তিক রেজাল্ট হাতে নিয়ে নেতারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। কেন রেজাল্ট খারাপ হয়েছে, তার যুক্তি সাজাতে প্রস্তুত হচ্ছেন নেতারা। তৃণমূলের এক জেলা নেতা বলেন, গেরুয়া শিবির মেরুকরণের রাজনীতি করে সাফল্য পেয়েছে। তেমনই ভোটে স্থানীয় নেতাদের দুর্নীতি, কাটমানি খাওয়ার প্রভাব পড়েছে। পুরসভা এলাকায় স্থানীয় কাউন্সিলার ও চেয়ারম্যাদের ভাবমূর্তির প্রভাব পড়েছে এবারের ভোটে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ও তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। মতুয়া সম্প্রদায়ও বিজেপির পালে চলে গিয়েছে। এছাড়া, একাধিক ব্লকে সমাজবিরোধীদের পদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ওই সব এলাকায় দোর্দণ্ডপ্রতাপ হয়ে উঠেছেন। যা সাধারণ মানুষ ভালো চোখে নেয়নি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বহু এলাকায় সাধারণ মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারেননি। বহু আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে গিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ভোটে খারাপ ফলাফলের প্রশ্ন উঠলে, এসব কথা তুলে ধরা হবে নেত্রীর কাছে।উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনে জেলার একটি আসন ধরে রাখতে পারলেও সামগ্রিকভাবে শাসক দলের বিপর্যয় ঘটেছে। রানাঘাট কেন্দ্রে দুই লক্ষের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকার। কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন মহুয়াদেবী। তাও চিন্তায় ফেলেছে শাসক দলকে। কারণ, এই লোকসভার অর্ন্তগত তিন বিধানসভা কেন্দ্রে হার হয়েছে তৃণমূলের। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চাপড়া, কালীগঞ্জ ও পলাশীপাড়া, নাকাশিপাড়া বিধানসভা থেকে লিড এসেছে। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা থেকে বিজেপি ৫৩ হাজার লিড নিয়েছে। কৃষ্ণনগর শহর থেকেই ২৭ হাজার ভোটের লিড রয়েছে।  জেলার মোট ১৭টি বিধানসভার মধ্যে মাত্র ছ’টিতে এগিয়ে রয়েছে শাসক দল। বাকি এগারোটিতে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে।দলের এই বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট দুই লোকসভার দু’জনকে সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে। কৃষ্ণনগরে সভাপতি হয়েছেন মহুয়া মৈত্র। রানাঘাটে সভাপতি হয়েছেন শঙ্কর সিং। 





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only