বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯

আসুন একসঙ্গে লড়াই করি, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বাম-কংগ্রেসকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

পুরনো ছবি
ওয়ান পয়েন্ট প্রোগ্রাম–বিজেপিকে রুখতেই হবে। তাই অতীত বিরোধিতার কথা ভুলে বাম-কংগ্রেসের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে রুখতে একসঙ্গে লড়াই করার বার্তা দিলেন তিনি। বিজেপি কতটা বিপদজ্জনক দল তার ব্যাখ্যা দিয়ে বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর উদ্দেশে মমতা বলেন, আমাদের একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়া দরকার।’
৩৪ বছরের বাম সরকারের সঙ্গে লড়াই করেই ক্ষমতায় এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বামেরাও দীর্ঘ দু’দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যাকেই আসল রাজনৈতিক শত্রু বলে মনে করে আসছে। অন্যদিকে  সর্ব ভারতীয় ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে লড়লেই এই রাজ্যে কংগ্রেসও তাঁর অন্যতম বিরোধী। খুব বেশী আগে দিন নয়– লোকসভা নির্বাচনের প্রচারেও বিজেপির সঙ্গে বাম-কংগ্রেসকে একাসনে বসিয়ে আক্রমণ করেছেন তৃণমূলনেত্রী। বিজেপি– সিপিএম– কংগ্রেসকে জগাই– মাধাই– বিধাই বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই বাম কংগ্রেসের দিকেই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।’
সোমবার থেকে বিধানসভায় শুরু হয়েছে রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা। এদিন ছিল তার শেষদিন। গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বাম ও কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীকে চেপে ধরার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে এসেছিল। পরিষদীয় রাজনীতিতে পোড়খাওয়া প্রবীন কংগ্রেস নেতা মান্নানের পাশাপাশি সিপিএম নেতা সুজনও এই রাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্তের জন্য সরাসরি মমতাকে দায়ী করেন। কিন্তু মমতা পাল্টা তাঁদের দিকেই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে একটা মাস্টারস্ট্রোক দিলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন– বিজেপি ক্যাপিটালিস্ট– জোতদারদের দল। বিজেপি সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করছে। ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়াচ্ছে। আমার মাঝে মাঝে ভয় হয় কখন সংবিধানটাই ওরা বদলে দেবে।’
এই কথা বলার সময় বামদের তরফে প্রতিবাদ করা হয়। তখন মমতা বলেন– আমি বিজেপিকে বলছি। আপনাদের গায়ে লাগছে কেন?’ এরপরই মান্নান– সুজনের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন– আমাদের একসঙ্গে লড়াই করা উচিত। বিজেপি ছাড়া বাংলার অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি সৎ।’
বাম-কংগ্রেসকে বার্তা দিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন– সিপিএম– কংগ্রেস দেশকে ধ্বংস করবে– আমি বিশ্বাস করি না।’ এই কথা বলার সময় কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী প্রতিবাদ করতে থাকেন। তখন তাঁকে শান্ত হতে বলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন– আরে আপনাদের তো ভালই বলছি। আপনাদের দলকেও তো আমরা দিল্লিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমর্থন দিয়েছি। আপনারা সিপিএম না অন্য কারোর সঙ্গে জোট করবেন সেটা আপনাদের ব্যাপার। কিন্তু বিজেপির বিরুদ্ধে আমরা যে লড়াই করছি সেটা চালিয়ে যেতে হবে।’

যদিও যেভাবে সিপিএম ও কংগ্রেসকে ভাঙানো হয়েছে এদিন সেটা নিয়ে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধতে ছাড়েননি মান্নানও।
বিজেপির উদ্দেশ্যেও এদিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাফ বক্তব্য– ১৮ টা আসন পেয়েছে মানে আমরা পালাব– এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। আমি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ করছি। এই রাজ্য থেকে বিজেপিকে উৎখাত করবই।’
বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু ও রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে উত্তর প্রদেশের মতো এখানেও এনকাউন্টারের কথা বলেছেন এদিন তার তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন– এঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের স্বতপ্রণোদিত হয়ে মামলা করা উচিত ছিল। পুলিশ কেন মামলা করল না?’
বিজেপিকে ভোট দিয়ে মানুষ কী ভুল করেছে তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ভাটপাড়ার পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন– বিজেপি বাংলার কোনও সংস্কূতি জানে না। ওদের ভোট দিলে কী হয় তার প্রমাণ ভাটপাড়া। একটা ভাটপাড়া দেখলেই বোঝা যাবে বিজেপি কি করছে। বাঙালীদের উপর আক্রমণ করছে বিজেপি।’
ফেক নিউজ নিয়েও এদিন কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সব সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন– এখানে মুখ্যসচিব– স্বরাষ্ট্র সচিব– এডিজি ( আইন শৃঙ্খলা ) উপস্থিত আছেন। আপনারা বললেই আমি নির্দেশ দিতে পারি।’ তখন তিনি বলেন– ঠিক আছে। হাউস যখন বলছে তাই আমি নির্দেশ দিিচ্ছ এটা নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার।’
 ভোট পরবর্তী হিংসায় কতজন মারা গেছেন সেটা নিয়ে আগেই বিতর্ক হয়েছে। এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন– ভোট পরবর্তী হিংসায় দশ জনের মৃতু্য হয়েছে। তারমধ্যে ৮ জন তৃণমূল– ২ জন বিজেপি কর্মী।’
রাজ্যের ‘বাংলা’ নামে এখনও ছাড় না দেওয়ার জন্য এদিন কেন্দ্রকে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়– বাংলাকে কেন্দ্র সব সময় দুয়োরাণির মতো দেখে। বাংলা নামে এখনও ছাড়পত্র দেয়নি কেন্দ্র। এখানে সমান্তরাল সরকার চালানো হচ্ছে।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন– বিজেপি বাংলার রাজনীিতকে কলঙ্কিত করছে। বাইরে থেকে হাজার হাজার আরএসএসের লোক এখানে আনা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশে– হরিয়ানা– ঝাড়খন্ডে মানুষকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। আর আমাদের অ্যাডভাইসরি পাঠানো হচ্ছে।’
ইভিএমে প্রোগ্রামিং করা হয়েছিল বলে এদিনও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only