রবিবার, ২৩ জুন, ২০১৯

বেকার তরুণদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে পথিকৃৎ বীরভূমের দুই শিক্ষক



দেবশ্রী মজুমদার, নলহাটি, ২৩ জুনঃ  অবৈতনিক কোচিং সেন্টার ফর কম্পিটিটিভ এক্সাম! তবে ভর্তির একটাই শর্ত। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা পড়তে হবে। ডব্লিউবিসিএস থেকে মিসলেনিয়াস, ক্লার্কশিপ, রেলওয়ে সহ মোট বারোটি ডিপার্টমেন্টের সরকারি চাকুরীর জন্য কোচিং দেন এলাকার দুই শিক্ষক।  প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, আর পাঁচ জনের মত নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকতে পারতেন দুই শিক্ষক। কিন্তু তা তাঁরা করেননি! এই দুজন হলেন- প্রাথমিক শিক্ষক অপূর্ব দাস এবং হাইস্কুল শিক্ষক বিপ্লব নসিপুরী।

জানা গেছে, গত মে মাসে ডব্লিউবিসিএস প্রিলিম ২০১৯ পরীক্ষায় গ্রামের প্রান্তিক চাষি পরিবারের তিনজন যুবক উত্তীর্ণ হন এই দিশা কোচিং সেন্টার থেকেই। নলহাটি থানার ভদ্রপুর পঞ্চায়েতের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা পলু চাষী পরিবারের ছেলে জয়ন্ত মণ্ডল, শীতল গ্রাম পঞ্চায়েতের শীতল গ্রামের প্রান্তিক চাষী পরিবারের ছেলে রাহুল হোড়। যদিও রাহুল হোড় এই কোচিং সেন্টার থেকেই ইনকামট্যাক্স ডিপার্টমেন্টেও কর্মরত। একই রকমভাবে নয়ন মণ্ডল ডব্লিউবিসিএস প্রিলিম পরীক্ষায় পাশ করেছে। তাঁরা তিনজন  বিসিএস পরীক্ষায় এ, সি ও ডি তিনটি গ্রুপের জন্য আবেদন করেছেন। আপাততঃ তাঁদের লক্ষ্য মেন পরীক্ষা ক্র্যাক করা। খুব দুঃস্থ পরিবারের ছেলে নয়ন মণ্ডল নিজেই মাঠে ধান কাটেন। চলতি জুন মাসে প্রকাশিত রেলের এ্যসিট্যান্ট লোকো পাইলট এর মেন পরীক্ষায়  নলহাটি থানার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা অরিন্দম মণ্ডল পাশ করেছে।  ২০১৫ সাল থেকে শীতল গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই দিশা কোচিং সেন্টারের পথ চলা শুরু হলেও, এযাবৎ ৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।       

উল্লেখ্য,  নতুনগ্রামের হাবিবুর রহমান  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, রকি নরসুন্দর জুনিয়র কনস্টেবল পদে কর্মরত, শীতলগ্রামের শুভংকর মণ্ডল সাহাপুর হাইস্কুলের ক্লার্ক, রাহুল হোড় ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের এমটিএস স্টাফ। আবার সম্রাট নরসুন্দর টেরটরি অফিসার ইন্ডিয়ান পোস্টাল পেমেন্ট ব্যাঙ্কে কর্মরত। সেদিক থেকে বীরভুমের দিশা কোচিং সেন্টার আজ কর্মজগতে নতুন পথের দিশারী।    

রবিবার অবৈতনিক দিশা কোচিং সেন্টার এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সাত জন সফল শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিল পুরষ্কার। ২০১৫ সাল থেকে গ্রামের মধ্যে অবস্থিত শীতল গ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিশা কোচিং সেন্টারের পথ চলা। সাধারণত স্কুলের ক্লাস না থাকা কালীন সকালের দিকে সপ্তাহে তিন দিন দু’ঘন্টা কোচিং করানো হয়। মর্নিং স্কুল চালু হলে এই কোচিং বিকেলের দিকে হয়। এই স্কুলেই আছে লাইব্রেরী। যেখান থেকে চাকুরী পরীক্ষা সংক্রান্ত বই গুলি পড়ুয়ারা সংগ্রহ করে থাকেন। এই মহতী কাজের জন্য শুধু প্রাথমিক স্কুল নয়, এই দুই শিক্ষকের বন্ধুরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যাঁদের সাহায্যেই গড়ে উঠেছে এই লাইব্রেরী। সামনের যেকোন পরীক্ষাকে সামনে রেখেই কোচিং দেওয়া হয়ে থাকে। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই চলে কোচিং এবং মাসিক মক টেস্ট।  আসুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্ব দাস ইতিহাসে স্নাতোকত্তোর। তিনি আর্টস ও সায়েন্স গ্রুপটা কোচিং দেন। পাঁচগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক গণিতে স্নাতোকত্তর বিপ্লব নসিপুরী বিজ্ঞান বিভাগে কোচিং দেন। শিক্ষক অপূর্ব দাস ও বিপ্লব নসিপুরী জানান, অযথা সময় নষ্ট করা উচিৎ নয়। নিজেকে তৈরী করার জন্য নির্দিষ্ট লক্ষে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই। কৃষিমন্ত্রী তথা অধ্যাপক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অন্যদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এই দুজন শিক্ষক যে এগিয়ে এসেছেন, এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only