বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯

ফের চিকিৎসক নিগ্রহ মুরারই গ্রামীন হাসপাতালে, ধৃত তিনের জেল হেফাজত

দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ২৭ জুন ঃ ফের চিকিৎসক নিগ্রহ। অকুতস্থল বীরভূমের মুরারই গ্রামীন হাসপাতাল।  অভিযোগ, প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর চিকিৎসক হাসপাতালের অন্য রোগীকে দেখতে থাকেন। আর  সেই সময় চিকিৎসকের স্টাফ ওই রোগীর শুশ্রুষা করছিলেন। আর তাতেই অসন্তুষ্ট হয়ে রোগীর পরিবার স্টাফদের গালি গালাজ করে এবং চিকিৎসকের কলার চেপে ধরেন।  তিনি কোনরকমে পালিয়ে একটা রুমে ঢুকে  দরজা লাগিয়ে দেন। ঘটনার কথা কর্তব্যরত সিভিক পুলিশরা মুরারই থানাকে জানালে, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে পুলিশ। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীর পরিবার ও আত্মীয় স্বজন মিলে প্রচুর লোকজন রাত ১১টা নাগাদ  হাসপাতালে হয়ে স্টাফ, সিভিক পুলিশ ও কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু জাহের হাইদারির উপর চড়াও হয়।  কোন রকমে ছুটে চিকিৎসকদের কোয়ার্টারে চলে যান। তাঁকে মারধর করা হয়। জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এরপর ওই চিকিৎসক সহ অন্যান্য সহকর্মীরা বিচার না পাওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতির কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর রাত ১টা নাগাদ পুলিশ প্রশাসন ও চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়।  সেখানে  আশ্বাস পেয়ে ফের কাজে যোগদেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও অনান্য সহকর্মীরা। পুলিশ ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলে।  সরকারি আইনজীবী সৌকত হাটি জানান, “অতিরিক্ত মুখ্য ভারপ্রাপ্ত দায়রা বিচারক অমিত চক্রবর্তী তিনজনের ২ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন”। জানা গেছে, ধৃতরা হল পানিয়ারা গ্রামের সফিউদ্দিন শেখ, মুরারইয়ের চাঁদ শেখ ও বাজিতপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭, ৩৩৩, ৩৩২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা সংক্রান্ত নতুন সুরক্ষা আইনি ২০০৯ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে।  

উল্লেখ্য,  বীরভূমের মুরারই থানার মিঞাপুর  গ্রামের মহম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে বুধবার সন্ধ্যায় পেটে ব্যথা নিয়ে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হতে যান। চিকিৎসা ঠিক হচ্ছে না। এই অভিযোগে,  অশান্তি শুরু হয়। রোগীর আত্মীয়রা ছিলেন  অ্যাম্বুলেন্স চালক। তারা হাসপাতাল চত্বরেই ট্রান্সফার রোগী নিয়ে যাওয়া আসা করেন। হাসপাতালে উত্তেজনার খবর পেয়ে প্রায় ৩০ জন অ্যাম্বুলেন্স চালকও রোগীর আত্মীয়রা গিয়ে হাসপাতালে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।  চিকিৎসক আবুজাহের হাইদেরি বলেন, “রোগীর আত্মীয়রা প্রথম থেকেই উত্তেজিত ছিল। আমি বলেছিলাম আগে ভর্তি করুন তারপরেই চিকিৎসা শুরু করা হবে। আমি আমার সহকারিকে দিয়ে ভর্তির জন্য ডেকে পাঠালে ওরা আমার সহকারিকে মারধর শুরু করে। হাসপাতালের কর্তব্যরত সিভিক ভলন্টিয়াররা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ একজনকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর প্রায় ৩০ জন উত্তেজিত জনতা হাসপাতালে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। সিভিক পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করে। তিনজন জখম হয়। আমি কোন রকমে প্রাণে বাঁচি। আমার ফোন পেয়ে পুলিশ এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে”। চিকিৎসকের দাবি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এই ঘটনা চলতে থাকবে। প্রাণের হুমকি নিয়ে চিকিৎসা করা যায় না। রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলা হাসপাতালের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পরমার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “চিকিৎসক নিগ্রহের যে ধারাবাহিকতা চলে আসছে। খুব নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। চিকিৎসক নিজে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার হয়েছে”।  অন্যদিকে, প্রাইভেট এই এ্যাম্বুলেন্স চালক যারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত। তাদের দৌরাত্মে হাসপাতালে সকলে অতিষ্ঠ। মাস তিনেক আগে রোগীকল্যান সমিতি সিদ্ধান্ত নেয় যে হাসপাতাল চত্বরে প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স রাখা যাবে না। কিন্তু তাঁরা এই কথার কর্ণপাত করেনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only