বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯

‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে সরগরম লোকসভা

জয়শ্রী রাম স্লোগানে মঙ্গলবার সরগরম রইল লোকসভা। পাল্টা সেখানে শোনা গেল আল্লাহু আকবর ধ্বনিও। যদিও হাতে গোনা দু’জনই আল্লাহর নামে স্লোগান দিলেন। এই দু’জন হলেন মিম সুপ্রিমো আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এবং মুর্শিদাবাদের তৃণমূল সাংসদ মুহাম্মদ আবু তাহের। তাহের শপথ শুরু করেন বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলে। আল্লাহু আকবর বলে শপথ শেষ করেন। সপা সাংসদ সফিকুর রহমান  স্পষ্ট করে দেন যে তিনি বন্দে মাতরম উচ্চারণ করবেন না। তিনি বলেন, তাঁর মতে এই স্লোগান ইসলাম বিরুদ্ধ।  বিজেপি সাংসদরাই মূলত শুরু করেন জয় শ্রীরাম স্লোগান। তাঁরা ভোটের আবহাওয়া থেকে এখনও বের হতে পারছেন না। ভোট শেষ হয়ে গিয়েছে– এবার কাজ করার সময়। সংসদ যে বিনোদনের মঞ্চ নয় তা বোধকরি ভুলে বসেছেন এই সাংসদরা।
এদিন তৃণমূল সাংসদদের লক্ষ্য করে জয়শ্রীরাম স্লোগান দেন বিজেপি সাংসদরা। এটি যে তাঁদের সম্ভাষণ নয় তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি গোটা দেশের। যখন তৃণমূল সাংসদরা শপথ নিতে গিয়েছেন বিজেপি সাংসদ জয়শ্রী রাম স্লোগান বলে ‘মস্করা’ করেছেন।  মিম সুপ্রিমো আসাদউদ্দিন ওয়াইসি যখন শপথ নিতে এগিয়ে আসেন তখন তাঁকে লক্ষ্য করে একইভাবে জয়শ্রী রাম স্লোগান দেন বিজেপি সাংসদরা। ওয়াইসি হাত দেখিয়ে তাঁদের ইঙ্গিত করেন ‘আপনারা স্লোগান জারি রাখুন।’ এর পর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি ‘ধর্ম নিরপেক্ষ’ স্লোগান দেন।  ‘জয় ভীম– তাকবির আল্লাহু আকবর– জয় হিন্দ।’ স্লোগান দেন ওয়াইসি। ‘আমাকে দেখলেই ওঁরা  শ্রীরামকে মনে করতে পারেন। আমার আশা তাঁরা ঠিক এইভাবেই সংবিধানকে মনে রাখবেন এবং মুজাফফরপুরের শিশুমৃত্যু মনে রাখবেন।’
বিজেপি সাংসদদের আচরণের নিন্দা করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। তাঁরা বলেছেন যে আচরণ হয়েছে সেটা লজ্জাজনক। টুইটারে এক নেটিজেন লেখেন– ‘এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের সংসদ। সেখানে সংখ্যালঘু সাংসদদের এইভাবে স্লোগান দিয়ে হেনস্থা করার চেষ্টা হচ্ছে। তাহলে সংসদের বাইরে এই ধর্মান্ধদের হাতে সাধারণ মুসলিমদের যে কী হাল হবে তা বুঝতেই পারা যাচ্ছে।’
বাংলার বিজেপি সাংসদের এদিনের আচরণ দেখে বোঝার উপায় ছিল না না তাঁরা কোথায় বসে রয়েছেন। দীলিপ ঘোষ সহ কয়েকজন বঙ্গ বিজেপি সাংসদ সংস্কূতে শপথ নিলেন। মাতৃভাষা না হওয়ার কারণে এবং অনভ্যাসের ফলে শপথ বাক্য উচ্চারণে দীলিপকে যথেষ্ঠ বেগ পেতে হয়। এদিন লোকসভায় স্পষ্ট হয়ে গেল ভোটের পরেও বিজেপি সাংসদরা রাজনৈতিক বৈরিভাব কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাঁরা ভোটের পরেও ধর্মের মোড়কে রাজনীতি জিইয়ে রাখতে চাইছেন। এদিন অবস্থা তাঁর জয়শ্রীরাম েস্লাগানে অপদস্থ করতে চান মূলত তৃণমূল সাংসদ ও সংখ্যালঘু সাংসদদের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে তাঁরা সমস্বরে জয় শ্রীরাম েস্লাগান দেন। অভিষেকও মজা করে বলেন তাঁকে যেভাবে স্বাগত জানানো হল তাতে মনে হচ্ছে তিনি বুঝি নরেন্দ্র মোদির থেকেও জনপ্রিয়। তবে বিজেপিরও বেশ কিছু সাংসদ এদিন শপথ নেওয়ার পর জয় বাংলা েস্লাগান দেন। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ জয় শ্রীরাম উচ্চারণ না করে ‘জয় শ্রীরামকৃষ্ণ স্লোগান দেন’। েয স্লোগান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলেছেন– অর্থাৎ ‘জয় বাংলা’– তাও শোনা গেল বঙ্গ বিজেপি সাংসদদের গলায়।
আসলে বঙ্গ বিজেপির একটা অংশ বিশেষ করে বাঙালিরা বুঝতে পারছেন, এখানে একচেটিয়া রামকে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। ধর্মীয় েক্ষত্রে তো নয়ই– রাজনৈতিক েক্ষত্রেও। বিরোধী তৃণমূল এবং সংখ্যালঘু সাংসদ ওয়াইসিকে দেখে জয়শ্রীরাম ‘আওয়াজ’ দিলেও তারা বুঝেছে এটা নিয়ে বাংলায় দীর্ঘ মেয়াদি রাজনীতি সম্ভব নয়। এখানে টিকতে হলে বাঙালি হিন্দুদের দেব-দেবীদেরই প্রাধান্য দিতে হবে। এদিন গোটা সংসদ ভরে রাইল জয় শ্রীরাম– জয় মা  দুর্গা– আল্লাহু আকবর– রাধে রাধে– ভারত মাতা কি জয়– হরহর মহাদেব– গুরু গোরখনাথ কি জয়– জয় ভীম– জয় মিম েস্লাগানে। এতদিন ধরে ভারতীয় সংসদ যে ধর্মনিরপেক্ষভাব মূর্তি বজায় রেখেছিল এদিন তা ভূলুন্ঠিত হল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only