বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯

ভারতীয় টপ ব্র্যান্ডের নুনে রয়েছে মারণ ফেরোসায়ানাইড ! রিপোর্ট



খাবার সুস্বাদু হয় একটু খানি নুনে।হেঁশেলে মশলাপাতির মধ্যে নুন এক গুরুত্বপূর্ণ মশলা। কিন্তু যদি বলা হয়, খাবারের এই ছোট উপাদানের মধ্যমেই আপনার-আমার শরীরের ঢুকে মারণ বিষ।তাহলে সকলেই চমকে উঠতে হয়। হ্যাঁ । বিষয় এখন প্রমাণিত। সম্প্রতি ভারতীয় নুন উৎপাদক কোম্পানিগুলি নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন এক ল্যাবরেটারি। তাঁদের দাবি, ভারতীয় টপ ব্র্যান্ডের নুন পরীক্ষা করে তারা সেগুলিতে মারণ পটাসিয়াম ফেরোসায়ানাইড পেয়েছেন। আমেরিকান ওয়েস্ট অ্যালেটিক্যাল ল্যাবরেটারিস এই পরীক্ষাটি করেছে।

গুডহাম গ্রেইনস এণ্ড ফার্ম প্রোডাক্টস-এর চেয়ারম্যান শিব শংকর গুপ্তা জানিয়েছেন, মার্কিন ওই ল্যাবরেটারি রিপোর্ট অনুযায়ী, সামভার রিফাইন সল্ট এককেজির প্যাকেটে ৪.৭১ মিলিগ্রাম, টাটা নুনের এককেজির তে ১.৮৫ মিলিগ্রাম, ওই টাটা সল্ট লাইটের এককেজির প্যাকেটে ১.৯০ মিলিগ্রাম এই বিষক্ত উপাদান পাওয়া গিয়েছে। টাটা কোম্পানিকে বারবার এসম্পর্কে ই-মেলের মাধ্যমে সচেতন করা হলেও এসম্পর্কে তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এছাড়া অন্যান্যরা একই আচরণ করেছে।

নুন নিয়ে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে বহু দিন ধরে প্রচার চালাচ্ছে শিবশংকর গুপ্তা। তিনি এই বিষয়টি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য তিনি নুনগুলিকে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে ছিলেন। রিপোর্ট দেখে চমকে উঠেছে শিবশংকর। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের অসাধু কার্যকলাপের জন্য মানুষ মরছে রোজরোজ। মোড়কের বিশুদ্ধ নুনের লেবেল লাগিয়ে বিজ্ঞাপনের চমকে আড়াল হয়ে যাচ্ছে বিষাক্ত যৌগগুলি।শুধু নুন নয় যে কোনও খাবারেই পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইড থাকা টিক নয়। এই নুন উৎপাদনে রাঘব বোয়ালরা যুক্ত। অন্য শিল্প থেকে বর্জ্য হিসাবে যে বিপজ্জনক আয়োডিন এবং সায়ানাইড পাচ্ছেন, সেগুলিকেই প্যাকটজাত করে বিশুদ্ধ নুন হিসাবে বাজারে বিক্রি করছেন। আর এই ভেজাল নুতন খেয়ে মানুষের মধ্যে ক্যান্সার, হাইপারথাইরয়েডি, উচ্চরক্ত চাপ, ওবেসিটি, কিডনির সমস্যা বেড়ে চলেছে।

তাই তিনি নুন ব্যবসায়ীদের এই অসাধু কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে নুনে আয়োডিন থাকে, তাতে আলাদা করে আয়োডিন মিশিয়ে বেশি করে শুদ্ধকরা কোনও প্রয়োজন নেই। গুজরাটের কচ্ছ, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান জুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক নুন উৎপাদন শিল্প। সেখানেও আয়োডাইজড সল্ট তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার সেবিষয়ে যথেষ্ট উদাসীন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতে বিভিন্ন দুর্নীতির মধ্যে লবন দুর্নীতিও রয়েছে। রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে জানা গিয়েছে কোন নুন উৎপাদক কোম্পানীগুলি এফএসএসআই অর্থাৎ ফুড সেফটি অ্যাণ্ড  স্ট্যাণ্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার কাছে নুনের মান ঠিক করে পরীক্ষা করায় না। এমনকি এ বিষয়ে কোনও লাইসেন্সের আবেদনও করা হয় না। জানা গিয়েছে, খাদ্যের গুণমান পরীক্ষা করার যন্ত্রপাতিগুলির অবস্থাও করুন। তাতে বিষাক্ত এই রাসায়নিকগুলি পরিমাপ করা সম্ভব হয় না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only