রবিবার, ২ জুন, ২০১৯

রামপুরহাট বিধানসভায় দলের ফলাফল নিয়ে বৈঠক তৃণমূল কংগ্রেসের

দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ০২ জুনঃ নির্বাচনোত্তর পর্বে রামপুরহাট বিধানসভায় দলের ফলাফল নিয়ে বৈঠক করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এই পর্যালোচনা বৈঠকে স্থান পায় রামপুরহাট পুরসভায় তৃণমূলের খারাপ ফল। পাশাপাশি, বিজেপির ভোট বৃদ্ধিও। রামপুরহাট -১ নং ব্লক অফিসের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রী, বিধান সভা এলাকার অঞ্চল সভাপতি ও বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শুরু হয় বেলা ১১টায়। তা চলতে থাকে দীর্ঘক্ষণ। এদিনের বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। তবে, জানা গেছে এদিনের বৈঠকে সমস্ত কিছু চুল চেরা বিচার করেছে দল।  

এদিনের আলোচনা সভায় উঠে আসে দলের হারের কারণ অনুসন্ধান এবং  সেই প্রেক্ষিতে আগামীতে কিভাবে কর্মীদের এগিয়ে যেতে হবে।  আলোচনার শুরুতেই যে দিকটা প্রথমে উঠে আসে সেটা হল রামপুরহাট শহরের রাস্তাঘাট, সৌন্দর্যায়ণ, পানীয় জল, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। বিশেষতঃ  মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে রামপুরহাটের মত মফস্বল শহরে  প্রথমে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, বাচ্চাদের জন্য এস এন সি উ বা স্পেশাল কেয়ার ইউনিট, স্বল্প মূল্যের ওষুধের দোকান সহ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরিষেবা তুলে দিয়েছেন। সর্বোপরি, রামপুরহাটের মত জায়গায় একটি মেডিক্যাল কলেজ খুলে দিয়েছেন। সেখানে জটীল রোগের চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন প্রান্তিক মানুষ। এছাড়াও, এই বিধান সভায়, রামপুরহাট তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ গড়ে তুলে রাস্তাঘাট, তারাপীঠ ও রামপুরহাটের প্রভূত উন্নতি সাধন করা হয়েছে। এই পর্ষদের অধীন সমস্ত গ্রামে পঞ্চায়েতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা ছাড়াও, এই পর্ষদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা  সত্বেও, দল খারাপ ফল করেছে। রামপুরহাট শহর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ড সংলগ্ন পুরানো বাজারে, আগে কাদায় মানুষের বাজার যেতে খুব অসুবিধা ছিল। গোটা শহরে ভেঙে পড়া পয়প্রণালীর সাথে বাজারের নিকাশি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা হয়।  ছ’ ফুকো এলাকায় জ্যামে স্কুলের পড়ূয়া থেকে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ আঁটকে থাকতে হত। কিন্তু সাংসদ শতাব্দী রায় বহু আগেই সেই সমস্যা সমাধান করেছেন। চাকলা মাঠে সামান্য বৃষ্টিতে প্লাবন হত। অবরুদ্ধ হয়ে যেত গোটা এলাকা। কাঁদর সংস্কারের জন্য মাস্টার প্ল্যান করে সেই সমস্যা মেটানো হয়েছে। তথাপি রামপুরহাট শহরে দুটো ওয়ার্ড ৪ ও ১০ ছাড়া কোন ওয়ার্ডে তৃণমূল জিততে পারে নি। একইভাবে, মুরাররইয়ে উন্নয়ন হলেও, রামপুরহাটে পর্ষদ থাকায় যে সুবিধা পেয়েছে, ওই এলাকা ততটা পায় নি। কিন্তু তারা শাসকদলকে প্রচূর লিড দিয়েছে। এই সমস্ত ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষন করা হয় অঞ্চল সভাপতিদের রিপোর্ট দেখে।  তবে, আগামীতে ফের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে এগোতে চায় দল, বলে জানান কৃষি মন্ত্রী। তিনি জানান, বিজেপি বিভাজন ও মেরু করণের রাজনীতি করে সাময়িক ভাবে সাফল্য পেলেও, মানুষ উন্নয়নকেই বেছে নেবেন। আগামীতে তাঁদের দল শেষ হাসি হাসবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only