বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯

একাকিত্ব দূর করতে অচেনা বন্ধু ভাড়া জাপানে

যাদের নিজের বলে কেউ নেই কিংবা কর্মসূত্রে দূরে কোথাও থাকেন– একাকীত্ব কাটাতে তাঁরা বন্ধু ভাড়া করেন। অনেকে আবার পুরো একটা পরিবারকে আমন্ত্রণ করে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন। মধ্যাহ্নভোজে এভাবে ভাড়া করা বন্ধু ও অপরিচিত জনদের সঙ্গে অনেকটা সময় হাসি-গল্প-আনন্দে কেটে যায়। সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে এই রেওয়াজ ইদানিংকালে খুব জনপ্রিয় হয়েছে জাপানে। তবে অচেনা-অজানা লোককে ভাড়া করে ঘরে আনাটা বিপজ্জনকও হতে পারে। তাই এই কাজ করে দেয় এমন অনেক সংস্থা রয়েছে। এ জন্য টাকা দিয়ে ওইসব সংস্থার সদস্য হতে হয় এবং তাদের ওয়েবসাইটে ছুটির দিনে বন্ধু ভাড়া চেয়ে বিজ্ঞাপন দিতে হয়। সংস্থার কাছে উভয়পক্ষের নাম-ঠিকানা ও বিস্তারিত বিবরণ থাকায় ব্যাপারটা বিশ্বাসযোগ্য হয়। ফলে কারও বাড়ি গিয়ে আমন্ত্রণ রক্ষা করার ক্ষেত্রে আশঙ্কা বা সন্দেহের কিছু থাকে না।
জানা গিয়েছে– ২০১০ সাল থেকে জাপানে এ ধরনের মানবিক সার্ভিস বা পরিষেবা শুরু হয়। তারপর গত ১০ বছরে ক্রমেই অনলাইনে অগ্রিম বুকিং করে বন্ধু ভাড়া করে কুটুম্বিতা করার ব্যাপারটা বেশ রমরমিয়ে চলছে। বিশেষ করে যারা দূরে কোথাও ভাড়া বাড়িতে থাকেন– কাছেপিঠে আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু-বান্ধব বলে কেউ থাকে না– পরিবারের লোকজনরাও সঙ্গে থাকে না অথবা যাদের পরিবারে কেউ নেই– তাঁরাই মূলত এই সংস্থার সদস্য পদ নেন।
কাজুশিগে নিশিদা নামে মাঝবয়সি একজন চাকুরিজীবী জানালেন– দুজন অপরিচিতকে তাঁর বাড়িতে খেতে আসার জন্য নিমন্ত্রণ করেছিলেন। তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সান্ধ্যকালীন খাওয়ার টেবিলে আসেন এক মহিলা ও তাঁর মেয়ে। মা-মেয়ে’কে ভাড়া করেই এনেছিলেন নিশিদা। সেই ঘটনা সম্পর্কে নিশিদা জানালেন– আমার স্ত্রী অনেকদিন আগে অসুস্থ হয়ে মারা যান। একমাত্র মেয়ে এখন শ্বশুরবাড়িতে থাকে। তাই তিনি একেবারেই নিঃসঙ্গ। অফিস করে প্রতিদিন বাড়ি ফিরে খুব খারাপ লাগে। ভালোমন্দ দুটো কথা বলার মতো কেউ নেই। এভাবে কতদিন আর কাটানো যায়। তাই ‘ফ্যামিলি রোমান্স’-এর অফিসে যোগাযোগ করেন। বছর দুয়েক আগে টিভিতে এক অনুষ্ঠানে প্রথম এ রকম সংস্থার কথা জানতে পারেন নিশিদা। তারপর তিনি ওই সংস্থার মাধ্যমে বুকিং করে ৯বার তাঁর বাড়িতে ভাড়া করে লোক এনেছেন। যাঁরা তাঁর সঙ্গে লাঞ্চ করেছেন এবং কয়েকঘণ্টা তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন। একদিনের জন্য একজনকে আমন্ত্রণ ও ভাড়া করতে ২০০ ডলার দিতে হয় সংস্থাকে। ভারতীয় মুদ্রায় যা ১৩ হাজার ৮৮০ টাকা। সুতরাং একাধিক জন বা একটা গোটা পরিবারকে ভাড়া করতে অনেক টাকা খরচ। তাই সাধ্যের মধ্যে সাধ পূরণ করতে বেশিরভাগই একজন বন্ধু ভাড়া করেন। তবে নিশিদা তাঁর প্রয়াত স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়িতে থাকা মেয়ের কথা ভেবে প্রতিবারই ওই মা-মেয়ে জুটিকে আমন্ত্রণ করেন।
ফ্যামিলি রোমান্স সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ৩৪ বছর বয়সি ইউচি ইশহি জানালেন– তাঁরা প্রতি মাসে গড়ে প্রায় শ’তিনেক বন্ধু বা পরিবার ভাড়া দেন। তাঁদের সংস্থার সদস্যদের মধ্যে ৯৮ শতাংশই এই পরিষেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only