মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯

পলাতক মেহুলের নাগরিকত্ব বাতিল করছে অ্যানিটিগোয়া

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ খেলাপ করে চম্পট দিয়েছিলেন মামা মেহুল েচাকসি ও ভাগ্নে নীরব মোদি। বর্তমানে দু’জনেরই সময় ভালো যাচ্ছে না। লন্ডনে জেল খাটছেন নীরব মোদি। মামা েমহুল ভেবেছিলেন অ্যান্টিগোয়ার নাগরিকত্ব নিলে বোধহয় আর কেউ ধরতে পারবে না। েকৗশলটা মন্দ ছিল না। কিন্তু েশষ পর্যন্ত সে েকৗশল কাজ করল না। সেদেশ জানিয়ে দিয়েছে তারা অ্যান্টিগোয়াকে অপরাধিদের মুক্তাঞ্চল হতে দেবে না। অ্যান্টিগোয়ার প্রধানমন্ত্রী আশ্বা গাস্টন ব্রাউন আশ্বাস দিয়েছেন– মেহুলের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে। মেহুলকে ভারতে প্রত্যাপর্নপের ব্যাপারে সবরকম সহযোগিতা করবে অ্যান্টিগোয়া। এই আশ্বাসের পর ভারত মেহুলকে ফিরিয়ে আনতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও এর বহু আগে থেকেই বিজয় মালিয়ার প্রত্যার্পণ নিয়ে হাওয়া উঠেছিল। মালিয়া অভিযোগ করেছিলেন ভারতীয় জেল গুলির খারাপ অবস্থা নিয়ে। বলেছিলেন সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। ভারত আশ্বাস দিয়েছিল তাঁকে ভালো জেলেই রাখা হবে। বিজয় মালিয়ার জন্য মুম্বইয়ের আর্থার জেল সাজানো হচ্ছিল। কিন্তু মালিয়া ফেরেননি। তাঁর বিরুদ্ধে লন্ডনের আদালতে মামলা চলছে। প্রকাশ্যে বিশ্বকাপ দেখলেন তিনি।
২০১৮ এর গোড়াতেই চম্পট দেন মেহুল ও নীরব। তোলপাড় হয় গোটা দেশ। বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় বিরোধীরা। অন্যদিকে বিজেপি কাঁধ থেকে দায় ঝেড়ে কেন্দ্রে ক্ষমতাচু্যত কংগ্রেসের ঘাড়ে সব দায় চাপিয়ে নিশ্চিত হতে চেষ্টা করে। প্রথম লন্ডন পালিয়ে যান দুই রb ব্যাবসায়ী। লণ্ডনে থেকে যান ভাগ্নে। মামা সেখানে থেকে চম্পট দেন অ্যান্টিগোয়াতে। সহজ শর্তেই নাগরিকত্ব েপয়ে যায় মেহুল। ছেড়ে দেন ভারতীয় পাশর্পোট। মেহুল মনে করেছিল জল বুঝি আর গড়াবে না। কিন্তু এদেশে আম জনতার প্রচলিত কথা হল–  ‘চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা– যদি না পড় ধরা।’
হঠাৎ মেহুলের নাগরিকত্বই বা কেন বাতিল করতে চায়ছে অ্যান্টিগোয়া? ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর– ভারত কূটনৈতিকভাবে প্রবল চাপ বাড়াচ্ছিল। একজনের বিরুদ্ধে কি কি ফৌজদারি অপরাধ রয়েছে তা না জেনে কেনই বা নাগরিকত্ব দেওয়া হল– জানতে চেয়েছে ভারত। এরপর থেকে ভারত ক্রমাগত অ্যান্টিগগোয়া সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। সেই চাপেই শেষ পর্যন্ত অ্যান্টিগোয়ার প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়েদিলেন চোকসির নাগবিত্ব খারিজ করা তো হবেই– তার সঙ্গে তাঁকে ভারতে প্রত্যাপর্ণের সমস্ত রকম  সহযোগিতা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী গাস্টন ব্রাউন বলেছেন– ‘এটা মনে করার কনও কারণে নেই যে আমাদের দেশ ফৌজদারি বা আর্থিক অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য। একথা সত্য যে বিশেষ কারও সাহাজ্য নিয়ে মেহুল নাগরিকত্ব পেয়ে গিয়েছেন। তবে তাঁর সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে।’ তিনি আরও বলেন– ‘এখন বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। ফলে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে দেওয়া ছাড়া এখন আর আমাদের হাতে উপায় নেই। আমি ভারতকে জানিয়েছি যে একজন অপরাধীদেরও আইনের সাহাজ্য নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে আমি ভারতকে জানিয়েছি যে েচাকসির সামনে আইনের দরজা বন্ধ হলেই তাঁকে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে।
অনকেই বলছেন না আঁচালে বিশ্বাস নেই। এখনও পর্যন্ত বিদেশ থেকে কোনও অপরাধিকে ফিরিয়ে আনা হয়নি। তবে আশায় রয়েছে েদশ। অ্যান্টিগোয়ার প্রতিনিধিদের ভারতের বিদেশমন্ত্রক কথা বলছে বলেও সুত্রের খবর। তবে মেহুলকে কবে ফিরিয়ে আনা হবে এমন কোনও দিনক্ষণ জানা যায়নি। বম্বে হাইকোর্টে ইডির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আগেই মেহুল বলেছেন – শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি ছেড়েছিলেন। ইডি এর জবাবে বলেছিল তিনি যদি অসুস্থ হন– তাহলে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ফিরিয়ে আনা হবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only