বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯

ধৃতদের মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও

দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ২৭ জুন:- ধৃতদের মুক্তির দাবিতে, থানা ঘেরাও এলাকাবাসীর একাংশের। তাঁদের দাবি,   দুর্নীতিপরায়ন প্রাক্তন প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করতে যাওয়ায় পুলিশ তাদের ধরেছে। পরে বিবেচনার প্রতিশ্রুতি পেয়ে ঘেরাও মুক্ত হয় পুলিশ।

প্রসঙ্গত, কাটমানি আদায়কে কেন্দ্র করে উত্তাল মল্লারপুরের ঝিকড্ডা পঞ্চায়েতের কোট গ্রাম। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য তথা প্রাক্তন প্রধানের স্বামী নাসিমউদ্দিনের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের পালটা দাবি করে, নাসিমুদ্দিনের বাড়ি থেকে বোমাবাজি  করা হয়। গ্রামের একাংশের দাবি, নাসিম উদ্দিনের বাড়ি ঘেরাও হতে পারে এই অনুমান করে বাড়িতেই অস্ত্র ও বোমা মজুত রাখা হয়েছিল।  আর সেই কারণেই দুপক্ষের বোমাবাজিতে কার্যতঃ  রণক্ষেত্রের রূপ নেয় এলাকা। ঘটনার জেরে, পুলিশ নাসিমউদ্দিনের তিন অনুগামীকে গ্রেফতার করে। তার প্রতিবাদেই এই থানা ঘেরাও।  গ্রামের বাসিন্দা জাহান্নারা বিবি জানান, ইন্দিরা আবাস যোজনা প্রকল্পে উপভোক্তাদের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আমরা সেই কাট্মানির টাকা ফেরত চাই। জব কার্ড, ব্যাঙ্কের বই সবা ওর কাছে জমা আছে। গ্রামের তৃণমূল সমর্থক সানোয়ার শেখের দাবি,  ৫৬ জনের ইন্দিরা আবাস যোজনার টাকা আত্মসাৎ করেছে নাসিমউদ্দিন। আত্মসাৎ করেছে গরীব মানুষের একশ দিনের টাকা।    জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন  দুই পক্ষের লোক।  যেমন প্রাক্তন প্রধানের শ্বশুর জাকির শেখ এবং আন্দোলনকারী আব্দুল বারি। মোট আট জনকে ধরেছে পুলিশ।  বুধবার গভীর রাতে এক অপরাধীর বাড়ি চিনিয়ে দেওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করে আব্দুলকে। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে মল্লারপুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের কাজি জহিরুদ্দিনের গোষ্ঠী। থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি তারা মল্লারপুর – সাঁইথিয়া রাস্তা অবরোধ করে। কাজি জহিরুদ্দিন বলেন, “আব্দুল বারিই প্রাক্তন প্রধানের দুর্নীতি প্রকাশ্যে এনেছিল। তিনি বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অথচ পুলিশ তাকেই গ্রেফতার করে নিয়ে গেল। তাই আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম’।  ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭, ৩৫৩ ধারায় মামলা রজু করা হয়েছে। বোমাবাজির জন্য মূল মামলার সাথে তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনের ধারাও যুক্ত হয়েছে।  সরকারি আইনজীবী সৈকত হাটি বলেন, “অতিরিক্ত মুখ্য ভারপ্রাপ্ত দায়রা বিচারক অমিত চক্রবর্তীর এজলাসে তুলে ধৃতদের ১০ দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। আদালত অভিযুক্তদের সাতদিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে”।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only