শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৯

কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনীতির জন্যই তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে না, অভিযোগ বিদ্যুৎমন্ত্রীর

পারিজাত মোল্লা , কাটোয়া:- এবার কোন রাজনৈতিক দল নয়, সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে  উন্নয়ন  নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ তুললেন বিদ্যুৎমন্ত্রী  শোভনদেব চট্টপাধ্যায়। আজ অর্থাৎ  শুক্রবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমান  জেলার কাটোয়া সংলগ্ন দাঁইহাট পুর এলাকার হাউসিং দাস পাড়ায়  ৩৩/১১ কেবি ক্ষমতাসম্পর্ণ বিদ্যুৎ এর  সাবস্টেশন উদঘাটনে  এসে এই অভিযোগ তুলেন। বিদ্যুৎ মন্ত্রীর পাশাপাশি  স্থানীয়  বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টপাধ্যায়, দাঁইহাট  পুর চেয়ারম্যান  শিশির মন্ডল প্রমুখ ছিলেন। মন্ত্রী  বলেন - কেন্দ্রীয়  সরকারের রাজনীতির জন্যই কাটোয়ার শ্রীখণ্ড এলাকায় তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। উন্নয়ন নিয়ে সদিচ্ছার  অভাব রয়েছে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে। ইতিমধ্যেই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার সংস্থা এনটিপিসি তাদের বড় অফিসারদের  এখান থেকে বদলী করিয়েছে। কবে এই প্রকল্পে গতি আসবে তা রাজ্য সরকারের কাছেও অজানা বলে মন্ত্রী  জানান। দেশের মধ্যে বেশকিছু রাজ্যের মত এই রাজ্যে বিদ্যুৎ এর দাম বেশি প্রকান্তরে মেনে নিলেও কবে থেকে দাম কমবে তার নিশ্চয়তা তিনি দেননি। তবে বিদ্যুৎ এর দাম  কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন। উল্লেখ্য  বিগত বাম জমানায় ২০০৬ সালে তৎকালীন বিদ্যুৎ মন্ত্রী  নিরুপম সেনের উদ্যোগে  কাটোয়া শহর সংলগ্ন  শ্রীখণ্ড গ্রামে দুটি মেগা ইউনিটের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প করার ঘোষণা করা হয়। প্রায় ১২০০ একর জমির উপর দুটি ইউনিট গড়ার প্রস্তাবনা রাখা হয় সেখানে ।২০০৭-০৮ বর্ষে প্রথম  পর্যায়ে ৫৫৬ একর জমি অধিগৃহীত হয় কোন বাধা ছাড়ায়। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়  পর্যায়ে  জমি অধিগ্রহণ শুরু করতে গেলে জমি আন্দ্রোলনে নামে তৃণমূল ও এসইউসি দল। ২০১১ সালের বিধানসভার  ভোট নিয়ে  বাম সরকার শ্রীখন্ডে জমি অধিগ্রহণ বিষয়ে ধীরে চলো নীতি নেয়। সেবারের ভোটে পালা বদল হলে তৃণমূল সরকার আগ্রহী হয় তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প  গড়তে। নির্মাণ কারী সংস্থা রাজ্যের পিসিডিএল এর কাছ থেকে জমির মালিকানা স্বত্ব কেন্দ্রের এনটিপিসি কে  দেওয়া হয়। এমনকি ১০০ একর খাস জমি রাজ্যসরকারের তরফে এনটিপিসি কে দেওয়া হয়। এনটিপিসিও জোর কদমে নামে। তারা কাটোয়া বর্ধমান  ন্যারোগেজ রেল আধুনিকরণে ১২০ কোটি টাকা দেয়। আশেপাশে রাস্তা উন্নয়ন, বিদ্যালয়গুলিতে উন্নত শৌচাগার  ব্যবস্থা সহ স্থানীয় পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়।  দ্বিতীয়  পর্যায়ে ২০১২ সালে জমি অধিগ্রহণ করতে গেলে জমির দাম নিয়ে চাষীদের মতবিরোধ  উঠে আসে। সেইসাথে ইমারতি দ্রবের সিন্ডিকেট  নিয়ে বোমাবাজিও হয় এই শ্রীখণ্ড তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প অফিসের সামনে। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে রাজ্য বিদ্যুৎ মন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনীতির অভিযোগ তুললেন তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প না হওয়ার কারনে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only